Sunday, August 10, 2014

স্ট্যাটাস ব্যক্তিগত !

#

তারিখ: ১০ আগস্ট, ২০১৪

রাত ১০.০০টা


আমি উপভোগ করি আমার দায়িত্ব ও কাজকে। আমি চেষ্টা করি দায়িত্ব ও কাজকে সঠিকভাবে করতে। মনেপ্রাণে বাস্তব কাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে চেষ্টা করি। এর্বং এই দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ কোনো ব্যক্তিক স্বার্থ চেতনাকে প্রশ্রয় না দিয়েই তা করার চেষ্টা করি। তবে এটা বলা যায় যে, কাজের মধ্যে ভুলচুক থাকা স্বাভাবিক। তবে চেতনে বা চেয়েশুনে ভুল করা থেকে বিরত থাকাতেই সবসময় চিন্তা ও দৃষ্টি থাকে এটা বলা যায়।


যে কাজ করছি...

যে কাজ করছি তা জনগণের সাথে, পার্বত্য চট্টগ্রমের জনগণের সাথে সম্পৃক্ত। বাস্তব কাজে, বাস্তবে জনগণের সাথে আছি, এই আনন্দবোধ যেমন সারাক্ষণ মনকে চাঙ্গা করে রাখে, তেমনি জনতার সাথে থাকতে থাকতে নানা কিছু দেখার জানার অভিজ্ঞতা অর্জনেরও সুযোগ থাকে নিশ্চয়!

আমি মফস্বল শহরে বড় হওয়া এক ....

জীবনের প্রথম বাক কেটেছে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মফস্বলে আধাগ্রাম আধা শহর ধাচের এক জায়গায়। কখন যে সময় পেরিয়ে রাজনৈতিক জীবনেে এসেছি তা বুঝতেই পারিনি! এবং এতে দেখতে দেখতে কেটে গেল দশক-যুগ!

গ্রামের ‘ভিলেজ পলিটিক্স’-এর এক অনভিজ্ঞ মানুষ আমি!


গ্রামে যারা থাকে তারা জানেন, না জানলে অনুভব করেন, ভিলেজ পলিটিক্স কাকে বলে বা কতো প্রকার! আমি সেই ‘ভিলেজ পলিটিক্স-এর ’অ আ ক খ’ না জানা এক মানুষ। এখন যখন, দায়িত্ব ও কর্তব্যের কারণে সেই ‘ভিলেজ পলিটিক্স’র দেখা পাচ্ছি, এবং তার  ’একই অঙ্গে এত রূপ’ দেখতে পাচ্ছি, তখন একদিকে শিহরিত হচ্ছি(!) নুতন কিছু দেখে, অভিজ্ঞতার ঝুলিতে নতুন কিছু ভরাতে পেরে আমোদিত, বিম্বিত হচ্ছি নিশ্চয়ই আরো আরো অনেক বেশি!


ভিলেজ পলিটিক্স কী এবং কী ধরণের?
এই ভিলেজ পলিটিক্স-এর পাকে পঙ্কে ডুবে ছিল জেএসএস অথবা জেএসএস এর লড়াইয়ে ভিলেজ পলিটিক্স নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে ছিল বৈকি! স্থানীয় নানা ধরণের কাজের সময় বা দৈনন্দিন নানা কার্যক্রমের সময় ভিলেজ পলিটিক্স নিশ্চয়ই নানাভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল জেএসএস শসস্ত্র লড়াইকালীয় রোমাঞ্চিত যুগে!

ভিলেজ পলিটিক্স কী ও কেমন তা বোঝানোর সাধ্য কি আমার রয়েছে!

শুধু বলা যায়, ভিলেজ পলিটিক্স হলো সুক্ষ কারিবিদ্যা যা ব্যবহার করা হয়, গ্রামে প্রভাব বিস্তারের জন্য, অন্যকে বা শত্রু বা বিরোধী পক্ষকে কাবু করার জন্যও তা ব্যবহৃত হয়।

 এতে সংগঠনকে বা সংগঠনের নেতৃত্বকে সুকৌশলে ব্যবহার করা হয় যেন ঐ দায়িত্ববান ব্যক্তিও জানতে না পারেন যে তিনি ব্যবহৃত হচ্ছেন!

গ্রামের নেতৃত্ব এই ভিলেজ পলিটিক্স ক্ষমতাকে পোক্ত কর তে ব্যবহার করতে পারেন, জমিজিরাত দখল করতে, কোনো বিচার বা শালিশকে নিজের পক্ষে আনার জন্যও এর ব্যবহার রয়েছে। সংক্ষেপে এমন কী নেই যাতে ভিলেজ পলিটিক্স ব্যবহার করা হয় না!

এমনকি অন্য গ্রামের সাথে সংঘর্ষেও তার ব্যবহার রয়েছে! নির্বাচনে বিজয়ী হতেও তার ব্যবহার রয়েছে।

এই ভিলেজ পলিটিক্স এর কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক লড়াই সংগ্রাম যে কতো ধারা উপধারায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রভাবগ্রস্ত শাপগ্রস্ত হয়েছে তার ইয়ত্তা তো দেবার সাধ্য নেই!

এই ভিলেজ পলিটিক্স ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতকেও প্রলম্বিত করছে
নানাভাবে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতকে প্রলম্বিত করছে এই ভিলেজ পলিটিক্স বা পলিট্রিক্স।

সংক্ষেপে এ্টাই আমার আজকের স্ট্যাটাস।
 সকল শুভাকাংখী স্নেহাস্পদ শ্রদ্ধাস্পদ অন্তর্জাল বন্ধুদের প্রতি আহ্বান, ভিলেজ পলিটিক্সের ফাদে পা দেবেন না!
সামগ্রিকভাবে সমাজের অকল্যান সাধন হয় এমন কোনো কিছুতে নিজেকে জড়াবেন না! বা ভিলেজ পলিটিক্সের পঙ্কিলে ডুববেন না!

বলে রাখি ভিলেজ পলিটিক্সকে বাস্তব কাজের মাধ্যমে মোকাবেলা করে ইতিবাচক

Wednesday, August 6, 2014

প্রসংগ সম্প্রচার নীতিমালা: সবাই সমান, কিন্তু কেউ কেউ অারো বেশি সমান!

বেতার ও টেলিভিশনের সম্প্রচার নীতিমালা বাংলাদেশ সরকার মন্ত্রীসভার গত ০৪ আগস্ট সোমবারের বৈঠকে খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। প্রচার মাধ্যমে খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন দিক প্রচারিত হলে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ ও সচেতন জনসাধারণ এ নিয়ে নানা বক্তব্য ও সমালোচনা প্রদান করেছেন। এমনকি সম্প্রচার নীতিমালার খসড়া ঢাকায় পুড়িয়ে ফেলে সাংবাদিকদের দু’টি সংগঠন এই নীতিমালা না মানার ঘোষনা দিয়েছে বলে ইন্টারনেট মিডিয়ার মাধ্যমে জানা গেল।

সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে এত বিতর্ক সমালোচনা কেন শুরু হলো?

সম্প্রচার নীতিমালায় থাকা বক্তব্য বা বিষয়বস্তুই এই বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে বলা যায়।

এতে থাকা যে সকল বিষয় বিতর্কের জন্ম নিয়েছে তা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

০১. সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না।

০২. অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতো দৃশ্য বা বক্তব্যও প্রচার করা যাবে না।

০৩. জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রচার করা যাবে না।

০৪. রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন সামরিক, বেসামরিক বা সরকারি তথ্য প্রচার করা যাবে না।

০৫. নীতিমালায় আরও বলা হয়, কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠী, দেশের মর্যাদা বা ইতিহাসের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনোকিছু, বিদেশি রাষ্ট্রের অনুকূলে যায় এমন কিছু প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না।

০৬. টক শোতে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন না করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়।

০৭. সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়ে ক্ষতিকর কোনোকিছু প্রচার বা প্রকাশ না করার কথা বলা হয়।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথমআলো

এই বিষয়বস্তুর দিকে খেয়াল রাখলে জর্জ অরেওয়েলের দ্য এনিমল ফার্ম বইটির কথা মনেপড়ে। সেই বইয়ে তিনি প্রাণীসমূহের রাজত্বে কথা বলেছিলেন। প্রতীকী অর্থে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, ‘সাম্য’ বা ’সমতা’র কথা বলে আসলে ’শোষনের’ই রাজত্ব চলে। বাস্তবে রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায়ও আমরা ’জনগণেণর কল্যাণে’র নামে ‘শোষনমূলক ব্যবস্থা’ই চলতে দেখি।

এতে অমনুষ্য প্রাণীর শাসকশ্রেনীর শাসনকর্তার এক আইনে বলা হচ্ছে- All animals are equal, But some animals are more equal than others.

বাংলা করলে দাড়ায়, প্রাণীজগতের সবাই সমান, তবে কিছু প্রাণী অন্যদের চেয়ে আরো বেশি ‘সমান’। অর্থাৎ, সাম্য বা সমতার কথা বলা হলেও আদতে অসাম্য বা অসমতাকেই এই শাসনব্যবস্থায় জারি রাখা হয়েছে।

এখন আমরা সম্প্রচার নীতিমালার দিকে খেয়াল করি। তাতে প্রতি পদে পদে আমরা দেখতে পাবো, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, আইন রক্ষাকারী বাহিনী বা ব্যক্তি, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা সংগঠনসমূহ বা ব্যক্তিগণ যেন সবসময় ‘মোর ইক্যুয়েল দেন আদারস’! তবে জর্জ অরওয়েলের উদ্ধৃতি থেকে ‘Animal’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘Man’/ ‘Men’ বসিয়ে দিলেই হবে!

এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য আর করছি না!