Sunday, July 27, 2014

সাজেক আপডেট: সাজেকের প্রশাসনের কেউই ঈদের ছুটি পায়নি


তারিখ: ২৮ জুলাই, ২০১৪

সকাল ৬.০৫ টা

সকলকে শুভ সকালের চেতনাময় স্নিগ্ধ শূভেচ্ছা!

আজ সোমবার। সাজেকের উজো বাজারের সাপ্তাহিক বাজারবার। উজো বাজারের কয়েক কিলোমিটার দূরত্বের পাহাড়ি গ্রাম থেকে পাহাড়ি নারী পুরুষ তাদের উৎপাদিত জিনিসপত্র ফল ফলাদি, ছাগল গরু মোরগ ইত্যাদি হাতে করে বাজারে নিয়ে আসে দুএকটি টাকা উপার্জন করার জন্য। উজো বাজারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মাত্র দুই বছর হলো। এরআগে বাঘাইহাট বাজারে তারা যেত। কিন্তু ২০০৭-২০০৮-২০১০ সালের সাম্প্রদায়িক হামলাকান্ডের পর সেই বাজারে পাহাড়িরা আর যায় না। তারা একত্রিত হয়ে বসিয়েছে উজো বাজার নামে নতুন বাজার। আজও নিশ্চয় বাজারে বিক্রেতারা আসবেন, আসবেন বেনিয়া ব্যবসায়ীরা।

শান্তিপূর্ণ থাকবে আজকের বাজারবার সবার কামনা এটাই!


তারা মামলা দিয়ে জেরবার হয়রানী করতে চেয়েছিল

তারা মানে, জুম্ম জনগণকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল, তারা মামলা দিয়ে জেরবার হয়রানী করে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল। সেজন্য তারা একই সাথে মাত্র দুয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উজো বাজারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গ্রামের কার্বারীকে সতকীকরণ নোটিশ জারি করেছিল।

তাতে তারা মানে জবরদখলবাজদের চাকুরেরা লিখেছিল- “আপনাকে এই মর্মে নোটিশ প্রদান করা যাইতেছে যে, নিম্নে বর্ণিত তপসীল ভূক্ত জায়গায় আপনি ঘর বাড়ী বাগান চাষাবাদ করার পায়তারা করিতেছেন। নোটিশ প্রাপ্তির পর হইতে আপনী ঐ সমস্ত কাজ থেকে বিরতি থাকিবেন। এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকিবেন। এই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। নোটিশ প্রাপ্তির পর থেকে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য বলা গেল।”

বাঘাইহাটের রিজার্ভ ফরেস্টের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দিন চিঠি দিয়েছিল ১৯ জুলাই, ২০১৪ ইং তারিখে আর বাঘাইছড়ি পুলিশ থানার অফিসার ইনচার্জ চিঠি দিয়েছিল ২২ জুলাই, ২০১৪। অর্থাৎ, তাদের যুগপৎভাবে একই উদ্দেশ্য ছিলো! তাদের উদ্দেশ্য ছিলো, শুধু ‘বুদ্ধমুর্তি’ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া নয়, তাদের পেছনের উদ্দেশ্যছিলো জুম্ম জনগণকে উজো বাজার ও তার আশপাশ থেকে উচ্ধে করা।

 ‘আইন’এর ভয় দেখিয়ে ’আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল’ থাকার ওজর দেখিয়ে তাারা এই কাজ করতে ছেয়েছে। কিন্তু এতবছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার জুম্মজনতাকে তাদের নিজ বাস্তুভিটা থেকে ‘কোন আইন’এর ভিত্তিতে তারা উচ্ছেদ করেছে তার কথা তারা চেপে যায়!

দখলবাজ জবরদখলকারীদের প্রতি ঘোষনা! সাজেকবাসী ভুমিচ্যুত হতে হতে এমনিতেই জেরবার! সুতরাং তাদের জেরবার করার চেষ্টা মাঠে মারা যাবার সম্ভাবনা বেশি!

#সাজেক #সাজেক #সাজেক #সাজেক আপডেট !


বেড়ায় টাঙিয়ে রাখা বুদ্ধমূর্তির ছবি তারা ছুড়ে দিয়েছিল

গতকাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা জানালেন, ২৪ তারিখের দিকে তিনি উজোা বাজরের দিকে যাচ্ছিলেন। এই সময় একটি আর্মি গাড়ি উজো বাজারের যেখানে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করার কথা সেখানে এসে তারা থামলো। সেখানে বেড়ার ফাকে একটি বুদ্ধমূর্তি টাঙিয়ে রেখেছছিল আন্দোলনকারীরা। এক আর্মি সেই ছবি বেড়া থেকে খূলে নিয়ে তা মুচড়ে ফেলে দিলো পিচঢালা পথে। ‘জুম্ম’ সিদেসাধা মহিলা চেয়ে থাকলেন সেই ঘটনা। আর্মিরাও তাকে দেখে থাকলো। এরপর তারা চলে যাবার সময় তিনি তা পথ থেকে তুলে নিয়ে সম্মান ও শ্রদ্ধাবনত হয়ে তা আগের জায়গায় তুলে রাখলেন। আর্মিরা তাকে দেখে চলে গেল।

আর্মি পুলিশ প্রশাসনের কেউই ঈদের আনন্দ ছুটি ভোগ করতে পারেনি

কাল জানতে পারলা্ম, সাজেকে যেসকল আর্মি ও পুলিশ চাকুরি করছে তাদের কেউই ঈদের ছুটি পায়নি। তারা বড় সাধ করে তাদের নিজের বাড়িতে ঈদ করার জন্য সাজেক থেকে আনারস-কাঠালসহ নানা ফলফলাদি কিনেছিল। কিন্তু তা পচে গিয়েছে!
আত্মীয় পরিজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে না পারায় তারা যেমন নিরানন্দে আছে তেমনি তারা ক্ষুব্ধ ক্রোধান্বিতও। কিন্তু এই বেদনার কথা তারা কাকে বলবে?

রাষ্ট্রযন্ত্র তো তাদের ’কেনা পালেয়ায়ান’ ‘পাহাড়াদার’ চৌকিদার ব্যতিত কিছুই মনে করে না!

সবাই ভালো থাকবেন।

চরিত্র নিয়ে কিছু কথা!

তারিখ: ২৭ জুলাই, ২০১৪

আজ চরিত্র নিয়ে কিছু কথা লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে যেখানে বলা হয়েছে- সম্পত্তি হারিয়ে গেলে কিছুই হারিয়ে যায় না, স্বাস্থ্যের হানি ঘটলে কিছুটা হারানো বোঝায়; কিন্তু যখন চরিত্র নষ্ট হয় বা হারিয়ে যায়, তখন সবকিছুই হারিয়ে গেল।

When wealth is lost, nothing is lost; when health is lost, something is lost; when character is lost, all is lost.

উদ্ধৃতিসূত্র: ব্রেইনিকুওটস ওরেয়বসাইট  
 এখন আসলে চরিত্র বলতে কী বোঝায়? 
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একসময়ের প্রেসিডেন্ট এর চরিত্র বিষয়ক একটি উদ্ধৃতি এখানে কপিপেস্ট করছি- 
"Character is like a tree and reputation like its shadow. The shadow is what we think of it; the tree is the real thing."

আব্রাহাম লিংকন চরিত্র বা ইংরেজি ভাষায় কারেক্টারকে একটি গাছের সাথে তুলনা করেছেন, একটি সাথে গাছের ছায়াকে তুলনা করেছেন চরিত্রের কারণে একজন ব্যক্তি জনমানুষের বা তার পাশের জনের কাছ থেকে যে সম্মান-অপমান-মর্যাদা বা মান অর্জন করেন তার সাথে।
অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্য যত পরিমাণে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন-গুণসম্পন্ন-সুদৃঢ-মানবিকতাবোধ সম্পন্ন-অকপট হবে তার মান-মর্যাদা-সম্মান তত বাড়বে বা ডালপালা-পাতাময় সেই গাছের ছায়া ততো বিস্তৃত হবে। 

চরিত্র বলতে আসলে কী বোঝায় তা এই উদাহরণের মাধ্যমে কিছু বোঝা গেলেও এই সংজ্ঞা কিন্তু ব্যবহারিক দিক থেকেই বেশি বোধগম্য বা কিছুটা প্রতীকী সংজ্ঞা হিসেবে এই উদাহরণকে ধরা যেতে পারে।

সচ্চরিত্র ভার্সাস দুশ্চরিত্র
চরিত্র অর্থে বাংলা ভাষায় সাধারণত ‘সচ্চরিত্র’ বা ’সৎ চরিত্র’ ও ‘ অসচ্চরিত্র’ বা ‘অসৎ চরিত্র’ ’দুশ্চরিত্র’ এই শব্দবন্ধই বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সংজ্ঞাগতভাবে এই দুই বৈশিষ্ট্যকে পৃথক করা খুবই সহজ মনে হলেও কিন্তু বাস্তবে ’সচ্চরিত্র’ বা ’দুশ্চরিত্র’ এই দুই চারিত্র্য বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি বা ব্যক্তিত্বকে  পৃথক করা অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ বলেই বোধ হয়! 
 এবং অনেক ক্ষেত্রে তা নানা বাদানুবাদ ও বিতর্ককে উস্কে দেয়। 
কারোর কাছে একজন খুবই সচ্চরিত্রের ব্যক্তি আবার সেই ব্যক্তিই কিন্তু আরেকজনের কাছে তার বিপরীত চারিত্র্য বৈশিষ্ট্যে র অধিকারী হিসেবে ধরা দেয়াও বিচিত্র নয়! বিশেষ করে পুজির বা অর্থের বা ক্ষমতার আধিপত্যেরি এই যুগে এই বৈপরীত্য যেন সাধারন ব্যাপার!
কোনো সামাজিক ব্যক্তিত্ব সমাজের চোখে সুদৃঢ চরিত্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হিসেবে হয়তো পরিচিত! কিন্তু হয়তো তিনি তার  ব্যবসাসূত্রে চাকুরিসূত্রে হয়তো একাধারে ঘুষ বাণিজ্যের ধারক বাহক অথবা কারো অর্থকড়ি তছরুপ করার হোতা হিসেবে পরিচিতও হতে পারেন! এভাবে সমাজে ’চরিত্রের’ বৈপরীত্য  যেন স্বাভাবিক ব্যাপার! 
এমন ধরণের উদাহরণ সমাজে অনেক দেখা যায়! 
রবিনহুড। তিনি সমসাময়িক সামন্তীয় শাসকদের চোখে পরিচিত ছিলেন ‘ডাকাত’ হিসেবে। কিন্তু তৎকালীন সাধারণ জনতার কাছে তিনি উদ্ধারকর্তা বা ত্রাণকর্তা হিসেবেই তো পরিচিতি পেয়েছিলেন!

সুতরাং, ব্যক্তি বা মানুষের চরিত্রকে দুইভাগে ভাগ করে সাধারণীকরণ করা সহজ কিন্তু বাস্তবে তার নানা বৈপরীত্যই যেন স্বাভাবিক! 

চরিত্রের মান নির্ধারণের নিয়ামক বিষয়
চরিত্রের মান নির্ধারণের নিয়ামক বিষয় হিসেবে আমাদের সমাজে সাধারণত ‘সৎভাবে চলা’কে বোঝায়! এর মানে বোঝায় তিনি চুরি করেন না, ঘুষ নেন না, তিনি কাউকে ঠকান না ইত্যাদি। অথবা, অনেকক্ষেত্রে বিশেষভাবে ‘তার চরিত্র ঠিক নেই’ বলতে বোঝায় সেই ’পুুরুষ’ বা ‘নারী’অন্য বিপরীত লিংগের সাথে ‘অবৈধ’ মেলামেশা বা সম্পর্ক নেই ।
কিন্তু এই নিয়ামক বা পয়েন্টসমূহের মাধ্যমেেই কি শুধু চরিত্র নির্ধারণ করা হয়ে থাকে! 
আমাদের দেশে বা আমাদের সমাজে এই বৈশিষ্ট্য সমূহের ঘাটতি অর্থেই ‘দুশ্চরিত্র’ ব্যক্তি হিসেবে সেই ব্যক্তিকে বোঝানো হয়। কিন্তু অন্য দেশে বা সমাজে ক্ষেত্রে হয়তো তার মানদন্ড আলাদা! 

চরিত্রের মান কী দিয়ে নির্ধারণ করা যায়?

উপরের নিয়ামক বিষয়সমূহ চরিত্রের মান নির্ধারণে নিয়ামক হিসেবে বলা হলেও ব্যক্তিগতভাবে আমার মতে‘চরিত্র’র মান হিসেবে তার দৃঢতাবোধ-মানবিকতাবোধ-অকপটতা-কথায় কাজে মিল থাকা-দায়িত্ব কর্তব্যবোধ ইত্যাদি গুণাবলী বা মানকে বিবেচনায় নিয়ে পরিমাপ করা নিতান্ত প্রয়োজনীয়।
শুধুমাত্র ‘সততা’ অথবা বা এবং ‘অবৈধ মেলামেশা’ এই মানদন্ড নিয়ে ‘চরিত্র বিচার’ করলে বোধকরি আমরা গতানুগতিক একই পাকে বা পঙ্কে নিমজ্জিত থাকার সদিচ্ছাই প্রকাশ করবো!