আলোচনায় কিছু পয়েন্ট যোগ করা দরকার মনে করছি-
##১.আনন্দ বিকাশ চাকমা শুধুমাত্র ধর্মকে উপজীব্য করে ভারতের সাথে না থেকে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হবার পক্ষে মত দেবার চেষ্টা করেছেন। অথচ, ভারতের অন্তর্ভূক্ত হবার বিষয়টি শুধুমাত্র ধর্মের জন্য ছিলো না। তাতে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়সমূহও অন্তর্ভূক্ত ছিলো, এবং সর্বোপরি ছিলো সংস্কৃতিগত বিষয়।
তাছাড়া, পাকিস্তানী শাসকশ্রেনী আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে হাজার মাইল দুরে, সংস্কৃতি-রাজনৈতিক-সামাজিক যে কোনো দিক থেকে তাদের সাথে আমাদের আত্মিক মিল ছিলো না। (এখানে বলা দরকার পূর্ব বাংলা কিন্তু পাকিস্তানী শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো না।)।এ সকল বিষয় আনন্দ বিকাশ চাকমা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন এবং ধর্মকেই প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্তির পক্ষে অবস্থান রেখেছেন।
###২. স্নেহ কুমার চাকমা-ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখরা ভারতে অন্তর্ভূক্ত হবার জন্য আরেক কারণে চেষ্টা করেছিলেন- তা হলো, ভারত পাকিস্তান থেকে অধিকতর জনগণের অধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এবং এমনকি সামন্ততন্ত্র বা রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাতিল করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করার আশ্বাস বিভিন্ন অঞ্চলকে দিয়েছিল।(সংক্ষেপে বলছি। তাছাড়া, এখন আমার কাছে সূত্র উল্লেখের মতো বই হাতের কাছে নেই। অনেকদিন আগে এসব বই পড়েছি।) এতে চাকমা রাজন্য বা অন্য রাজাগণ পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্ত হতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি।
#### ৩. আরেকটি বিষয়- সেটা হচ্ছে, তৎকালীন আমাদের সামাজিক-প্রতিষ্ঠিত এবং নতুন উঠতি নেতৃত্বের ভূমিকা কেমন ছিলো? সে ভূমিকা সঠিক ছিলো নাকি বেঠিক ছিলো? এ বিষয়ে আলোচনা অনেক বড় ক্যানভাসে করা দরকার বলে মনে করি। তবে দুয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করছি।
জুম্ম জনগণ বা আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের তৎকালীন নেতৃত্বকে আমরা মোটাদাগে তিনভাগে ভাগ করতে পারি।
ক) রাজন্য নেতৃত্ব(এ অংশে রাজা নলিনাক্ষ রায় নেতৃত্বে রয়েছেন)।
খ) দেওয়ান নেতৃত্ব বা তৎকালীন সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি( এ অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কামিনী মোহন দেওয়ান)
গ) নতুন উঠতি নেতৃত্ব( এ অংশে রয়েছেন স্নেহ কুমার চাকমা, ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখ)
###### ৪. তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকা সংক্ষেপে উল্লেখ করছি-
১. রাজন্য নেতৃত্ব তৎকালীন সময়ে জনগনের কথা চিন্তা করেনি। তারা চিন্তা করেছেন নিজেদের গদি রক্ষা কিভাবে করা যায় তা নিয়ে। এবং তাই স্বাভাবিক ছিলো সে সময়ে। তাই তারা পরে পাকিস্তানেরই পক্ষ নিয়েছিলেন। কারণ এতে তাদের রাজশক্তি টিকবে। ভারতের অন্তর্ভূক্ত হলে তারা রাজত্ব হারাবেন।
২. কামিনী মোহন দেওয়ানের নেতৃত্বাধীন অংশটির ভূমিকা তখন নেই বললেই চলে। এ অংশটি রাজন্য ও স্নেহকুমার দুই অংশকেই সমালোচনা করেছে। কিন্তু তাদের সক্রিয় কোনো ভূমিকা সে সময় ছিলোনা। তবে কামিনী মোহন দেওয়ান যদি তার 'পার্বত্য চট্টলার এক দীন সেবকের কাহিনী' যদি লিখে না যেতেন তবে হয়তো আমরা ইতিহাসের কানাগলিতে হাতড়াতাম! এ জন্যই মাত্র তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। নেতৃত্বের ভুমিকা বিষয়ে তাঁর বা এ অংশের কোনো ভূমিকা নেই। তারা কথায় সিদ্ধ, কাজে বা বাস্তব ভূমিকায় নয়।
৩. শেষ অংশটির প্রতিনিধিত্বকারী হলেন, স্নেহ কুমার চাকমা, ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখরা। তাদের ভূমিকা কেমন ছিলো আরো কী হতে পারতো তা নিয়ে নানা আলোচনা চলতে পারে এবং এভাবে আলোচনা হলে বরং আমাদেরই সুবিধা হবে। আমরা ইতিহাস সচেতন হয়ে উঠবো। তবে তাদের ভূমিকা জনগণের পক্ষে ছিলো।
তারা জনগনেরই অধিকার চেয়েছেন। তাতে বা্ এই চাওয়ায় ভুল থাকতে পারে। কিন্তু তাদের আকাঙ্খাটাই তাদের সম্মানের জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়। আলোচনা চলতে থাকুক। আমরা চোক মু ফুত্যে হয়ে উঠি।
স্নেহ কুমার চাকমা |
##১.আনন্দ বিকাশ চাকমা শুধুমাত্র ধর্মকে উপজীব্য করে ভারতের সাথে না থেকে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হবার পক্ষে মত দেবার চেষ্টা করেছেন। অথচ, ভারতের অন্তর্ভূক্ত হবার বিষয়টি শুধুমাত্র ধর্মের জন্য ছিলো না। তাতে সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়সমূহও অন্তর্ভূক্ত ছিলো, এবং সর্বোপরি ছিলো সংস্কৃতিগত বিষয়।
তাছাড়া, পাকিস্তানী শাসকশ্রেনী আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে হাজার মাইল দুরে, সংস্কৃতি-রাজনৈতিক-সামাজিক যে কোনো দিক থেকে তাদের সাথে আমাদের আত্মিক মিল ছিলো না। (এখানে বলা দরকার পূর্ব বাংলা কিন্তু পাকিস্তানী শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো না।)।এ সকল বিষয় আনন্দ বিকাশ চাকমা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন এবং ধর্মকেই প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্তির পক্ষে অবস্থান রেখেছেন।
###২. স্নেহ কুমার চাকমা-ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখরা ভারতে অন্তর্ভূক্ত হবার জন্য আরেক কারণে চেষ্টা করেছিলেন- তা হলো, ভারত পাকিস্তান থেকে অধিকতর জনগণের অধিকার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এবং এমনকি সামন্ততন্ত্র বা রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাতিল করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করার আশ্বাস বিভিন্ন অঞ্চলকে দিয়েছিল।(সংক্ষেপে বলছি। তাছাড়া, এখন আমার কাছে সূত্র উল্লেখের মতো বই হাতের কাছে নেই। অনেকদিন আগে এসব বই পড়েছি।) এতে চাকমা রাজন্য বা অন্য রাজাগণ পাকিস্তানে অন্তর্ভূক্ত হতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি।
#### ৩. আরেকটি বিষয়- সেটা হচ্ছে, তৎকালীন আমাদের সামাজিক-প্রতিষ্ঠিত এবং নতুন উঠতি নেতৃত্বের ভূমিকা কেমন ছিলো? সে ভূমিকা সঠিক ছিলো নাকি বেঠিক ছিলো? এ বিষয়ে আলোচনা অনেক বড় ক্যানভাসে করা দরকার বলে মনে করি। তবে দুয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখ করছি।
জুম্ম জনগণ বা আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের তৎকালীন নেতৃত্বকে আমরা মোটাদাগে তিনভাগে ভাগ করতে পারি।
ক) রাজন্য নেতৃত্ব(এ অংশে রাজা নলিনাক্ষ রায় নেতৃত্বে রয়েছেন)।
খ) দেওয়ান নেতৃত্ব বা তৎকালীন সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি( এ অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন কামিনী মোহন দেওয়ান)
গ) নতুন উঠতি নেতৃত্ব( এ অংশে রয়েছেন স্নেহ কুমার চাকমা, ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখ)
###### ৪. তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকা সংক্ষেপে উল্লেখ করছি-
১. রাজন্য নেতৃত্ব তৎকালীন সময়ে জনগনের কথা চিন্তা করেনি। তারা চিন্তা করেছেন নিজেদের গদি রক্ষা কিভাবে করা যায় তা নিয়ে। এবং তাই স্বাভাবিক ছিলো সে সময়ে। তাই তারা পরে পাকিস্তানেরই পক্ষ নিয়েছিলেন। কারণ এতে তাদের রাজশক্তি টিকবে। ভারতের অন্তর্ভূক্ত হলে তারা রাজত্ব হারাবেন।
২. কামিনী মোহন দেওয়ানের নেতৃত্বাধীন অংশটির ভূমিকা তখন নেই বললেই চলে। এ অংশটি রাজন্য ও স্নেহকুমার দুই অংশকেই সমালোচনা করেছে। কিন্তু তাদের সক্রিয় কোনো ভূমিকা সে সময় ছিলোনা। তবে কামিনী মোহন দেওয়ান যদি তার 'পার্বত্য চট্টলার এক দীন সেবকের কাহিনী' যদি লিখে না যেতেন তবে হয়তো আমরা ইতিহাসের কানাগলিতে হাতড়াতাম! এ জন্যই মাত্র তাঁকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। নেতৃত্বের ভুমিকা বিষয়ে তাঁর বা এ অংশের কোনো ভূমিকা নেই। তারা কথায় সিদ্ধ, কাজে বা বাস্তব ভূমিকায় নয়।
৩. শেষ অংশটির প্রতিনিধিত্বকারী হলেন, স্নেহ কুমার চাকমা, ঘনশ্যাম দেওয়ান প্রমুখরা। তাদের ভূমিকা কেমন ছিলো আরো কী হতে পারতো তা নিয়ে নানা আলোচনা চলতে পারে এবং এভাবে আলোচনা হলে বরং আমাদেরই সুবিধা হবে। আমরা ইতিহাস সচেতন হয়ে উঠবো। তবে তাদের ভূমিকা জনগণের পক্ষে ছিলো।
তারা জনগনেরই অধিকার চেয়েছেন। তাতে বা্ এই চাওয়ায় ভুল থাকতে পারে। কিন্তু তাদের আকাঙ্খাটাই তাদের সম্মানের জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়। আলোচনা চলতে থাকুক। আমরা চোক মু ফুত্যে হয়ে উঠি।
No comments:
Post a Comment