Wednesday, April 23, 2014

একটি ওয়েবসাইট, একজন মিঠুন চাকমা ও বিপ্লব রহমানের ফেসবুক কমেন্ট

টিনটিন নামে এক যুবককে গত ১৪ এপ্রিল খাগড়াছড়ি-রাঙামাটির সীমান্তবর্তী এলাকা কেঙেলছড়ি থেকে ‘অপহরণ’ করা হয় বলে জানা যায়। তার সাথে নভজ্যোতি চাকমা নামে আরো একজন ছিলো। দীর্ঘ ৫ দিন পরে ১৮ এপ্রিল তারা মুক্তি পান বলে জানা যায়।

এই অপহরণ ঘটনা ও তাদের মুক্তি নিয়ে সিএইচটি২৪.কম নামে একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক নিউজ ওয়েবসাইট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো –

টিনটিন অপহরণ ঘটনা কি তবে সাজানো নাটক!?
প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলে পাঠকদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি হয় বলেই মনেহয়। এক পর্যায়ে একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক মি. বিপ্লব রহমান নিজস্ব একাউন্টে স্ট্যাটাস অথবা নোট আকারে উক্ত প্রতিবেদনের একটি সমালোচনা অথবা নিন্দামূলক মতামত প্রকাশ করেন। উক্ত লেখায় আমার নাম উঠে আসে।তিনি লেখেন-

প্রথমেই দেখা যাক, এই সিএইচটি টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর আদ্যপান্ত। এটি শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ-এর একটি মুখপত্র, দলের কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমা এর পরিচালক। এ দিক থেকে বিচার করলে এই নিউজ পোর্টালটি মোটেই সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধার-ধারে না এবং দলীয় স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।


অর্থাৎ তার লেখার প্রথমেই তিনি টিনটিন অপহরণ ঘটনা বা নাটক বিষয়ে কথা না বলে যে অনুসিদ্ধান্তের দিকে বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন তা হচ্ছে সিএইচটি২৪.কম নামে জনপ্রিয় একটি পার্বত্য চট্টগ্রাম ভিত্তিক অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইটের নিন্দামন্দ করা বা ছলে বলে  ও কৌশলে এই ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা ও বস্তুনিষ্ঠতার উপর  কালিমা লেপন করা

এবং তার এই প্রথম অনুসিদ্ধান্ত বিষয়ে যে কেউ অবগত হয়ে তার লেখার ‘আদ্যপান্ত’ যদি পড়েন তবে বুঝতে পারবেন তিনি যতটা না টিনটিন অপহরণ ঘটনা নিয়ে বলতে চেয়েছেন তার চেয়ে বেশি যা করতে চেয়েছেন তা হলো

০১. সিএইচটি২৪.কম এর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছন।

০২. তিনি পাহাড়ের রাজনৈতিক দল ইউপিডিএফএর জনগ্রহণযোগ্য কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন। [ বিপ্লব রহমান লিখেছেন- এছাড়া ইউপিডিএফ সম্প্রতি পার্বত্য ড্যাব ব্যাটেলিয়ান-এর বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছে।]

আমি বুঝি না তিনি নিজে সচেতনভাবে তার উপরের মন্তব্য করেছেন নাকি সুচতুরতার আশ্রয় নিয়ে উক্ত বাক্য রচনা করেছেন! এখানে বলা প্রয়োজন যে, ইউপিডেএফ সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা ও প্রমাণ প্রদর্শন করেই পার্বত্য চট্টগ্রামে র‌্যাবের পাহাড়ি ব্যাটালিয়ন মোতায়েনেরে বিরোধিতা করছে। অথচ, মি. বিপ্লব রহমান এই সকল ‘যুক্তি’ ‘প্রমাণ’কে কেয়ার না করে বা কেন ইউপিডিএফ পার্বত্য চট্টগ্রামে র‌্যাব মোতায়েনের বিরোধীতা করে সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে এক কলমের খোচায় লিখলেন- ইউপিডিএফ সম্প্রতি পার্বত্য ড্যাব ব্যাটেলিয়ান-এর বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছে
তিনি এটাও লিখেননি যে- ইউডিডিএফ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন স্থাপনের বিরোধিতা করছে।

এভাবে সরাসরি র‌্যাবের বিরুদ্ধে কথাবার্তা ইউপিডিএফ বলছে এই কথার মানে কি তবে এটা দাড়ায় যে, তিনি, মি. বিপ্লব রহমান তার লেখার শেষে জুম্ম জাতির মুক্তির সংগ্রামের বিজয় চাইলেও আদতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ’পার্বত্য জুম্ম দরদি’ সাংবাদিক পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘র‌্যাব ব্যাটালিয়ন’ স্থাপনের বিরোধিতা করেন না! অর্থাৎ আড়েঠারে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে র‌্যাবের পাহাড়ি ব্যাটালিয়ন স্থাপন করার পক্ষে!

এবং এই সমর্থনকে তিনি আর লুকোতে চান না!



০৩. তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী ও তার আদর্শকে অপবাদ দেয়ার প্রচেষ্টা নিয়েছেন।

এবার সিএইচটি২৪.কম বিষয়ে

এই ওয়েবসাইট কে বা কারা পিরিচালনা করে তা ওয়েবসেইটের কোথাও উল্লেখ নেই। হয়তো পার্বত্য চট্টগ্রামে রাষ্ট্রীয় দমনিপীড়ন তিব্র বলেই এই ওয়েবসাইটের পরিচালকগণ নিজেদের পরিচয় প্রদান করতে আগ্রহি নন অথবা এটাও হতে পারে যে, ওয়েবসা্ইট যে বা যিনি বা যারা পরিচালনা করেন তিনি বা তারা তাদের পরিচয় আনু্ষ্ঠানিকভাবে দিতে এত আগ্রহি নন।

কিন্তু মি. বিপ্লব রহমান বোধহয় চাঙমা ডাগঅ কধায়  ‘ঝাড় মুগুরেনেই বাঘ ধাবানা’ কৌশল প্রয়োগ করে সিএইচটি২৪.কম এর সম্পাদক বা কর্মকর্তাদের জনসম্মেখে পরিচিয় করিয়ে দিতে বিশেষ মিশনে নেমেছেন!

তিনি মিঠুন চাকমাকে সিএইচটি২৪.কম এর পরিচালক হিসেবে পরিচিতি দিতে চেষ্টা করেছেন এবং একইসাথে বলেছেন ‘এটি শান্তিচুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ-এর একটি মুখপত্র’।

এখানে বলে রাখি, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভ্রাতৃঘাতি হানাহানি ও রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন যে অবস্থায় এসে ঠেকেছে তা যদি না থাকতো অথবা এই মিঠুন চাকমা যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের অধিকারের জন্য পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নিতো সেজন্য  সিএইচটি২৪.কম এর মতো একটি জনপ্রিয় নিউজসাইটের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব মিঠুন চাকমা গর্ব ভরেই পালন  করতো! এবং সকল শক্তি ও সৃজনশীলতা প্রয়োগ করে তা পরিচালনা করতো!

এবার আসি সিএইচটি২৪.কম টিনটিন অপহরণ ঘটনা নিয়ে কী মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে!

সিএইচটি২৪.কম প্রতিবেদনের শেষ দিকে লিখেছে-

পাহাড়ের সচেতন  মহল  এই অপহরণ ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে যে আখ্যা প্রদান করছেন তাতে আদতে হঠাৎ করে বৈসাবি উৎসবের দিন সংঘটিত এই ‘অপহরণ ঘটনা’ নিয়ে প্রশ্ন সন্দেহ থেকে গেল মনে হচ্ছে।

অনেকের মতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা উপস্থিতিকে বৈধতা দেয়া ও র‌্যাব নামক বিশেষ বাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রামে মোতায়েনের উদ্দেশ্য নিয়েই এই ‘অপহরণ নাটক’ সাজানো বা মঞ্চস্থ করা হয়েছে ।

যে কারণেই অপহরণ ঘটনা বা অপহরণ নাটক সংঘটিত হোক না কেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষিতে এই ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই সচেতন মহল মনে করছেন।

উপরের লেখায় সিএইচটি২৪.কম টিনটিন অপহরণ ঘটনা নিয়ে নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান করেনি। বরং শুধুমাত্র ফেসবুকের বিভিন্ন জনের মতামত তুলে ধরেছে মাত্র। কিন্তু তারপরেও কেন মি. বিপ্লব রহমান প্রতিবেদনের শিরোনামকে সিএইচটি২৪.কম-এর স্ট্যান্ড হিসেবে ধরে নিলেন তার কারণ আমার চোখে বোধগম্য কারেণেই বোঝার অতীত বলেই মনেহচ্ছে!

টিনটিন অপহরণ ঘটনা বা ‘নাটক’ বিষয়ে…

বাকি অংশ পরে যোগ করার আশা করছি। আপাতত বিদ্যুৎ না খাকায় লেখাতে ইস্তফা দিলাম…(লেখাটি ২২ এপ্রিল লিখিত)

Monday, April 21, 2014

ইআন কি জাত ভালেদি কাম-ইআন কি এগ্গান দোল কাম!? মিলেবোর নাঙঅর শেজ ওক্কোরবো অহলদে ‘ত



তারিক: ২১ এপ্রিল, ২০১৪

ত্যা দিএক মাহজ আগে চাদিগাঙঅত থাদে সলাত তারে এগগো নাকলাম্বা মরদে ভুলেনেই মোক বানেইএ। মিলেবো মোনো স্যারে আদামঅত্তুন চাদিগাঙঅত লেঘাপড়া গুরিবার জিএ। মিলেবো বয়জ এবঅ ১৬ বজর অহবঅ। নাকলাম্বাইয়ে হিলচাদিগাঙঅত এলঅ। তা ঘর চাগিগাঙঅত কনঅ এক জাগাত।
কয়েকদিন আগে নাকলাম্বাইয়ে হিলঅত কনঅ এক জাগাত বেড়াদে সলাত তারে কয়েগগো জুম্ম গাবুজ্জে ধুজ্জোন। নাকলাম্বাইয়ে মা-বাবঅরে হবর দিআ উইয়ে। জানেই দিআ উইয়ে, জুম্ম মিলেবোরে হিলঅত পাদেই দিআ পুরিবঅ। তারা শেজ অক্কর ’ত’ নাঙে জুম্ম মিলেবোরে হিলঅত তা মা-বাবঅ সিদু পাদেই দিলাক।
নাকলাম্বাইয়ে মানে সম্মানে সারা পেলঅ।
সমাজঅ মিলেউনে মিলেবোরে পেইনেই পোল্লেম তা ‘শাড়ি’আন হুলিবার কলাক। তারে পিনোন-হাদি পিনিবার কলাক।
তারপর তারে নানাকধা শোনেই দিআ অহলঅ। জাদর মানসম্মান মিলেউনোরই রক্কা গরা পরে, মিলেউনে নিজঅ জাদঅর মান ন রাঘেলে কন্না রাগেবঅ ইত্যাদি নানা কধাবাত্তা কোআ অহল। ত্যা অয়লবঅ পোরেল।
ত্যা তা অঙ্গীকারনামা লিঘিলঅ- ’মুই চাঙমা জাদর মান মর্যাদা রাগেম, জাদঅর রিদি সুদোম পালেম’
কিত্তেআন থুম অহলঅ বা শুরু অহল।