Tuesday, April 9, 2013

লড়াইকামী শক্তির রাশ টেনে ধরার জন্য শাসক-শোষকশ্রেনীর শেষ ভরসাস্থল হচ্ছে 'শক্তি প্রয়োগ'

লড়াইকামী শক্তির রাশ টেনে ধরার জন্য শাসক-শোষকশ্রেনীর শেষ ভরসাস্থল হচ্ছে 'শক্তি প্রয়োগ'

(এক)

এরশাদ হলেন লূম্পেন শক্তির সবচেয়ে wicked লোফার অংশ, এই অংশটি আরেকজন হলেন ব্যানাহুদা। এরা যা পারেন তা হলো, যে সরকারই আসুক না কেন তারা বহালে নিন্দামন্দসহ সহিসালামতেও থাকতে সিদ্ধহস্ত হন।

পত্রিকায় দেখলাম এরশাদ শাহবাগের জাগরণ মঞ্চের উদ্দেশ্যে বলছেন, "এত ধৃষ্টতা ঠিক না"।
সাথে এও বলছেন, ‘যারা ইসলামের বিরুদ্ধে, মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম'।(সূত্রঃ প্রথম আলো)
এরশাদ তার বক্তব্যে জাগরণ মঞ্চ ভেঙে দেবার জন্য শেখা হাসিনা সরকারের কাছে আহ্বানও করেছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশ।

হঠাৎ ভোল পাল্টানো এই লোফারকে আপনারা আমরা যে ভাষায়ই গালমন্দ করিনা কেন এটা কিন্তু বলা দরকার যে তিনি কখন কী কথা বলেন তা কিন্তু তিনি বুঝেশুনেই বলেন।

চাকমা ভাষায় একটা বহুল ব্যবহৃত প্রবাদ বা ডাগকধা রয়েছে। তা হলো. হুশ ঠিক মাথা খারাপ। এরশাদও ঠিক সেই ধাঁচের ব্যক্তি। তাঁর অনেক কথা শুনে মনেহয় তিনি মাথা খারাপ হয়ে কখন কী বলে ঠিক নেই। কয়েকদিন আগে তিনি শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করে বললেন, “সামনে যে সময় আসছে, আপনার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা কঠিন। জনগণ আপনার সঙ্গে আছে, আমিও আপনার সঙ্গে আছি।”(সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম)

(দুই)

শাহবাগের রুমী স্কোয়াড যখন আন্দোলনকে সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেটমুখী করে এগোতে চাচ্ছে তখন যারা আন্দোলনের গতি-বিকাশ সম্পর্কে ধারণা রাখার চেষ্টা করে তারা জানে এই জাগরণ মঞ্চ এক পর্যায়ে 'জনতার মঞ্চ' নিপীড়িত জনতার জাগরণ মঞ্চ হিসেবেও জেগে উঠতে পারে।

এই আশঙ্কা বিষয়ে এরশাদ কিন্তু ওয়াকিবহাল। কারন তিনি নয় বছরের স্বৈরাচারী কায়দায় শাসনের সময় অনেক পোড় খাওয়া হয়ে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ছিলেন। এবং এখনো ক্রীজে টিকে রয়েছেন তার ভোল পাল্টানো সফল লোফারগিরির জন্য।

সুতরাং, ইসলামের বা একত্বের বা তৌহিদের নিকুচিকারী একজন হিসেবে সেই তিনিই যখন ইসলামকে রক্ষার সৈনিক ঘোষনা দিয়ে "যারা ইসলামের বিরুদ্ধে, মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে কথা বলবে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম" বলে চিৎকার করেন। এবং একই সাথে শেখ হাসিনা সাথে দেখা করে বলে আসেন, "সামনে যে সময় আসছে, আপনার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা কঠিন। জনগণ আপনার সঙ্গে আছে, আমিও আপনার সঙ্গে আছি।"
অতঃপর শাহবাগের দিকে খেকী আওয়াজ করেন তখন কিন্তু বোঝাই যায়, সাপ-ওঝাগিরি করার জন্য তিনি নিজেকে একজন কৌশলী -সমঝদার শ্রেনী মিত্র হিসেবেই জাহির করার চেষ্টা করছেন মাত্র।

(তিন)

প্রসঙ্গ বিবেচনা করেই বলছি, শাহবাগের হানিমুন বা আবেগীয় পিরিয়ড শেষ। এখন শাহবাগের লড়াইকামী শক্তিকে যা কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাতে রাজনৈতিক সংগ্রামকে কীভাবে বেগবান করা যায় তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

'যুদ্ধাপরাধীর বিচার' যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই' এই শ্লোগানের ভিত্তিভূমি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে শাহাবাগের নেতৃত্বকে। কেন এই শ্লোগান দেয়া হচ্ছে। এর পেছনের চেতনা কী? নিশ্চয়ই বলবেন 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' 'দেশপ্রেম'।
এখন বলুন, এই মহাজোট সরকার কী দেশপ্রেম প্রদর্শন করছে? এই মহাজোট সরকার কী 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' ধারণ করছে?

সরকার জানে উপরে উপরে তারা যা-ই বলুক না কেন, মৌলিকতার দিক থেকে বা নীতিগত দিক থেকে এই সরকার বিএনপি পন্থীদেরই সমগ্রোত্রীয় এবং 'দেশরক্ষার' দিক থেকে বা শ্রেনী বিবেচনায় তারা সুবিধাপ্রাপ্ত শেনীকেই রক্ষা করে থাকে।

(চার)

সামনের দিনগুলিতে যে লড়াই হবে সেই লড়াই আসলেই কী প্রকৃতির হবে বা সেই লড়াইয়ের বাঁকে কী পরম বাধা ভেঙে এগিয়ে যেতে হবে তার-ই ইঙ্গিত এরশাদের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়।

শাসক শ্রেনী লড়াইকামী বিপ্লবী শক্তি নিয়েই বেশী চিন্তিত। তারা জানে লড়াইকামী শক্তির পথরোধ করতে হলে তাদের এমন এক ইস্যু বা অস্ত্রের বা শ্লোগান বা জুজু বা সেন্টিমেন্ট দরকার যা দিয়ে সেই শক্তিকে সহজেই ঘায়েল করা যাবে এবং একই সাথে দেশের জনগণকেও ধোকা দেয়া যাবে। এবং সেই সেন্টিমেন্ট হচ্ছে, জনগণের বিশ্বাস বা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে প্রভাবান্বিত আদর্শ, 'ধর্ম'।

এখন সেই 'ধর্ম'কে নিয়েও যখন তা সামাল দেয়া যাবে না তখন নিশ্চিত 'জোর জবরদস্তি'ই যে ভরসা তার দিকেও এরশাদ ইঙ্গিত করছেন এখন থেকেই।

সুতরাং, লড়াইকামী শক্তি এ বিষয়ে সজাগ থাকবেন বলেই আমাদের দৃঢ় আস্থা তাদের প্রতি।

তারা লড়াইকে জনভিত্তির উপর দাঁড় করাতে সকল ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এই প্রত্যাশা।

No comments:

Post a Comment