Showing posts with label সাংস্কৃতিক চেতনার সংগ্রাম. Show all posts
Showing posts with label সাংস্কৃতিক চেতনার সংগ্রাম. Show all posts

Wednesday, August 2, 2017

তাজউদ্দীন আহমদঃ নতুন আলোকে

সাদাসিধে তাজউদ্দীন আহমদ

তারিখঃ ২২ জুলাই, ২০১৭
তাঁর যখন ৪৫ বা ৪৬ বছর বয়স তখন তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ নেতা। তাঁর কন্যা শারমিন আহমদ যেমনটি বলেছিলেন, তাজউদ্দীন ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক, দূরদর্শী চিন্তার অধিকারী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একজন পরিশুদ্ধ চিন্তাসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি নিজ দায়িত্ব ও কাজে ছিলেন কর্তব্যনিষ্ঠ। তিনি সততাকেই নিজের পুঁজি হিসেবে প্রমাণ করেছিলেন। এগুলো কথার কথা নয়, তাঁর সারাজীবনের কাজে তিনি এই প্রমাণই রেখে গেছেন।
শারমিন আহমদ লিখেছেন, 'সত্যি শক্তি। সত্য তার আপন বলে বলীয়ান।' এই নীতির একনিষ্ঠ অনুসারী আব্বু লড়েছেন একাকী।' তিনি ছিলেন নিঃসঙ্গ এক লড়াকু, যিনি নিজের জন্য কিছু প্রত্যাশা করেননি। যতদিন এই লড়াকুকে শেখ মুজিব কাছে রাখতে পেরেছেন ততদিন শেখ মুজিব ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী, অপরাজেয়! কিন্তু দেশ স্বাধীন হবারর পরে যেইদিন তিনি তাজউদ্দীন আহমদকে দূরে সরিয়ে দিলেন, সেইদিন থেকেই যেন তাঁর 'পারমী' বা 'খোদার করুণা' কৃশ আবছা ঝাপসা হতে শুরু করে!
তবে তাজউদ্দীন আহমদ এমন ধাতে গড়া এক মানুষ, যিনি এত সকল কিছুর পরেও, নিজের 'নেতা'র কাছ থেকে এতো অবহেলা, বঞ্চনার শিকার হবার পরেও কোনোকালেই, কোনোসময়েই 'নেতা'র বিপরীতে কোনো অমংগল কাজ করা দূরে থাক, মনেমনেও সেই কামনা করেননি।
এই এক লৌহদৃহ মানবিক মননের অধিকারী ব্যক্তি আজ থেকে ৯২ বছর আগে ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুরের কাপাসিয়া দরদরিয়ায় জন্মেছিলেন। ধন্য এমন মানব জনম, সার্থক এমন জীবন যাপন!
এই ব্যক্তি, যিনি মনেপ্রাণে ছিলেন এই দেশেরই বৃহত জাতির একজন, বাঙালি। আবেগে চিন্তায় তিনি ছিলেন খাঁটি আদর্শবান অনুসরনীয় একজন 'বাঙালি'ই, তবে একইসাথে মানবতাবাদীও। কিন্তু, অত্যন্ত বেদনার যে,
আজ বৃহত 'বাঙালি' জাতিগোষ্ঠির মধ্যে এই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে ভাবার মতো নেই কেউ, তাঁর আদর্শকে তুলে ধরে অনুসরনীয় হবার মতোও নেই এমন কোনো অনুসরনীয় কোনো ব্যক্তিত্ব!
তিনি বলেছিলেন, ‘শুধু ভালো বক্তৃতা করে দেশের মানুষের মঙ্গল করতে পারবেন না। বক্তৃতা সত্যি হতে হবে। মানুষের সত্যিকার অবস্থা আগে তুলে ধরে তারপর প্রকৃত নির্দেশ দিতে হবে। এর নাম নেতৃত্ব। এটা খুবই কষ্টকর। কিন্তু সত্যিকার খায়েশ যদি হয়ে থাকে তা হলে তা করতে হবে। কিন্তু এছাড়া শুধু বক্তৃতা করে বেশি দিন নেতৃত্ব করা যাবে না।’(সূত্রঃ শুভ কিবরিয়া, বাংলা ট্রিবিউন)
আজকাল কথা বলার লোক বা ভুরি ভুরি ভালো ভালো কথা লেখার লোক তো কম পাওয়া যায় না! বরং ভালো ভালো কথা বেশিই যেন বলা হয়ে থাকে, লেখা হতে থাকে! টিভি টকশো'তে চোখ কান দিলেই তা গোচরীভূত হতে থাকে!
আজ ২৩ জুলাই ২০১৭ পর্যন্ত যদি তাজউদ্দীন বেঁচে থাকতেন তবে তাঁর বয়স হতো ৯২। এই বয়সেও অনেকেই বেঁচে থাকেন। শুনেছি মালয়েশিয়ার মাহাথির মুহাম্মদ এই বয়সে আবার রাজনীতিতে নাকি আসতে চাইছেন।
কিন্তু, তাজুদ্দীন ৫০ পেরোতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসের ২২ তারিখ তাঁকে আটক করা হয়। একই বছরের ৩ নভেম্বর আরো তিন নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এ এইচ এম কামরুজ্জামানসহ তাজউদ্দীনকে কারাগারে খুন করা হলো নির্মমভাবে।
শেখ মুজিব খুন হবার পরে তিনি নিজের প্রাণ রক্ষার জন্য পালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু 'অপবাদ' মাথায় নিয়ে তিনি পালিয়ে যেতে চাননি। তবে তিনি যদি পালিয়ে যেতেন, রক্ষা করতেন নিজেকে, তিনি যদি আবার হাল ধরতেন দেশ গঠনের কাজে, তবে দেশের ইতিহাস কি অন্যভাবে লিখতে হতো?
যা হয়নি, তা হবার নয়। তাই ও কথা তোলা থাক অগোছালো!
এই সত্যটিই আজ প্রকটিত হয়ে আমাদের শিক্ষা দিক যে, 'নেতা যখন অসৎ, অযোগ্য, দুর্নীতিপরায়ণ ও সুবিধাবাদীদের কাছে টেনে নেন এবং তাদের প্রশ্রয় দেন তখন ভয়াবহ পরিণাম শুধু তার ভাগ্যেই ঘটে না, পুরো জাতিকেই তার মাশুল দিতে হয়। জাতি পিছিয়ে যায় শত বছর।'(তাজউদ্দীন আহমদ, নেতা ও পিতা; পৃঃ ১৭৫; শারমিন আহমদ)
তবে নেতা বা নেতৃত্ব যখন জাতীয় উত্তুঙ্গ উত্তাল ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে সঠিক দিশা হাজির করে নেতৃত্ব দিতে অপারগ হন বা সঠিক ভুমিকা রাখতে সমর্থ না হন, তবে তখনও একটি জাতিকে, একটি জাতিগোষ্ঠি ও একটি অঞ্চলের জাতিসমষ্টিকে মাশুল গুণতে হয়, পিছিয়ে যেতে হয় আরো বহু বছর।

Sunday, July 30, 2017

ফ্যশন অর এসটাইল ইন দ্য লাড়েই!-এগ্গান তেম্বাঙ



তারিকঃ ২৭ জুলাই, ২০১৭

এ লেঘাগান লিঘিবার কারণ অহলদে গুরো ভেই ফেসবুক বন্ধু সুদর্শী চাকমা মিশিলঅত সানগ্লাস চোঘোত দে’না লোইনেই এগ্গান লিককে। সিওত ত্যা সানগ্লাস ন দিবার কধা কুইয়্যে।সাদাচোঘে বিষয়আন লোইনেই আজলে কধা কবার তেমন নেই মনে অহবঅ। হালিক,আমি আমা সমাজ পরিবর্তনঅর ক্ষেত্রে বা আমার লাড়েইআন আক্কোই নেজেবার ক্ষেত্রে সাদাবাওচ্চে তুত্রিনিংতাত্রাং এত চিগোন চাগোন বিষয় বা সমস্যা লোইনেই এতঅ সময় কাদেই দিই যে, দেঘা জাইদে আমি আজলে শেজেনদি আমা লাড়েইওর মূল উদ্দেশ্যআন’ওই পুড়িই ফেলেইওই!
ম’র এই আলোচনা বা তেম্বাঙআনঅত মুই আলোচনাগুরিনেই সেই বিষয়আন তুলি ধুজ্জোং। আমি জুনি আজল কাম তুত্রিং নাত্রিং কাম ভাগ ন গুরি তোইলে শান্দিবাইনীউনে তারা জিঙানী লাড়েইওত নিজঅর জিঙানির বেকভাগ দিইনেই বয়চকালে জ্যাএন উভোককাককাক উইওন, বজর বিদি জাদে জাদে কমলে কমলে আমা উগুরেও সে দঝাআনি ব দঝা ভেদা দ্যাএ সিআন থাআরও গুরি ন পারিবং!
লেঘাগান মন দিইনেই কেউ পুড়িনেই কিজুকাজু সজাগ চোকমুফুত্যা অহলেও মনআন হুজি অহবঅ!

লেঘাগানঅর শুরু...

বাংলাদেঝ'অত ওবোচ্চো 'বিপ্লবী মিশিল' দেঘা ন জাই। আর 'সান গ্লাশ' বা 'চোকশমা'আন বেধক্যা সা'আন দেঘেলে'য়ো 'সাংনগ্লাশ' দ সমচ্যা নয়! সমচ্যা অহলদে 'লাড়েই'আন বা সংগ্রাম বা 'বিপ্লব' বা সংগ্রাম'আন। মাও বা চে বা কাস্ত্রো সিগেরেট হ্যানেই দ তারা বিপ্লবী!তারারে দ কনঅজনে ‘;অবিপ্লবী’ ন কলাক!

ভাব দেঘানা, ভাব ল'না, ভাব মারানা বা এসটাইল দেঘানা সমারে জাদে বা জেকজেক গুরিনেই লাড়েই গরানা, লাড়েইওত থানা, লাড়েই'আন'অরে নিজর গুরি ল'না ভিদিরে পার্থক্য দ আঘে! আর লাড়েইওর কারণে এসটাইল গরানা, সানগ্লাশ দি পানাহ, তুক্যা দেনা সি'আন দ লাড়েইওর কারণে। হালিক অহয়'আন'অত নয়'আনত এসতাইল মারানা সি'আন দ 'বিপ্লবী' 'সংগ্রামী' কাম নয়! সি'আনি কধা বাদ, এই 'হাচ্চত' স্বাভাবিক সংস্কৃতি বা মূল্যবোধ'ওর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য'ও নউয়।

এ উপমহাদেশ'অত যারা সংগ্রাম গরন তারার কিজু 'ডগমা' আঘে। এই দেঝত যারা 'বিপ্লবী' হলান তারা সমাজ জাত দেঝ লোইনেই নিরাল নিবিড় গুরিনেই কাম ন গুরিনেই 'মদ হানা' 'শুগর এহরাহ ' হানা বা সমাজ'অত জি'আন 'ট্যাবু' সি'আন ভাঙানা'আনঃঅরে 'বিপ্লবী কাম' মনে গরন। আমা সিদু বিপ্লব বা সংগ্রাম যারা গরন তারা 'মদ ন হানা' ই'আন'অরে 'সংগ্রামী কাম' মনে গত্তাক বা এবঅসং মনে গরন। সেনোত্তেই সমাজ'অর স্তর ন বুজিনেই সমাজ'অত যারা মদ হান তারারে মদ'অ ভাদি বোগেই দোন। হালিক এত বিধিনিষেধ দিবার পরেও, এতঅ শাস্তি দিবার পরেও,এতঅ চেরেস্তারপরেও মদ হানা মদতি অহনা বন্ধ ন অহয়। অন্য কিত্তে চীন দেঝত, কিউবা সিদু তারা মদ হেইনেই বিপ্লব গুজ্জোন। আজলে পোল্লেম সমাজ লোনেই স্টাডি ন গুরিলে সমাজ বোদোলেবার মতন যুগোপযোগী কর্মসূচি ন ললে দ সমাজ বোদোলেবার আঝা বা বোদোলেবার কামআনঅত আমি ফেইল মারিবঙ! মদতদ নঅ হেইনেই সন্যাসব্রত ধারণ বা সাধু ‘সাজানাহ’ বা সেনজান কাম গরানা মানে দ রাজনৈতিক ভাষায় 'ভাববাদী' অহনা। অর্থাৎ বস্তুবাদী বা দ্বন্দ্বমূলক ঐতিহাসিক বস্তুবাদী দৃষ্টিভংগী বা সঠিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগী অরজন ন গরানা। যারা আগেদি সমাজ বোদোলেবার বাগকাম আহদঅত লুইওন তারা দ বানাহ এই ভাব ন মারঅন!

আজলে আমি অহত্তে অহত্তে সমাজ'অ ভিদিরে থেইনেই নানা চিন্তাগত সংস্কার বা দৃষ্টিভংগী লালন গুরি। সে দৃষ্টিভংগী অবশ্যই আমার সংস্কৃতি বা সংস্কার। সি'আনর কারনে কোনো এগগান জিনিচ বা বিষয়'অরে গম বা ভান্যা বা সা'চ্যা বা বেসাচ্যা(সাজ'অন, বেসাজ'অন) কোই। হালিক সি'আন'অ সমারে সমাজ পরিবর্তন'অর সম্পর্ক আপতিক মাত্র। সি'আনঃঅর স্ট্যাটিক 'গম ভান্যা' কিজু নেই। গম আর ভান্যা স্ট্যান্ড'অ উগুরে বা অবস্থানগ্রহণঅ উগুরে নির্ভর গরে। আর 'বিপ্লবী' বা 'সংগ্রামী' রাজনীতি বা এই ধরনঃঅর রাজনৈতিক দৃষ্টিভংগী উন্নততর মতাদর্শ ধারণ গরে। উন্নত বা উচ্চতর মতাদর্শ মানেই সংস্কারমুক্ত নৈর্ব্যক্তিক চিন্তাচেতনার মাধ্যমে সমাজ বিশ্লেষণ এবং সমাজ পরিবর্তন'অর কাম গরানা সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভংগীর ভিত্তিতে। তবে কধা আঘে, সমাজ পরিবর্তন গুরিলে সমাজ'অত উপযোগী কর্মসূচিই লো পুরিব'অ।

সমাজ পরিবর্তন গুরিবার চ্যালে সমাজ'অর উপযোগী কাম গরা পুরিব'অ। মদ'অ ভাদি বোগেই দে'না জ্যান সঠিক কর্মসূচি নয়, সেনজান মদ হেবার ঢালাও সুবিধে দেনাও সঠিক কর্মসূচি নয়। কুবোত দাড়ি বজা পড়ে, কোন জাগাত কমা, কোন জাগাত হাইপেন, সেমিক্লোন, প্রশ্নবোধক চিহ্ন দি'ইয়া পরে সি'আন যারা লেঘানাত এক্সপার্ট তারাত্তেই নিশ্চয় হবর পা'আ পড়ে। আর যারা্ দেচজাদঅর কাম গুরিবাক তারাততুনো সমাজচোরে স্টাডি গুরিনেই কন কামআন আগে গরা পুরিবঅ, সমাজঅর কন সমস্যাআন মৌলিক,কুবান সেকন্ডারি বা গৌণ সিআন তলবিচ গুরিনেই বাজি ল’বার বাস্তবিক রাজনৈতিক জ্ঞান থাআ পুরিবঅ।
আমি জুনি সমাজ লোইনেই গভীর অনুসন্ধান ন গুরিনেই কুড়ো আঙত্যেদে ধক সমাজ লোইনেই কাম গুরি তোইলে দ আমি জাদঅর ভালেদ গুরি ন পারিবং। বরং আমার সে কামআনির কারণে আমা জাদঅর হারাপ কিজু অহবারই সম্ভাবনা বেচ আগে। আর সে কারণেই জাদঅর ভালেদ গুরিবার মত এতঅ কাম আপাতভাবে অহবার পরেও আমা জাদঅর এতঅ দুর্বল অবস্থা আমি লাআক পেইর। কারণ যারা বিপ্লব গুরিবার বা সমাজ বোদোলেবার কধা তারা তিলে তিলে কুড়ো(মুরগী) আঙুত্যে পারাআ সমাজ লোইনেই আঙুদা আঙুদি গুজ্জোনদে বানাহ। চেুদোমেএ উদোনআন আধং গুজ্জোন পারাআ উইয়্যে।


আমা জাদঅর যারা বিপ্লবী হোলান বা যারা সমাজ লোইনেই কাম গরঅন তারার আরেগ্গান সমস্যা দেঘা দেএ।
গভীর সঠিক রাজনৈতিক চেতনা আর দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন ন গুরিবার কারণে এ বালখিল্যতা বা চিগোনগুরো ধক মানসিকতা দেঘা দেএ। আমি দেঘি যারা লাড়েই গরঅন বা লাড়েইও থান তারা লাড়েই গত্তে গত্তে নিজঅরে পোললেম জমঅর বিপ্লবী বানেই রাঘান। হালিক হানক্কন পরে সে সলংবোদোলেইনেই শুন্য ডিগ্রিততুন তিনশষাইট ডিগ্রি বুদুলিনেই বিরাট প্রতিবিপ্লবী বা প্র্রতিক্রিয়াশীল ওই জানদোই। বিশেষগুরি সমাজ বোদোলেবার কর্মসূচি লোইনেইও তারা শুন্য ডিগ্রিততুন তিনশষাইট ডিগ্রি বুদুলি জাআদে দেঘাজাই।ধরা জোক,মিলে ষ্বাধীনতার কধা। মুই ম আলোচনাআনঅত বোঝেবার চেলুংগে, সমাজঅর স্তরভেদে সমাজ পরিবর্তনঅর কাম গরাপরে। হালিক ইআন ক’বার পরে নারী স্বাধীনতা লোইনেই ,মুই কী আমা সমাজঅত মিলেউনোরে পশ্চিমা ধাঁচে স্বাধীনতা দিবার চাআং কিনা কোআ অহলঅ। সে জবাবে জবাবে মুই লিক্কোঙ- নারী স্বাধীনতা মানে নারীর মর্যাদা, নারীর স্বকীয়তা স্বাতন্ত্র্যরে স্বীকার গরানা, নারীর সামাজিক দায়িত্ব কর্তব্য বিষয়ে সচেতন অহনা। আর দায়িত্ব করতব্যবোধ অহলদে পারস্পরিক। নারীরে সম্মান দি'আ পুরিব'অ, নারী সমাজ'অর সম্মান বজায় রাঘেব'অ।ইক্কো সানগ্লাস দেনা ন দেনা লোইনেইও বা অন্য বিভিন্ন ধুক্কেন সমস্যা লোইনেইও সে কধাআন কোআ জাই।
মুই নিজে জ্যাক্কেনে হাগারাছুরি পাআটি(পার্টি) কাম গুজ্জোঙ,স্যাক্কেনে দিক্কোঙ, আমি হবংপুজ্জে আদামঅত স্কুলঅ পো-গাবুজ্জেউনো ভিদিরে শৃংখলা আনিবার জেইনেই কিজু কিজু সমাজঅর অতি উৎসাহী মানজে স্কুল পো আর গাবুজ্জেউনোরেেএককধায় ‘জেলহানা’ত রাঘাই পারাআ রাঘেবার পরামর্শ দিলাক! হালিক, কিজুদিন বাদে দেঘা জেলঅদে এ চরম ‘বিপ্লবী’ চিদে গুরিইএ মানুচ্চুনোর ‘বিপ্লব’ মাধা্-আগা দেঘাইও নেই! শেজেনদি আজল কামআন বুদি রাঘিইওন! ইআনঅরেই কঅবার চিওঙ শুন্য ডিগ্রিততুন তিনশষাইট ডিগ্রি উল্লানা। আমা সমাজ বা জাদঅর এ হাচ্চত সমাজঅ ভিদিরে, রাজনৈতিক দলঅ নেতাউনো ভিদিরে, মানজো ভিদিরে আহরে আহরে কেজেএ কেজেএ আঘে!

আমি সমাজ'অর সেকন্ডারি সমস্যালোই মশগুল থ্যানেই দ 'বিপ্লব' 'সংগ্রাম' আক্কোই নেজেই ন পারিবং!

সমাজ'অর নানা তুতত্রিং নাতত্রিং সমস্যা আঘে। এধকভিলোন দেঘা জিইয়ে, আমি কোন সমস্যাগান মুখ্য আর কোন সমস্যাগান গৌন সি'আন তলবিচ ন গুরিনেই বানা তেম্বাং সুলুক গুরি গুরি থেই। সেনোত্তেই আমি তলা লা'আপ ন পেবার অক্ত অহয়! আমি দ ব্যাগে সমাজ'অ ডাক্তর নয়। ধরা জোক এগগো রুগি ডাক্তর'অ সিদু মাধাপিড়েত্তেই জেল'অ। ডাক্তজ্যে দ বানা মাধা পিড়ে কিনে দারু ন দিব'অ! ত্যা চেব'অ কী কারণে মাধা পিড়ে অহর। সি'আন চোঘোর কারনে অহলে চোঘও দারু দিব'অ। প্রেশার'অর কারনে অহলে আরেকধুক্কেন দারু বা অন্য কারণে অহলে আরেকধুক্কেন দারু দিব'অ। সেনজান গুরি সমাজ'অর যারা বা জ্যা ডাক্তর ত্যা বা তারা সে অনুযায়ী দারু জোগওলেবাক, বা জোগোলে পেবাক। জোগোলে ন পারিলে দ অসুক বা পিড়ে গম ন অহব'অ, বরং আরো জটিল অহব'অ!
আপাত মুই ইআন লোইনেই ম আলোচনা ইওত থুম গুরিলুঙ।

জেনারেল অং সান General Aung San




তারিখঃ ১৯ জলাই, ২০১৭

বার্মা, এবং বর্তমানে মিয়ানমার নামে পরিচিত দেশটি গঠনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁর নাম অং সান, জেনারেল অং সান। আজ ১৯ জুলাই, ২০১৭ তাঁর ৭০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মিয়ানমারের জনগণ আজ তাঁকে স্মরণ করছে।

দেশটি স্বাধীন হবার মাত্র ৬ মাস আগে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৯ জুলাই আততায়ীর হাতে শহীদ হন।

তাঁর দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তাসমূহের মাঝেও তিনি ব্যাপকভাবে সম্মানিত রাষ্ট্রনেতা হিসেবে বিবেচিত হন।

বার্মা স্বাধীন হলে অন্যান্য জাতিসত্তাসমূহকে সমমর্যাদার ভিত্তিতে অধিকার প্রদান করার প্রতিশ্রুতি তিনি প্রদান করেন। এ উপলক্ষে তিনি জাতিসত্তাসমূহের প্রতিনিধিদের সাথে 'পাঙলঙ এগ্রিমেন্ট' নামে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন। এই চুক্তি এখনো মিয়ানমারে জাতিসত্তাসমূহের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রধান ভিত্তি বা পথনির্দেশদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

অং সানের কন্যা অং সাং সু'কি এখন 'স্টেট কাউন্সিলর' হিসেবে দেশটির শাসনক্ষমতার নেতৃত্বে রয়েছেন।

শিল্প-সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা

তারিখঃ ২৪ জন, ২০১৭
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছে হলো। অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো আলোচ্য বিষয় খুবই সহজ মনে হতে পারে! কিন্তু এই আলোচনার একটি জটিল 'অমীমাংসিত' প্রপঞ্চ রয়েছে। অনেকটা 'ডিম আগে নাকি মুরগী আগে' প্রশ্নটির মতো একটি উত্তর প্রাপ্তির বিষয় জড়িয়ে রয়েছে! 
শিল্প-সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা থাকা বা না থাকা বা এই ধারার প্রাধান্য থাকা না থাকার সাথে সাথে নিচের প্রশ্নটি নিয়ে আমরা ভাবতে পারি!
'সংগ্রামী ধারার সাহিত্য আগে সৃষ্টি হবে নাকি সংগ্রাম জারি থাকা বা সংগ্রামী ধারা জোরদার' হওয়া আগে সৃষ্টি হতে হবে?
সংগ্রাম যদি জারি না থাকে বা যদি সংগ্রাম বা 'বিপ্লব' জোরদার না হয় তবে সংগ্রামী ধারার শিল্প ও সাহিত্য চলমান সমাজ জীবনে কী প্রাধান্য পাবে? অথবা প্রথমে সমাজের শিল্প ও সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা সৃষ্টি হবে, তারপরে পরবর্তী প্রেক্ষাপট হিসেবে আসবে জোরদার সংগ্রাম?
কখন একটি চেতনামূলক গান মানুষকে জাগাতে পারে? 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে' গানটির আবেদন কি '৭১ সালের আগে ছিল? নাকি '৭১ এর ৯ মাসের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে এই গানটি 'আবেদনময়ী' হয়ে মানুষকে জাগিয়েছিল?
শিল্প ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনার সময় এই বিতর্কটির মীমাংসা তবে কি আবশ্যকীয়ভাবে সামনে আনতে হয়/হবে?
বিষয়টি নিয়ে কথাবলতে হোল, কারণ এ নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে আমরা একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকি। পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে যে সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ব চলছে তাতে আমরা এই বিষয়টি নিয়েও নানা ধোঁয়াশামূলক চিন্তাভাবনা করি। অথচ, সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে বা সমাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে নেতৃত্ব দিতে গেলে বা এ নিয়ে ভুমিকা রাখতে হলে আমাদের এই বিষয়টিকে সিরিয়াস আলোচনা করে মীমাংসায় যেতে হবে। 
আপাতত এটুকু মাত্র যোগ করলাম। 

Sunday, July 23, 2017

লুঙুদুতে প্রাণ আমারঃ তুক্কোপুদি’র দুঃখের কথা শোনাই তবে!

তারিখঃ ০৪ জুন, ২০১৭
শোনো বলি এ কথা,
আমি গল্প লিখতে বসিনি,
লিখতে বসেছি হিল চাদিগাঙের
ছড়া ঝিড়ি নদী নালা বন বাদাড়ের
গেনখুলী ধুধুক হেংগরং বাজি শিঙার কথা!
লুঙুদু যেন সারা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুঃখী মানুষের প্রতীক হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সেই ১৯৮৯ সালের ৪ মে তারা একবার আক্রমণের শিকার হয়েছিল। ঘরবাড়ি সহায়সম্পত্তি আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছিল তাদের। তারপর আরো চলে গেছে যুগ ধেয়ে আরো অনেক বছর। ৮৯ সালের সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি তারা হয়তো ভুলতে বসেছিল। তাই হয়তো তারা আশায় বুক বেঁধে পাকা ঘর দালান বানাতে শুরু করেছিল।
তারা ভুলে গিয়েছিল, এমন এক সময় ছিল পার্বত্যবাসীরা সুন্দর করে ঘর তুলতে, ভালোমতো ঘর তুলতে চিন্তা করতে পারতো না। তারা ভুলে গিয়েছিল পাকা দালান কেন সাধারণ বাঁশের বেড়া দেয়া ঘর তারা একসময় বানানোর চিন্তা করতো না পাছে সেটলার হামলায় সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে তাদের সহায় সম্পদ আবার পুড়ে যায় এই দুর্ভাবনায়। তাই তারা তুলতে শুরু করেছিল পাকা দালান!
তারপর এলো ০২জুন, ২০১৭ শুক্রবারের এক সকাল! এবং তারপর পুড়ে গেল তাদের বাড়িঘর, সহায় সম্পত্তি। সাধের স্বপ্ন তাদের ধ্বংস হয়ে গেল। তাই মনের দুঃখ নিয়ে বুকের কোণ থেকে একবুক আবেগের দলা উগরে দিয়ে বুদ্ধ কুমার চাকমা চিৎকার না করেই সিধে ও সাদা ভাষায় বলে ওঠেন, আমাদের ত্রাণ লাগবে না, মেলে ফেলেন। কী এক শুন্যতা পেয়ে বসলে ভদ্র এক গেরস্থের কাছ থেকে এই কথা উঠে আসে তা কি কেউ জানবে বা কেউ কি বুঝবে?
বাহাস বাদ রেখে আজ বলবো উত্তর মানিকজুর ছড়া গ্রামের তুক্কোপুদি নামে এক নারীর কথা। তিনি তার গ্রামে বসবাস করছেন সেই ছোটোকাল থেকে। বিয়ের বয়স হবার পরে কয়েকজন সন্তান হবার পরে তিনি হারান তার স্বামীকে। তারপর সংসারের ভার কাঁধে নেন। ছেলে মেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করেন। এখন বয়স হবার পরে নাতি নাতনিদের আদর ভালবাসা দিয়ে পুত্র কন্যাদের ঘরে ঘরে ঘুরেফিরে আদর আপ্যায়ন যা পাবার তা পেয়ে বাকি দিন কাটানোর কথা। কিন্তু ভাগ্যে যখন লেখা থাকে দুর্ভাগ্যের লিখন, তখন কে তারে সুখে রাখে! কর্মের বাঁধন যে যায় না খন্ডন! দুঃখ যেন লিপির লিখন তার কপালে!
সকালে ঘুম থেকে উঠে তুক্কোপুদি ভাত রান্না করার পরে আয়েশ করে তার নাতিনদের সাথে মশকরা খুনসুটি করে সময় কাটাচ্ছিলেন। সময় বেশ কাটছিল বটে! কিন্তু মানিকজুর ছড়া বিলের ওপারে তিনি দেখতে পেলেন ধোঁয়া উড়ছে, আগুন লেগেছে, চলছে চিৎকার। মানুষজনের পালিয়ে আসার স্রোত তিনি দেখতে পেলেন। দূর থেকে তা দেখেই তিনি নিজের ঘরের উঠানে বসে আপন মনে জীবনের কথা হয়তো ভাবছিলেন। এবং চিন্তা করছিলেন, আপন জাতভাইবোনদের ঘরবাড়ি পুড়ে গেল। বাঁচাতে পারলো না কিছুই। পরিচিত আত্মীয় কেউ মারা গেল কি না তা নিয়ে হয়তো তিনি দুশ্চিন্তা করছিলেন। তিনি ভাবতে পারেননি, বিরাট একটি ধান ক্ষেতের মাঠ পেরিয়ে সেটলাররা মানে দুর্বৃত্তরা তাদের গ্রামেও আসবে! হয়তো তিনি তার জন্য এক কাপড়েই প্রাণ নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন আরো কিছুক্ষণ পর!
তারপর তিনি দেখলেন ৫শত বা ৬শত বা তারও অধিক সেটলার ধেয়ে আসছে তাদের গ্রামের দিকে। গ্রামের সমর্থ জোয়ান মরদ পুরুষরা রণসজ্জ্বা নিয়ে কান্তা বাদল দা কুড়াল বিয়োঙ খন্তা বা হাতে যা পেল তা-ই নিয়ে গ্রাম বাঁচাতে রুখে দাড়ানোর উদযোগ করলো। শুরু হলো চিৎকার চেঁচামেচি। পুরুষ ও নারীরা একযোগে চিৎকার দিলো, উজোও উজোও, বাঙালুনে আদাম ঘিরদন, উজোও উজোও! গ্রামের নারীরা বুদ্ধ ভগবানের নাম নেয়া শুরু করলো। কিন্তু তারপরও তারা তাদের ভবিতব্যকে ছেড়ে দিলো কপালের হাতে! এবং এভাবে গ্রামের শক্ত সমর্থ নারী ও পুরুষরা রুখে দাঁড়ালো আধ থেকে পৌনে একঘন্টার জন্য। তারা কান্তা বাদল দিয়ে ’দুর্বৃত্তদের’বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলো। রুখে দাঁড়াবো না কেন, জুলি ন উধিম কিত্তেই, কবিতা চাকমার এই কবিতাটি তো তারা পড়েনি!
কিন্তু এ কি! দুর্বৃত্তদের সামনে ’চিদিরে ভদরা’ ওরা যেন কারা? দুর্বৃত্তদের হয়তো প্রতিরোধ করা যায়! কিন্তু যাদের হাতে থাকে আইন ও শক্তির লম্বা হাত, তাদের সাথে এই নিরীহ গ্রামবাসীর কীইবা করবে? এযাবৎ বছরের পর বছর তো তারা এই শক্তির পুজো করে এসেছে ঘরে, গ্রামে, ঝাড়ে, হাটে বাজারে বা পথেঘাটে! তারা আইনী হোক বা অপ্রকাশ্য যে কোনো শক্তিই হোক!
তাই তারা, মানে গ্রামের জনগণ মানে জুম্মা খাপ্পোআ সহজ সরল পাহাড়িরা এবার ’রণে ভঙ্গ’ দিয়ে পিছাতে শুরু করলো। ’য পলায়তি স’ জীবতি’ এই মন্ত্রকে ধারণ করে তারা জীবন বাঁচানো ’ফরজ’ দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিল। তারা একান্তভাবেই নিজের প্রাণই তাই হাতে নিয়ে যেতে পারল! নিতে পারলো না সহায় ও সম্পত্তি, এমনকি ’উড়ন পিনন’ মানে পরিধানের কাপড় তা-ও তারা সঙ্গে করে নিতে পারলো না। তারা পালাতে লাগলো। শয়ে শয়ে তারা বাঁশঝাড়, ঝোপঝাড়, আসামলুদি বন, গাছবাঁশ বাগান, ঘেরা দেয়া বেড়া ডিঙিয়ে যেতে লাগল দূর পাহাড়ে! এবং তারা পিছনে দেখার সময়ও খুব কম পেল। কিন্তু যে-ই পিছনে তাকিয়ে দেখল, সে-ই দেখল, দূরে,ওই দূরে, যেখানে তাদের চিরচেনা গ্রাম রয়েছে সেখানে উড়ছে লেলিহান শিখা, বাজছে দামামা! ফুটছে বাঁশ। একইসাথে তাদের ’চিদঅ বদু’ মানে বুকের একান্ত ভেতরটা টনটন করতে লাগল। তবু তারা খুশী যে প্রাণটা তো বাঁচলো!
এভাবেই তুক্কোপুদি নিজের গ্রামে থেকে ০২ জুন সকালে পালিয়ে গিয়েছিল। তারপর এক কাপড়ে তার আশ্রয় হলো ভুইওছড়া নামে এক গ্রামের জুনিয়র স্কুলের একটি বারান্দায়। সেখানে সে আজ ৪ জুন অবধি রইল বসে জেগে ঘুমিয়ে বা চিন্তা দুশ্চিন্তা করে। এদিকে তার নাতিনরাও এসেছে তার সাথে। তাদেরকে নিয়ে কাটতে লাগল যাকে বলে উদ্বাস্তু জীবন! কেউ কি বুঝবে তুক্কোপুদির দুঃখের কথা? তার বুকের ভেতরের হুুহু চোখের পানি ছাড়া কান্না ও একরাশ শুন্যতার কথা। চোখের পানি কি সহজে আসেেএই পোড়ার জুম্মমিলা বুড়োমিলার চোখে! কিন্তু তার মন কি তবে কাঁদে না। কেঁদে ওঠেনা কি তার আবেগ! মনে কোণে কি অশ্রু ঝড়ে না তার?!
তুক্কেুপুদি শুধু একা নেই এই স্কুলে। সাথে রয়েছে তিন গ্রামের উদ্বাস্তু আরো অনেকেই।
হামলার দিন০২ জুন রাতটি তারা কাটালো। ০৩ জুন তারা ভয়ে ভয়ে কেউ যেতে চাইল তাদের গ্রামে। কী অবস্থা হয়েছে তাদের বাড়ির তা জানতে তারা সেখানে যেতে চাইল। কিন্তু ’বেলে সেন্টার’ বা ’গুজবীয় ব্রডকাস্টিং করপোরেশন’ থেকে তারা জানতে পারলো, পুলিশ নাকি জানিয়ে দিয়েছে, গ্রামে তিনজনের বেশি ঘোরাফেরা করলে এরেস্ট করা হবে। আচ্ছা জ্বালা বটে! কিন্তু, আইনী শক্তির কথা তো ফেলনা নয়! তাই তারা গ্রামে গেলে তিনজন একসাথে যায়। ভুলেও তারা ৪ জন একত্র হয়ে গ্রামের দিকে পা বাড়ায় না।
তুক্কোপুদির পরিবারে সাকুল্যে রয়েছে ৫ জন। তিনি রয়েছেন, রয়েছে তার এইচএসসি ফাইনাল দেয়া একটি পুত্রধন, সাথে তার কন্যা ও কন্যার জামাই। আর রয়েছে একটি নাতিন। তার পুত্রধন এইচএসসি পরীক্ষা দেবার পরে গ্রামে এসেছে। এসেই পরে গেল অঘটনে। কন্যার জামাই একবার তাদের গ্রামের বাড়ি দেখতে গেলেন। দেখলেন পুড়ে গেছে তাদের ঘর।কিছুই অবশিষ্ট নেই। পুড়ে গেছে ঘরের যাবতীয় সরঞ্জাম। হাড়িপাতিল তো পুড়ে গেছেই! পুড়ে গেছে বালিশ, পাটি, বুরগি, পিনন, খাদি, লুঙ্গি বা গামছা। পুড়ে গেছে খাট পালংক, খাটিয়া আলনা, ছিল ছিল একটি আয়না। তাও নেই! কিছুদিন আগে মাত্র তাদের পরিবার জমি থেকে ধান কেটে কিছু বস্তায় কিছু খোলা জায়গায় রেখে দিয়েছিল। এই ঝুমঝুম বৃষ্টির মাঝেও তুক্কোপুদির কন্যার জামাই দেখতে পেেেলন, ধানগুলো পুড়ে গেছে। কিছু আছে বটে তবে ঝেড়ে মুছে খেলে তিতাই লাগবে। তাদের জমি থেকে তারা এবার দুইশ আড়ি মানে প্রায় ১ হাজার বা তারও বেশি কেজি ধান পেয়েছিল। সব শেষ হয়ে গেছে।
কী আর করা! তিনি ফিরে এলেন ভুইওছড়া জুনিয়র স্কুলের রুমে। সেখানে তিনি খোলা জায়গায় এলিয়ে দিলেন গা। তারপর চিন্তা করা ছেড়ে দিলেন।
এবার বলি তুক্কোপুদি চাকমার আরেক মেয়ের কথা! মেয়ের নাম শিমলিতা চাকমা। তাদের গ্রামেই শিমলিতা মানে তুক্কোপুদি চাকমার কন্যার ঘর। তাদের বাড়িতে রয়েছে ৫ জন। শিমলিতা নিজে, তার তিনটি কন্যা, আর তার শিমলিতার স্বামী। তিনটি কন্যার মধ্যে একটি পড়ে ৮ম শ্রেনীতে। আরো দুইজন আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তাদের সবার বইপত্র খাতা কাগজ কলম পুড়ে গেছে সাম্প্রদায়িকতার লেলিহান শিখায়।
তারাও তাদের মা তুক্কোপুদিদের সাথে ভুইওছড়া গ্রামের জুনিয়র স্কুলের রুমে এখন আশ্রয় নিয়েছে।
আরো দূরে আদরকছড়া গ্রামে বাস করে তুক্কোপুদি চাকমার আরেক কন্যা। সে জানিয়েছে আগামী বুধবার বামে আদরকছড়া বাজারে হাটবাজার বসবে। সেখান থেকে তিনি তার মা, তার বোন ও বোন জামাই এবং তার বোন ঝি, ভাইয়ের জন্য কাপড় চোপড় কিনে এনে দেবেন। এরই মাঝে তাদের কাটাতে হবে এক কাপড়ে। কী আর করা! ভাগ্যে যা আছে তা-ই হবে! ভগবান বুদ্ধ, বনবান্তে সহায়। তিনি যদি সহায় না হন তবে তাদের অনেককেই কেন তিনটিলা বনবিহারে আশ্রয় নিতে হলো!
তাদের কষ্টের কথা কি সরেজমিনে তোমরা দেখতে যেতে চাও? তবে যাও লুঙুদু উপজেলায়। সেখানে গেলে তোমরা দেখবে। বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। সব শুনশান। পোড়াবাড়ি ও ভিটা তোমরা দেখবে। তারপর দেখবে হাঁস মুরগি গরু ছাগল চড়ছে মাঠে উঠানে। দেখার কেউই নেই!

লুঙুদু হামলা বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের সাধারণ মূল্যায়ন

তারিখঃ ০৪ জুন, ২০১৭
[ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন বিষয়ে এই মূল্যায়ন নিশ্চয়ই আমাদের ভাবতে শেখাবে এই প্রত্যাশা রেখে লেখাটি ফেসবুকে শেয়ার করলাম]
মোট ১১ টি বাংলা পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণের ০৩ জুন, ২০১৭ প্রকাশিত সংখ্যায় লুঙুদু সাম্প্রায়িক হামলা বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সাধারণ পর্যালোচনামূলক সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানে করা হয়েছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বোঝা যায়, পত্রিকার প্রতিবেদক বা রিপোর্টারগণ কেউই লুঙুদুর মূল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তথ্য সংগ্রহ করেননি। তাই দেখা গেছে, আসলে কী ঘটনা ঘটেছে তা সংগ্রহ করতে অনেকেই সোর্স হিসেবে ফেসবুককেই ব্যবহার করেছেন। এতে প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে মারাত্মক ত্রুটি দেখা গেছে।
বিশেষ করে গাজীপুরে ব্রয়লার বিস্ফোরণের একটি ছবি লুঙুদু’র ঘটনা হিসেবে ফেসবুকে কে বা কারা শেয়ার করার পরে সেই ছবি প্রতিষ্ঠিত পত্রিকায় মূল হেডিঙ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাছাড়া বেশ কয়েকটি পত্রিকা সেই ছবিটি ব্যবহার করেছে। এতে প্রশ্ন থেকে যায়, রাঙামাটি জেলার লুঙুদুতে কোনো পত্রিকারই কি কোনো প্রতিনিধি নেই? তারা কি এই গুরুতর ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারেননি? অথবা নাকি অসাবধানতাবশতঃ না হয়ে এই ত্রুটিকে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে? খেয়াল করা গেছে গাজীপুরের ব্রয়লার বিস্ফোরণের এই ছবিটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতায় লীড কলাম আকারে ছাপা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে দৈনিক আমাদের সময়ের শেষ পৃষ্ঠায়। ব্যবহার করা হয়েছে যায়যায়দিন পত্রিকার শেষ পাতায়। দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায়ও এই ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া সমকাল পত্রিকায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে বলে জেনেছি। প্রতিষ্ঠিত এই সকল পত্রিকার রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি যারা রয়েছেন তাদের নিশ্চয়ই লুঙুদু উপজেলারও প্রতিনিধি বা পরিচিত কেউ থাকার কথা। যখন এই ছবিটি পত্রিকায় ব্যবহার করা হচ্ছে তখন তারা এই ছবিটি ভ্যারিফাই কেন করেননি তা একটি বড় প্রশ্ন হয়ে থাকলো। অথবা জেনেশুনেই এই ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে কিনা তাও এখন প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে যাবে বলেই আশংকা প্রকাশ করতে হচ্ছে। হয়তোবা ঘটনার মাত্রা নিয়ে বা ঘটনা নিয়ে যাতে প্রশ্ন করা যায় সে দিকটি মাথায় রেখে এই ’কাঁচা ভুল’ যে জেনেশুনে করা হয়নি তা-ই বা কে বলতে পারে?!
পত্রিকার প্রতিবেদনের দিকে খেয়াল রাখলে বোঝা যায় ১১ টি প্রতিবেদন আলাদা আলাদা মনে হলেও মূলত, দুএকটি বাদে বাকি সকল প্রতিবেদনের মূল সূত্র বা মূল লেখক বা মূল তথ্যদাতা বা মূল তথ্য সংগ্রহকারী সম্ভবত দুইজন বা তিনজন হতে পারেন। তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করার পরে প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পরে তার দুএকটি বাক্য বা বাক্যাংশ বা প্যাটার্ন বদল করে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনসমূহ পড়ে ভাষাগত ও বানানগত নানা ভুল সহজেই চোখে পড়ে। বিশেষ করে দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রথম অংশেই এই ভুলচুক বেশি উৎকটভাবে দৃশ্যমান।
প্রতিবেদনসমূহ পড়ে আমি তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রতিবেদনসমূহ বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি। তাতে দেখা গেছে, ক্ষয়ক্ষতির বিবরণে প্রশাসনের সূত্র থেকে ১০/১২টির বেশি বলা হয়নি। তবে একটি বেসরকারী সূত্র থেকে ৮৬টির মতো ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। পাহাড়িদের পক্ষ থেকে ২০০ বা আড়াইশ বা তারও অধিক বাড়িঘর পুড়ে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে। এবং এতে প্রায় সকল পত্রিকায় জনসংহতি সমিতি লুঙুদু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিশংকর চাকমার উদ্ধৃতি দিয়ে বাড়িঘর পুড়ে যাবার সংখ্যাটি বলা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য সাধারণভাবে গতানুগতিক হয়ে থাকে। এতে সাধারণত, পুড়ে যাবার ঘটনা স্বীকার করা হলেও কম পুড়ে যাবার কথা স্বীকার করা হয়। তাছাড়া ঘটনার জন্য আদতেই দোষী কোন অংশ তা জানার পরেও জটিলতা এড়ানোর জন্য দোষী কোন অংশ তা স্পষ্ট করে বলা হয় না। এখানেও আমরা সেই প্রবণতা দেখতে পাই। অন্যতম জাতীয় একটি দৈনিকে বলা হচ্ছে ’পাহাড়ি বাঙালি সমস্যার কারণে’ ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
তবে দুএকটি পত্রিকায় উদ্ধৃতিসমূহ পাঠ করে সহজেই বোঝা যায় ঘটনার মূল অংশ কে বা কারা ছিল। এক্ষেত্রে আমরা দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মমিনুল ইসলামের বিবরণ উদ্ধৃত করতে পারি। তাকে উদ্ধৃত কওে বলা হচ্ছে- তিনি ’.. ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নয়নের লাশ নিয়ে র‌্যালি করে আসার পথে কিছু লোক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। এ সময় পুলিশসহ যৌথবাহিনী ও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’। এতে দেখা যায় মিছিল করার সময়ই কিছু লোক ’অপ্রীতিকর’ভাবে হামলা করেছে ও পাহাড়িদের বাড়িঘরে নির্বিচারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় বলা হয়েছে- ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা থাকলেও তাঁরাও নিরুপায় হয়ে পড়েন। অর্থাৎ, ঘটনা ঘটার সময়ে আইন শৃংখলা বাহিনী উপস্থিত ছিল। তবে তাদের ভুমিকা রাখার মতো পরিস্থিতি সেখানে ছিল না। কিন্তু পাহাড়ি জনগণের পক্ষ থেকে বিভিন্নজনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত খবরে আমরা দেখতে পাই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ভুমিকা নিরপেক্ষ না থেকে সাপেক্ষে যেন তারা একটি পক্ষের দিকে বেশি ঝুঁকে গেছেন!
পত্রিকাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি একপেশে ও পাহাড়ি বিদ্বেষী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা। লংগদুতে অনুষ্ঠিত সমাবেশের খবরে বক্তাদের উদ্ধৃত করে উক্ত পত্রিকায় বলা হয়েছে- ’সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার জন্যে পাহাড়ে আঞ্চলিক দলগুলো ধারাবাহিকভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়- এনিয়ে গত কয়েকমাসের ব্যবধানে পাহাড়ে তিনজন মোটর সাইকেল চালককে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। প্রতিবেদনে পাহাড়ি জনগণের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সেটলার বাঙালি সংগঠনের খবর ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে ১৪৪ ধারা জারি করার কথা একটু করে বলা হলেও প্রশাসনের আর কোনো ধরণের উদ্ধৃতি বা বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

Saturday, May 27, 2017

এক নজরে পিসিপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনঃ ২০০০ থেকে ২০১৩

আপোষহীনতার নাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। গর্বের একটি নাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়িত জনতার আশা আকাংখার প্রতীক পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র যুব সমাজের ঐক্যবদ্ধ চেতনার নাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সর্বোপরি দেশের প্রেক্ষিতে অগ্রগামী একটি সংগঠনের নাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সংগঠনের পুরো নাম বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সবার কাছে সংগঠনের পরিচয় পিসিপি এই সংক্ষিপ্ত নামে।
আজ ২০১৭ এর ২০ মে আমাদের প্রাণপ্রিয় এই সংগঠনের ২৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজ এই সংগঠন তার শক্তি ও সামর্থ্য নানাদিক থেকে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। নানা ধরণের বাধা বিপত্তি আপোষকামীতা দোদুল্যমানতার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রম করতে করতে এগিয়ে গেছে এই সংগঠন।
আজ আমরা ২০০০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কিভাবে হয়েছে তার সাধারণ সংকিপ্ত বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করবো।। আগামীতে এই লেখা আরো পূর্ণাঙ্গ করার প্রত্যাশা নিশ্চয়ই রাখি।
২০০০ সালে পালিত হয় এই সংগঠনের ১১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একইসাথে অনুষ্ঠিত হয় ১০ম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। খাগড়াছড়িতে এই কর্মসূচি পালিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ ও র‌্যালী খাগড়াছড়ির খেুজুর বাগান মাঠে(বর্তমানে উপজেলা মাঠ হিসেবে পরিচিত) হবার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সমাবেশ ও র‌্যালি করতে অনুমতি না দেয়ায় সমাবেশ স্বনির্ভর মাঠে করতে হয়। তখন এই স্বনির্ভর মাঠে আজকের মতো বাজার গড়ে উঠেনি। আজকে যেখানে বাজার গড়ে উঠেছে সেখানেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসন সমাবেশ ভন্ডুল করতে খাগড়াছড়ি পৌর এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে ১৪৪ ধারা জারি করে। প্রশাসনের মারমুখী অবস্থানের কারণে পূর্বনির্ধারিত র‌্যালি আয়োজন করা যায়নি।
উক্ত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সভাপতি ক্যহ্লাচিং মারমা(তিনি এখন বান্দরবানের থানছি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান)। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণেল কাজী নুর উজ্জামান, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের সমন্বয়ক বদরুদ্দীন উমর, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যূরোর সদস্য হায়দার আকবর খান রনো, ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সঞ্চয় চাকমা, জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক মানস চৌধুরী, সাইফ ফেরদৌস, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী কবিতা চাকমা, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জোনায়েদ সাকী, বাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি ইমাম গাজ্জ্বালী, নারী আন্দোলনের নেত্রী সাইদিয়া গুলরুখ ও পিসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক চম্পানন চাকমা। এছাড়া উক্ত সমাবেশে সংগঠনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রূপক চাকমা বক্তব্য রাখেন।
পরে ২১ ও ২২ মে দুইদিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কাউন্সিলে রূপক চাকমাকে সভাপতি ও চম্পানন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও ডমিনিক ত্রিপুরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
২০০১ সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১ যুগ পূর্তি বা ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয় ঢাকায়। ঢাকার অপরাজেয় বাংলা পাদদেশে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল ছাত্র সমাবেশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচিতে বেলুন উড়িয়ে সমাবেশ উদ্বোধন করেন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিত খান। উদ্বোধনের পরে র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে শেষ হয়। পরে বিকালে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভার থীম শ্লোগান ছিল- লাম্পট্য, নষ্টামি ও সুবিধাবাদিতার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভুমিকা ও আজকের পার্বত্য চট্টগ্রামে করণীয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রূপক চাকমা। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের সমন্বয়ক বদরুদ্দীন উমর, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ)এর আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান, ইউপিডিএফ নেতা অনিল চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী কবিতা চাকমা।
পিসিপির একযুগ পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত লিফলেটের শেষাংশে লেখা ছিল- লড়াই সংগ্রামের পথ কোন দেশে কোন কালে এত সহজ ছিলো না। আমাদের বেলায়ও এ কথা সত্য। আলোর বিপরীতে যেমন অন্ধকার থাকে, দেশপ্রেমিক সংগ্রামীর বিপরীতে তেমনি থাকে বেঈমান বিশ্বাসঘাতক।
এছাড়া এতে লেখা ছিল- যে কারো গণতাান্ত্রিক অধিকারের প্রতি পিসিপি শ্রদ্ধাশীল। একমাত্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সহনশীলতার ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসতে পারে।
এরপর ২১ ও ২২ মে দুইদিনব্যাপী ১১ তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ প্রধান প্রসিত বিকাশ খীসা। পরে মিল্টন চাকমাকে সভাপতি ও প্রমেশ^র চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।

২০০২ সালে পিসিপির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয় খাগড়াছড়িতে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদন মংশে মারমার পিতা কংজরি মারমা। মংশে মারমা ছিলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য। তিিিন ১৯৯৯ সালের ৩ ডিসেম্বর শহীদ হন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল(বাসদ-মাহবুব) এর আহ্বায়ক আ. ফ. ম. মাহবুবুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের নেতা ও লেখক শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিমা আখতার হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী করিম আবদুল্লাহ, ইউপিডিএফ নেতা অনিমেষ চাকমা। এছাড়া সংহতি বক্তব্য লিখে পাঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মেঘনা গুহঠাকুরতা।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন শেষে তারপরদিন ২১ মে নারাঙহিয়া পাইওনিয়ার ক্লাবে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। উক্ত কাউন্সিলে প্রমেশ্বর চাকমাকে সভাপতি. মিঠুন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও স্বর্ণজ্যোতি চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষনা করা হয়।
এই কমিটির নেতৃত্বে পরে শিক্ষা সংক্রান্ত ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয় এবং ভাষা সংস্কৃতি ও ইতিহাস চেতনার সংগ্রামে শরিক হোন এই আহ্বান জানিয়ে পিসিপির শিক্ষাসংক্রান্ত আন্দোলন শুরু হয়।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ২০০৩ সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত উক্ত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কর্মী ও বাংলাদেশ লেখক শিবির ঢাকা নগর সভাপতি কমরেড প্রাণেশ সমাদ্দার। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের ন্যায়সংগত আন্দোলনের প্রতি মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে সমর্থনব্যক্ত করেন। সকালে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবার পরে বিকালে মুসলিম হলে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল, ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চেতনার আন্দোলনে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দলের করণীয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব অধ্যাপক সুনীতিভূষণ কানুনগো, চবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুনিরুজ্জামান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। ইউপিডিএফএর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রবি শংকর চাকমা।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি জেলাস চাকমা। এখানে প্রসংগত বলা প্রয়োজন যে, সংগঠনের কাজে সক্রিয় ভুমিকা না রাখার কারণে ১২ তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের নির্বাচিত সভাপতি প্রমেশ্বর চাকমাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে জেলাস চাকমাকে অন্তবর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছিল।
পরে ২১ হতে ২৩ মে তিনদিনব্যপী কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অধিবেশনে মিঠুন চাকমাকে সভাপতি, অলকেশ চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও দীপংকর ত্রিপুরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত কেের ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রচারিত লিফলেটে বলা হয়- এই ১৪টি বছরে শতশত মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ, হারিয়েছি অনেক সম্ভাবনাময়ী তরুণপ্রাণ সহযোদ্ধাদের। সংগঠনের অগ্রযাত্রার পরতে পরতে মিশে আছে কান্না-হাসি-ক্ষোভ-বেদনা, উদ্দীপ্ত উচ্চারিত শ্লোগান আর গৌরবদীপ্ত ছাত্র যুব জনতার প্রতিরোধ। আমরা ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যারিকেড ভেঙেছি-উদ্দীপ্ত হয়েছি। সামনের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। অধিকার আদায়ের যে শপথ নিয়ে আমাদের রাজপথের সংগ্রাম আমরা সেই অধিকার না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। আমরা জন্মেছি বাধার প্রাচীর ছিন্ন করার জন্যই।
সংগঠনের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে ২০০৪ সালের ২০ মে পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত আলী’র লিখিত বক্তব্য পাঠ করে পড়ে শোনানো হয়। তিনি অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সমর্থ হননি। তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্য পাঠ করিয়ে শোনানোর পরে মিঠুন চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের কর্মী প্রাণেশ সমাদ্দার, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ ছাত্র কেন্দ্র’র সভাপতি রহমান মিজান, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল কান্তি দাস, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী সোনালী চাকমা, পাহাড়ি যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর চাকমা বক্তব্য রাখেন।
১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল শ্লোগান ছিল, ’জাতীয় কলংক মোচন করে অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিবাদী ছাত্র সমাজ পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের পতাকাতলে সমবেত হোন’।

আলোচনা সভা শেষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলা ভবনের মাতৃভাষা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন সন্তোষ চাকমা, দীপংকর ত্রিপুরা ও অলকেশ চাকমা।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ তার ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২০০৫ সালে পালন করে শাসকগোষ্ঠীর ভাগ করে শাসন করার কূটকৌশল মোকবেলা করে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে। খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হক। পিসিপির সভাপতি রুপন চাকমা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মৃদুল কান্তি দাস, বাংলাদেশ ছাত্র কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জনি, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি সোনালী চাকমা, ইউপিডিএফ নেতা অনিমেষ চাকমা। সভা পরিচালনা করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংর ত্রিপুরা।
এখানে বলা প্রয়োজন ২০০৪ সালের ২৪ থেকে ২৬ নভেম্বর পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৪তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল অধিবেশন চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে রুপন চাকমাকে সভাপতি, দীপংকর ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক ও রিকো চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করেে ১৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষনা করা হয়েছিল। উক্ত কাউন্সিল থেকে নতুন দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সমাপনী অধিবেশনে ইউপিডিএফএর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক প্রসিত বিকাশ খীসা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে আগামী দিনের লড়াই সংগ্রামে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পিসিপিকে অবশ্যই আদর্র্শিকভাবে সশস্ত্র হতে হবে। সকল ধরণের প্রলোভন, আত্মপ্রতিষ্ঠা ও ব্যক্তিস্বার্থপরতার উর্দ্ধে উঠে ছাত্রসমাজকে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আগুয়ান সৈনিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

২০০৬ সালে পিসিপির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্রীয়ভাবে পালন করা হয়নি। তবে নান্যাচর, কাউখালী ও কুদুকছড়ি শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
২০০৬ সালের শেষ থেকে ২০০৮ সালের শেষের দিক পর্যন্ত দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এ পরিস্থিতিতে দেশে মিছিল মিটিঙ সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় পিসিপি ২০০৭ ও ২০০৮ ও ২০০৯ সাল এই তিনবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সমর্থ হয়নি। এরই মাঝে ২০০৭ সালের ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ঘরোয়া সভার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। উক্ত ১৭তম কেন্দ্রীয় কমিটি হিসেবে বিবেচিত করে দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর ত্রিপুরা। সাংগঠনিক প্রতিবেদন পেশ করেন বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনির্মল চাকমা। সকলের উপস্থিতি ও সম্মতিতে রিকো চাকমাকে সভাপতি, অংগ্য মারমাকে সাধারণ সম্পাদক ও ক্যহ্লাচিং মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। সভা থেকে সারাদেশ থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া পাহাড়িদের ভূমি বেদখল ও বিভিন্নভাবে মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ২০০৮ সালে সংগঠনের ১৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা থেকে একটি লিফলেট প্রকাশ করে। এই লিফলেটের শিরোনাম ছিল- অব্যাহত ভূমি বেদখল-হামলা-জাতিসত্তা ধ্বংসের চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, শাসক চক্রের আন্দোলন ঠেকানোর গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না, পিসিপির পতাকাতলে সমবেত হোন, আসুন! পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লড়াই বেগবান করি।
লিফলেটে বলা হয় জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে ’প্রতিনিয়ত ভূমি বেদখলের মহোৎসব চলছে। পাহাড়িদের নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করে বহিরাগত বাঙালিদের বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গ্রেফতার, নিপীড়ন-নির্যাতন, ধর্মীয় পরিহানির মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।
২০১০ সালের ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি ঢাকাস্থ পুরানা পল্টনের তাজুল অডিটোরিয়ামে সংগঠনের ১৮তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলন থেকে অংগ্য মারমাকে সভাপতি ও সুমেন চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলা থেকে ২৪০ জন প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে বিদায়ী কমিটির সভাপতি রিকো চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের আহবায়ক মাসুদ খান, সংস্কৃতির নয়া সেতু'র লিমন, প্রগতির পরিব্রাজক দলের মাহাবুব মোস্তফা রাসেল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের পারভেজ লেনিন, বিপ্লবী ছাত্র সংঘের আশিষ, জাতীয় ছাত্রদলের আজিজুল ইসলাম, ল্যাম্পপোস্টের প্রিন্স মাহমুদ প্রমুখ। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন। উদ্বোধনী আলোচনা সভা শেষে টিএসসি সড়কদ্বীপ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের করা হয়।
২০১০ সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ২১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্রীয়ভাবে পালন না করে বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে পালন করা হয়। মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, দিঘীনালা, মহালছড়ি, কাউখালীকে অনুষ্ঠিত উক্ত সভাসমূহ থেকে সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি নগ্ন হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করা হয়। সভা থেকে বক্তাগণ সভা সমাবেশের উপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানান।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৯তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় খাগড়াছড়িতে ১১-১৩ জানুয়ারি, ২০১২ সালে। কাউন্সিলে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটিতে সুমেন চাকমাকে সভাপতি, থুইক্যচিং মারমাকে সাধারণ সম্পাদক, আপ্রুসি মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। কাউন্সিলের বিভিন্ন অধিবেশনে তৎকালীন বিদায়ী সভাপতি অংগ্য মারমা ও তৎকালীন বিদায়ী সহসভাপতি ক্যহ্লাচিং মারমা সভাপতিত্ব করেন।
কাউন্সিলের শ্লোগান ছিল- সমাজ ও জাতীয় আন্দোলনে বিভেদ সৃষ্টিকারী এজেন্টদের প্রতিহত করুন! আসুন, অধিকার আদায়ের আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের গৌরবোজ্জ্বল পতাকা উর্দ্ধে তুলে ধরি!
কাউন্সিল অধিবেশন থেকে বক্তারা বলেন, সরকার শুধু নিপীড়ন নির্যাতন করে ক্ষান্ত নয়। ছাত্র-যুব সমাজকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে মদ-গাঁজা-হেরোইন ইত্যাদি মাদক যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বক্তারা নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে পাহাড়ে সমতলে সমানতালে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
পিসিপির ২২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর(২০১১) শ্লোগান ছিল-গোলামী-লেজুড়বৃত্তি ও আত্মপ্রতিষ্ঠায় জাতির মুক্তি নেই, জাতীয় মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ছাত্র সমাজ জেগে ওঠো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের ৭নং সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত কর্ণেল কাজী নুরুজ্জামানের সহধর্মিনী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর এমরিটাস ড. সুলতানা সারওয়াতারা জামান। বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অংগ্য মারমার সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেনইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য উজ্জ্বল স্মৃতি চাকমা, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগী অধ্যাপক হাসিবুর রহমান, হিল উইমেন্স ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নিরূপা চাকমা ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শান্তিদেব চাকমা।অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিমল লংডকিরি, বিপ্লবী ছাত্র সংঘের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আশীষ শর্মা, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের জোট ভূক্ত সংস্কৃতির নয়া সেতুর কেন্দ্রীয় তথ্য প্রচার সম্পাদক আধ্যাপক জাহিদ হাসান ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক সামিউল আলম। এছাড়া সান্তাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন, প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ) ও ল্যাম্পপোষ্ট অনুষ্ঠানে সংহতি জানান।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যসিং মারমা এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুমেন চাকমা।
সমাবেশের উদ্বোধনী বক্তব্যে ড. সুলতানা সারওয়াতারা জামান বলেন, ’অনেক জায়গায় আন্দোলন হয়েছে এবং আন্দোলনে সফলতা এসেছে,আপনাদের আন্দোলন একদিন না একদিন নিশ্চয় সফল হবে। ’
২০১২ সালে সংগঠনের ২৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী খাগড়াছড়িতে পালন করা হয়। ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমা উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমেন চাকমা। উপস্থিত ছিলেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি অংগ্য মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রীনা দেওয়ান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আপ্রুসি মারমা। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা। সভায় সচিব চাকমা বলেন, শেখ হাসিনা খালেদা জিয়া আমাদের অধিকার দেবে না। আমাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। তিনি ভূমি কমিশনের বিতর্কিত কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানান।
২৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রচারিত লিফলেটের শিরোনামায় লেখা ছিল- আপোষহীন সংগ্রামের ২৩ বছর। সংখ্যালঘু জাতির উপর বাঙালি জাতীয়তা চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল ও পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করুন।
লিফলেটের এক অংশে লেখা ছিল- পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ ঐতিহ্যগতভাবে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করে না। তাদের আত্মমর্যাদাবোধ ছিল প্রবল, কখনো কারো কাছ থেকে হাত পেতে কোন কিছু চেয়ে নিত না। এ উন্নত মূল্যবোধে পচন ধরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে চলছে সুগভীর ষড়যন্ত্র।

২০১৩ সালে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ সংগঠনের দুইযুগ পূর্তি উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা। খাগড়াছড়ি নারাঙহিয়ায় খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি সালমান রহমান। সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা।
সমাবেশে ইউপিডিএফ সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে কামান, বেয়নেট উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরো বলেন, পিসিপির নাম ভাঙিয়ে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে সেজন্য ছাত্রসমাজকে সজাগ থাকতে হবে।
দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সংগঠন একটি লিফলেট প্রকাশ করে। লিফলেটের শিরোনামায় লেখা ছিল- পিসিপি প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পূর্তিতে আহ্বান, জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে আসুন, পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হই! লিফলেটের শেষে লেখা ছিল- যে শিশু একবার জেগে ওঠে, তাকে ঘুম পাড়াি গানে ঘুমানো যায় না। পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্রসমাজ জেগেছে, তাদের আর হুমকিতে কিংবা প্রলোভনে বশীভূত করা যাবে না। দালাল-প্রতিক্রিয়াশীলদের দৌরাত্ম্যে আমরা ক্ষান্ত হব না। অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে।
পরে খাগড়াছড়ির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ২২-২৩ মে দুইদিনব্যাপী ২০তম কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে থুইক্যচিং মারমাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিলাস চাকমা এবং সিমন চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২৯ সদস্য বিশিস্ট নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিদায়ী কমিটির সভাপতি সুমেন চাকমা নতুন কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
দ্রষ্টব্যঃ লেখাটি এখনো অসম্পূর্ণ। পরে আরো তথ্য সংগ্রহ করে বিশদ ও পূর্ণাঙ্গ করার চেষ্টা করা হবে।

Thursday, February 9, 2017

লি চুমিঙে ভুদঅত্তুন স্যান্ডেলঅ বাড়ি হেলঅ

চিঙ নাঙে রাজা বংশঅর আমলঅত চীন দেজঅত সিনচেঙ নাঙে এগগান শঅরঅত এগগো মেজিসটেরেত এলঅ।  তার এগগো পো এলঅ। তা নাঙান এলঅ লি চুমিঙ। ত্যা হুব সাহজবলা এলঅ। ত্যা কিজু ন ডোরেদঅ।  তারার এগজন থাউইয়্যে কুদুম এলঅ। সিবে নাঙান ওয়াঙ চি লিআঙ। ওয়াঙ চি লিআঙঅর যে এগগান বড় ঘর এলঅ সিওত অমহদঅ বেচ ভুদ থেদাক ভিলি মানজে কোআকোহি গত্তাক।
লি চুমিঙ-এ এগবার সে বড় ঘরঅত বেড়েবাত্তেই গেলঅ।  তারে দিঘিনেই ওয়াঙ-এ ‍হুব হুজি অহলঅ। ত্যা তারে কঅলঅ-’আমা এ ঘরঅত তুই বেড়েবাত্তেই ইচ্চোচ শুনিনেই হুজি উইওঙ। ইদু তুই গাই গাই ন থেচ। ত সমারে তরে রেদোত সাঙেত দিবাত্তেই এগজন মানুজ পাধেই দিম। ‘ হালিক লি চুমিঙে তারে কলঅ, না না, মত্তুন সাঙেত র লাগিবঅ। মুই গাই থেই পারিম।। মত্তুন এ গরমঅ দিনওত গাই গাই থাগত্তে হুব গম লাগিবঅ। ইদু হুব হোলামেলা জাগা আঘে। চেরোকিত্তেত্তুন বুইয়্যের বাই। বারে বুইয়্যের হেই হেই থাগত্তে হুব গম লাগিবঅ।
তাত্তুন ভজমান গাই গাই থেবার পরানে কঅর। আর তাত্তুন ভুদ চেবার হুব পরানে কঅর। সেনোত্তেই ত্যা ওয়াঙঅরে সে কধাআন কুইয়্যে।
ওয়াঙেও আর কনকিজু ন কঅলঅ।  ভুদ কধাআন তুলিবার চেইনেইও আর ন তুলিলঅআর। দিন থাগত্তে ত্যা কামমো মানজোরে দিনেই ঘরঅ গুদি থিগথাগ গুরি দিলঅ। দোলে গুদি কাজেনেই ‍ঘুম জেবার বেবস্তা গুরি দিলঅ। সে সমারে সাচ সাচ অহদে সলাত বাত্তি জালেই দিনেই ত্যা তা আরেগ্গান থাইদে ঘরঅত জেলঅগোই।
ইন্দি লি চুমিঙে সাচ সাচ অহবার পর এগগো বাত্তি লোইনেই ঘরঅ চেরোকিত্তে হানঅক্কন গাই বেড়েই চেলঅ। ঘরআনঅ চেরেকিত্তে হালি জাগা বুউত আঘে। গাজবাজঅ কম। সেনোত্তেই চেরোকিত্তেত্তুন ফাগুনঅ বুইয়্যের এজে।  রেদোত রেদোত ত্যা এগ্গান জাগাত বুজিলঅ। চেরোকিত্তে কনঅজন নেই। কনঅ সারাশবদও নেই।  আস্তে গুরি আগাজঅত চানআন উদা শুরু গুজ্জে।  লি চুমিঙঅত্তুন এক্কা এক্কা ঘুম এজঙ এজঙ গরের। ত্যা ঘরঅ ভিদিরে সুমিলঅ। তারপরে গুদিত সুমি ঘুম জেবার জাগাত গেলঅ। ঘুম এত্তে সলাত ত্যা শুনিঅঅ হাঙদক দুরঅত কি েএগ্গগো লরের। থচ থচ গরের। গমে চেইনেই এক্কা এক্কা জুনঅ পঅরঅত ত্যা দিঘিলঅ টেবিলঅত ত্যা চা হেইনেই যে কাপপো রাঘেইয়্যে সিবে গাই গাই উগুরে উদানা শুরু গুজ্জে। সিবে গাই গাই পাক হেইনেই ঘুরা শুরু গুজ্জে। ইআন অন্য মানজে গাই গাই এগ্গান ঘরঅত দিঘিলে মুজজো জেবার অক্ত অহলাক্কুন। হালিক ত্যা এককেনাও ন ডোরেলঅ। চা কাপপো হাঙদক বাদে গাই গাই ঘুরানা থামিলঅ। সে পরে জিওত পোইরাক জালা উইয়্যে সে পততো উগুরে গাই গাই উদিনেই ঘুরানা শুরু গুরিলঅ। ত্যা সিন্দি হানক্কন রিনি চেই থেলঅ।  পোইরাকঅ পততো গুদি উগুরেন্দি হাক্কে ইন্দি হাক্কে উন্দি গাই গাই বেড়ানা শুরু গললঅ।
লি চুয়ােঙে সিআন চাআদে চাআদে কি গললঅ, সিন্দি চেইনেই চোক রাঙা গুরি কঅলঅ, ‘ভুদতো, তুই দ ভজমান বেচ গরর। মরে তুই ডর লাগেবার চত্তে, মরে তুই চিনঅচ? মুই কনঅ ভুদ ন ডোরাঙ সিআন তুই হবর ন পাচ?’ ইআন কোইনেই ত্যা বিচ্চোনওত্তুন একফাল দিইনেই ভুদতোরে ধুরিবাততেই গেলঅ।
ইন্দি ত্যা পিননেদ্যা কাবর চুবর কক্কে হুলি জিএগোই সিআনঅ মুক্কে তার হেআলঅ নেই। ত্যা কিএত কনঅ কাবর চুবর ন পিনিনেই ভুদতোরে ধরার চেরেত্তা গললঅ। ত্যা পোইরেক পততো মুক্কে জেইনেই ভুদতোরে ধুরিবাত্তেই গেলঅ। হানক্কন বাদে পেইরেকঅ পততো টেবিলঅত গাই গাই বুজিলঅ। ত্যা সে পোইরেকঅ পততো ধরা গেলা।
ধরা জাদে সলাত ত্যা থারেলঅ তারে কননা জানি তা বাঙ গালঅত এগেগো বড় ড়ুরি চুওর মারিলঅ। ভুদতো তারে চুওর মাজ্জে ভিলি ত্যা থারেলঅ। চুওর হেবার পরে ত্যা থারেলঅ, তা কিএত কনঅ কাবর চুবর নেই । তরাতাঙরি ত্যা বিচ্চোনওত্তুন কাবর চুবর আনিনেই পিনিলঅ। তারপর ত্যা ঘর দোর হুলিনেই বড়ে গেলঅ।  কুরে যে কামমো মানজো ঘর এলঅ তারে জাগেলঅ। তাত্তুন ত্যা এগগো বাত্তি আনিলঅ। বাত্তিবো জালেনেই ত্যা তা স্যান্ডেলআনি তোগা শুরু গুরিলঅ। হালিক এগ্গান স্যান্ডেল প্যালেও ত্যা আরেগ্গান স্যান্ডেল তোগেই ন পেলঅ।
রেত্তোবো ত্যা আরঅ বাত্তি মারেনেই ঘুম গেলঅ।  ভুদতো হালিক আর তা মুজুেঙে ভেদা ন দিলঅ আর। ত্যা বিন্নে পঅর অহয় সঙ ঘুম গেলঅ।
ঘুমঅত্তুন উদিনেই ত্যা গুদিবো দোলে রিনি চেলঅ। ত্যা দিঘিলঅ গুদিবো উগুরে চালঅ এক কিত্তে েএগগো কানা স্যারে তা স্যান্ডেলআন ধুলি ধুলি আগে। আর তা কুরে জে কামমো মানুচচো এলঅ ত্যা হেআল গুরিলঅ, লি চুমিঙঅ বাঙ গালঅত স্যান্ডেলঅ বারি ছবি ধুক্কেন লাগি আগে। তারা বুজিলাক, ভুদতো রেদো মাই লি চুমিঙঅরে তা নিজঅ স্যান্ডেলওই বাড়ি মাজজে।
মনেঅয় ভুদতো তারে কিচচু গুরি ন পারিনেই স্যান্ডেলঅ বাড়ি দিইনেই সে ঘরঅত্তুন জনমঅত্তেই ধেই জিএগোই। সে পরে আর সে ঘরঅত ভুদ দেঘা নহ জাই আর।

তুরস্ক দেজঅর পজ্জন বা কিত্তেএ:: তিনআন প্রশ্ন’র জ্যোপ

নিবেদিত কল্যাণকামী শাসকই হলেন যোগ্য শাসক 

কোনো এক দেজঅর এগজন রাজার কধা।  রাজা ভালক বজর ধুরি রেজ্য শাজন গুরি ইচ্চে।  ইক্কো ত্যা বুড়ো ওই জিএগোই। আগঅ ‍ধুক্কেন মানজোর সুখ দুগ চেই ন পারে। নানান জনে নানান সুখ দুগ সমস্যার কধা লোইনেই এজন। তারার সমচস্যা চেবার মতন মন ত্যা আর দিই ন পারে আর। ইন্দি ত্যা ইক্কো চোঘেনদিও কম দ্যাঘে। কানএনদিও কম শুনে। কিইএতঅ আগঅ ধুক্কেন বল নেই। হানক্কন বোই  থ্যালে গাই গাই বল পঅরে। কিইএআন বলবলা ন পাই আর। ইঙিরি ত্যা আর রেজ্য শাজন গুরিবার মন দিই ন পারে। ত্যা ভালক দিন ধুরিনেই মনে মনে চিদে চাত্তা গুরিলঅ,এবারা রেজ্য শাজন তাজন বাদ দিইআ পুরিবঅ। তাআ তিননো পো আঘঅন। তারাত্তুন কারে রেজ্যর দায়িত্ব সারি দি পারা জেবঅ সিআন লোইনেই ত্যা চিদে গরা শুরু গুরিলঅ।  ত্যা মনে মনে কঅলঅ, তিননো পো’ওশা ভিদিরেত্তুন েবেগঅত্তুন বেচ গেআনি গুনি দায়িত্ববান একজনঅ আহদঅত রেজ্যর শাজন সারি দি পারিলে হুব গম ওলুন। বুড়ো কালঅত ঝারঅত দূরঅত জেইনেই ধরমঅ করমঅ গুরিনেই নিরিবিলি গুরি দিন কাদেই দিই পাললে হুব গম লাগিলু। 
ইআন চিদে গুরি ত্যা থিগ গুরিলঅ, তা তিননো পোওরে বুদ্দির পোরিক্কে লোও পুরিবঅ।  পোল্লেম ত্যা তা দাঙর পোওবোরে  দাগিলঅ।  তা দাঙর পোওবো বিন্নে মাদান তা বাবঅ ঘরঅত এলঅ। রাজা তা পোওবোরে কলঅ, ; পুত, মুই দ বুড়ো ওই জিওঙগোই।  তিনকাল দিগিলুঙ। আরঅ যা আঘে সিআন দ্যাক্কে দ্যাক্কে জেবঅগোই। মর বিদেয় লবার অক্ত ইচ্চে। মুই চাঙঅত্তে তোমা তিনজনঅ ভিদিরেত্তুন জে পোওবো বেচ গেআনি গুনি দায়িত্ববান তারে এই রেজ্যর ভার দি দিম। ‘ 
কধাআন শুনিনেই দাঙর পোওবোত্তুন হুব রাজা অহবার ধারাচ অহলঅ। ত্যা তা বাবঅরে হুব কোচ পানাআহ দেঘেলঅ। 
তা বাবে তারে কলঅ, পুত, মর তিনআন কধার জ্যোপ তত্তুন দিআ পুরিবঅ। জুনি তুই এই কধার জ্যোপ ধগেধাগে দিই পারঅচ, তোইলে মুই মনে গুরিম তুই রেজ্যর ভার লবার মতন জোগগো আঘচ। 
দাঙর পোওবো কলঅ, বাবাআ, তুই ত কধাআন পুজোর গুরি পারিবে। 
রাজা তারে কঅলঅ, আচ্চা কোই চাআদে, পিত্তিমি ভিদিরে চেরোকিত্তেন্দি সুবুল পিঙুল কী জিনিচ আঘে? আর বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিই পারেদে জিনিচচান কি? সে সমারে বেগঅত্তুন বেচ দোল জিনিচ পিত্তিমি ভিদিরে কুবান? 
দাঙর পোওবো কলঅ, বাবাআ, আ সিআন হুব উচ্চো কধা। ত প্রশনআন দ হুব উচ্চো! বেগঅত্তুন বেচ সুবুল পিঙুল জিনিচচ্চান অহলঅদে দ তুই! ত ধুক্কেন সুবুল গম ভালেদি চাউইয়্যে আ কন্না এ পিত্তিমিত আঘে!?
আর বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিইনেই জেই পারেদে ত ঘোড়াবো।  বেগঅত্তুন বেচ দোল অহলঅদে আমা মাআ, মানে ত মোককো। 
দাঙর পোওবোর জ্যোপ শুনিনেই রাজা তারে কিজু ন কলঅ। ত্যা কলঅ, থিগ আঘে তুই জাআ। 
সে পরে রাজা তা মাঝ্যাঙ পোওবোরে দাগি পাদেলঅ।  তারেও ত্যা দাঙর পোওবোরে জিআনি কুইয়্যে সিআনি কলঅ। তারপরে তারে সে তিনআন কধার জ্যোপ পুজোর গুরিলঅ। 
প্রশনআনি শুনিনেই তা মাঝ্যেঙ পোওবো তা বাবঅরে কলঅ। বাবাআ, ত কধার জ্যোপ দ হুব উচ্চো। তুই দ হবর পাআচ বাবাআ, মুই ওলুঙ্গে এ রেজ্যর বেগততুন বেচ গেআনি, গুনি আ দায়িত্ববান বুঝিয়ে সুঝিয়্যে।  সেনোত্তেই পিত্তিমি ভিদিরে মুই-ই ওলুঙগে চেরোকিত্তেন্দি সুবুল পিঙুল মানুচচো।  আর বেগঅত্তুন চে ধাবা দি পারেদে মঅ শিগের গুরিয়্যে কুগুরবো। তারে তুই বানা শিগেরবো দেঘেই দিলে অহয়, ত্যা ধাবা দিইনেই ঝাবাদাত শিগের ধুরি আনি পারে। তর তিন নম্বর প্রশনঅ আনঅর জ্যোপ অহলদে, ম মোককো অহলঅদে এই পিত্তিমির বেগঅত্তুন বেচ দোল মিলেবো।
রাজা তা মাঝ্যাঙ পোওবোর জ্যোপ শুনি কঅলঅ, থিগ আঘে পুত, ম প্রশনঅর জ্যোপ তত্তুন দ পেলুঙ। তুই ইক্কো বারে জা।  আর ত চিগোন পোওবোরে ম ঘরঅত এবাত্তেই কঅ। 
তা মাঝ্যাঙ পোওবো হুব আহঝি রুজি গুরি বাড়ে গেলঅ। ত্যা তা গুরো ভেইবোরে তা বাবঅ ঘরঅত দি পাধেলঅ। 
রাজা তা চিগোন পোওবোরে জেএ সে তিনআন কধার জ্যোপ ধুরিলঅ। 
তা পোওবোরে ত্যা কলঅ, মুই ত দি ভেইওরে জেএ তিনআন কধার জ্যোপ পুজোর গুজ্জোঙ। তারাত্তুন বেচ দোলে থিগগুরি  জুনি তুই জ্যোপ দিই পারঅচ, তোইলে তরে মুই রাজা বানেম। 
তারপর রাজা তারে সে তিনআন কধা পুজোর গুরিলঅ। 
তা চিগোন পোওবো তিনআন প্রশনঅ শুনিনেই হানক্কন মন দিনেই ভাবি চেলঅ।  তারপরে ত্যা তা বাবঅরে কলঅ, বাবাআ, এ পিত্তিমিত বেগঅত্তুন বেচ সুবুল পিঙুল জিনিচ অহলঅদে আমা হেতহিত্তিআনি, আমি যে চাষবাস গুরি সে জাগাআনি।  হেতহিত্তি গুরি আমি জে ফজল পেই সিআনি হেইনেই আমি বাজি থেই। সেনোত্তেই সিআনি অহলঅদে সুবুল পিঙৃল। 
তা বাবে তা বেগঅ চিগোন পোওবোত্তুন তার দার্শনিক কধার জ্যোপ শুনিনেই হুব হুজি অহলঅ। ত্যা কলঅ, বাআ বাআ, তুই দ হুব দোলে ম কধার জ্যোপ দি পাজ্জোচ। আচ্চা, তোইলে তা পরে কধার জ্যোপ দ্যা চাঙ। 
তা চিগোন পোওবো কলঅ, পিত্তিমিত বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিইনিই জেই পারেদে আমা চোক আর আমা মনআনি। আমা চোঘোন্দি আমি জিআন দিঘি সিআন ঝিমিদঅত দিঘি। আর আমা মনআনদোই আমি জিদু মনে কঅয় সিদু জেএই পারি। 
আর তনি নম্ব জ্যোপ অহলাদে, আমা পিত্তিমির বেগঅত্তুন বেচ দোল জিনিচচ্চান অহলদে আমা এই মোন মুড়ো সরা গাঙ নাল গাজ বাজে ঘিরি থিইয়্যে এই জাগাগান, আমা পিত্তিমিআন। 
আমা এই জাগাগানঅত বেক্কানি আঘে। রেত আঘে দিন আঘে। তারা আঘঅন, চান আগে, বেল আগে, জুনি আঘঅন, আঘঅন নানা বাবত্যা পেক পুক জুক অহরিঙ চঙরা আরঅ কতকিজু।  গোদ বজরবো ধারাদেঘোলি বারিজে, গরমকাল, জারকাল এজে। ইআনি বেক্কানি আঘে কিনে পিত্তিমিআন হুব দোল লাগে, পিত্তিমিআনঅত জনম ধুরি বাজি থেবার পরানে কঅয়। পিত্তিমি আন ইরিই জেবার পরানে ন কঅয়। 
বুড়ো রাজা তা চিগোন পোওবো কধা শুনিনেই হুব গম পেলঅ। ত্যা বুজিলঅ, তা এই চিগোন পোওবোই এ রেজ্য দোলেদালে চালেই পারিবঅ। তারপর ত্যা সময় গুরি রেজ্যর উজির নাজির পাইক পেয়াদা সইন্য সেনাবদি বেককুনোরে দাগিনেই তা চিগোন পোওবোরে তা রেজ্যর রাজা বানেলঅ। 
আর তা বাগি পোউনোরে ত্যা জাগা জুমি তেঙা পোইঝে দিলঅ। তারাও জ্যাএন নিজঅর ভালেদ গুরি পারঅন সে বেবস্তা গুরিলঅ। 
সে পরে ত্যা সুগে মুরি গেলঅ।
আর ইন্দি তা চিগোন পোওবো রেজ্যর বেগ প্রজাউনো সুখ দুঘঅর ভাগ লোইনেই বেগঅরে কোচ পেইনেই রেজ্য শাজন গরা ধুরিলঅ। দিনে দিনে তার শাজনঅর নাঙ পিত্তিমির চেরোকিত্তে ফুলঅ তুমবাচঅ ধুৃক্কেন সিদি পুরিলঅ। 

## পজ্জন বা কিত্তেএ’র নীতিকধা- যোগ্য উত্তরসূরী থিগ গুরিবাত্তেই উত্তরসূরীরে জোগ্য গুরিবার চেরেস্তা গরা পরে। 









Friday, December 2, 2016

জেনি ফন ভেস্টফালেন- সমাজ পরিবর্তনের দর্শন প্রতিষ্ঠার প্রধান অংশীদার এবং কার্ল মার্কসের সহধর্মিনী


তারিখঃ ২ ডিসেম্বর, ২০১৬
জেনি ফন ভেস্টফালেন বা জেনি মার্কস। তিনি কার্ল মার্কসের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। কার্ল মার্কসের সহধর্মিনী হিসেবে তিনিও সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লবী দর্শনকে তাত্ত্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রুশিয়ার অভিজাত পরিবারের সন্তান হিসেবে উত্তর জার্মানের সলসভেদেলে শহরে ১৮১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী তাঁর জন্ম। মৃত্যু হয় ১৮৮১ সালের ২ ডিসেম্বর। ৬৭ বছর পর্যন্ত তিনি বেঁচে ছিলেন। সাত সন্তানের জননী হয়েছিলেন। কার্ল মার্কসকে বিয়ে করার পরে তাঁর নাম হয়ে যায় জেনি মার্কস। তাঁর পুরো নাম জোহানা বার্থা জুলিয়া জেনি ফন ভেস্টফালেন।

১৮১৬ সালের দিকে জেনি মার্কসের পিতা ট্রিয়ার শহরে চলে আসেন। সেখানে কার্ল মার্কসের পিতা ও জেনি ফন ভেস্টফালেনের পিতার মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। কার্ল মার্কস তখন ১৩ বছরের বালক।  সেই বয়সেওি তার চোখেমুখে ছিল বিদগ্ধতার ছাপ।  জেনি মার্কসের বাবা ব্যারন লুডভিগ ফন ভেস্টফালেন তাকে নিয়ে হাঁটতে বেরোতেন। এসময় তিনি কার্ল মার্কসকে দান্তে, হোমার, গ্যেটে, শেকসপীয়ারে লেখা থেকে উদ্ধৃতি শোনাতেন। তাঁরা ইউরোপের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতেন। লুডভিগ ভেস্টফালেন কার্ল মার্কসকে ফ্রেঞ্চ ইউটোপীয়ান সমাজতান্ত্রিক সেইন্ট শিমনের লেখা পড়তে দিতেন। বস্তুত, কার্ল মার্কস যে সমাজ পরিবর্তনের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট হন তার মূলে ছিল জেনির পিতা লুডভিগ ফন ভেস্টফালেনের এই ভূমিকা। এবং কার্ল মার্কস যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পিএইচডি থিসিস লেখেন তখন তিনি থিসিসের মুখবন্ধে ব্যারন লুডভিগ ভেস্টফালেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জেনি মার্কসও তার পিতার উত্তরাধিকার বহন করেছেন। তিনিও ছিলেন বিদুষী মহিলা। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর জানাশোনা ও লেখাপড়া ছিল। তিনি একই সাথে ছিলেন আকর্ষনীয়া- ট্রিয়ার শহরে বহু যুবক তরুণের স্বপ্নসাথী। 
তবে হয়তো বা সেই সময়ের পরিস্থিতিতে ইউরোপের মত মুক্ত সমাজব্যবস্থার দেশেও কার্ল মার্কসের মত ভুমিকা জেনি মার্কস নিতে পারেননি। অথবা, কার্ল মার্কসকে  তার আরাধ্য কাজের সুযোগ করে দিয়ে তিনি শ্রমবন্টনের নিয়ম অনুযায়ী প্রধানত গৃহিণীর কাজে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন স্বেচ্ছায়। নতুবা তিনিও হতে পারতেন বিদুষী কোন লেখিকা অথবা নারী দার্শনিক!
 জেনি মার্কসের মত একজন নারীকে কার্ল মার্কস স্ত্রী হিসেবে পেয়েছিলেন বলেই হয়ত কার্ল মার্কস হতে পেরেছিলেন একজন সমাজ পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক দার্শনিক ও বিপ্লবী! জেনি মার্কসের মেয়ে এলিনর মার্কস এভেলিং তার মা’কে স্মরণ করে লিখেছিলেন, স্ত্রী জেনী মার্কসের সহায়তা না পেলে কার্ল মার্কস কোন কিছুই করে যেতে পারতেন না।
আর কার্ল মার্কসও জেনি মার্কসকে ছাড়া ছিলেন যেন হালবিহীন বা পালবিহীন নৌকার মতো। ম্যারী গ্যাব্রিয়েল ’লাভ এন্ড ক্যাপিটাল: কার্ল এন্ড জেনী মার্কস এন্ড বার্থ অব এ রেভ্যলুশন’ বইয়ে কার্ল মার্কসের জীবনে জেনি মার্কসের অপরিহার্যতা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছিলেন, ’ তিনি(জেনি মার্কস) কার্ল মার্কসের শুধুমাত্র একজন বন্ধু এবং প্রণয়ী বা প্রেমিকাই ছিলেন না। তাদের দু’জনের মধ্যে পরিণয় বন্ধনের ১৩ বছর আগে থেকেই জেনি মার্কস ছিলেন কার্ল মার্কসের বিশস্ত  বৌদ্ধিক আলোচনার সহসাথী। জেনি মার্কসকে ছাড়া কার্ল মার্কসের হৃদয় এবং বুদ্ধিজ্ঞানও কাজ করত না(Neither his heart nor his head functioned without her.) ) ।
জেনি মার্কসের সাথে কার্ল মার্কসের ছোটকাল থেকেই পরিচয় ছিল। জেনি মার্কসের ছোটভাই এডওয়ার্ড ফন ভেস্টফালেনের সাথে কার্ল মার্কসের বন্ধুত্ব ছিল। কার্ল মার্কস জেনী মার্কসের চেয়ে বয়সে ৪ বছরের ছোট ছিলেন। ১৮৪৩ সালের ১৯ জুন তারা দু’জন ট্রিয়ারের কাছে ক্রোয়েটসনাখ শহরে খ্রিস্টান বিবাহ রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন। এর আগে ১৮৩৬ সালের দিকে তারা গোপনে বাগদান সম্পন্ন করেন। ১৮৪৩ সালে যখন তাদের বিয়ে হয় তখন জেনি মার্কসের বয়স ছিল ২৯ বছর আর কার্ল মার্কসের বয়স ছিল ২৫ বছর। 
বিয়ের পরে তারা প্যারিসে চলে যান। সেখানে ১৮৪৪ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের প্রথম সন্তান জেনিচেন বা জেনী জন্ম নেন। পরে প্যারিস থেকে জেনি ট্রিয়ারে তার মায়ের কাছে চলে যান। সেখান থেকে তিনি কার্ল মার্কসকে কয়েকটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে দেখা যায় তিনি তাদের ভবিষ্যত সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করছেন। ১৮৪৪ সালের ২১ জুন কার্ল মার্কসকে তিনি লেখেন- 
প্রিয়তম আমার, প্রায়ই আমি গভীরভাবে আমাদের কাছের এবং দূরের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি। এবং এখন যেভাবে নিশ্চিন্ত হাসিখুশী জীবন কাটাচ্ছি তার জন্য আমাকে মূল্য দিতে হবে নিশ্চয়ই। সম্ভব হলে আমাকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিও যেন আমি এভাবে চিন্তিত না হই। সবাই একটা নিশ্চিত আয়ের পথ খুঁজে নিতে বলে।  এসকল পরামর্শ শোনার পরে আমি একগাল হাসি দিয়ে বা গালে হাত দিয়ে বা পরনের কাপড় নেড়েচেড়ে বা মাথার টুপি নিয়ে খেলা করে বা চুল নাড়তে চাড়তে সাধারণ উত্তর দিয়ে যাই। কিন্তু এরপরে আমার বুকে যে ছটফটানি ধরে এবং ভবিষ্যত চিন্তা আমাকে যেভাবে উদ্বিগ্ন করে তা দেখার তো আর কেউ থাকে না। 
(Dearest heart, I am often greatly worried about our future, both that near at hand and later on, and I think I am going to be punished for my exuberance and cockiness here. If you can, do set my mind at rest about this. There is too much talk on all sides about a steady income. I reply then merely by means of my rosy cheeks, my clear skin, my velvet cloak, feather hat and smart coiffure. That has the best and deepest effect, and if as a result I become depressed, nobody sees it.)
তবে এরপরই তিনি একই চিঠিতে কার্ল মার্কসকে লেখালেখি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি লেখেন-
 শুধুমাত্র বিদ্বেষাত্মক ও খিটখিটে টাইপে লেখালেখি করো না। তুমি জানো, তোমার লেখা কতটা পরিমাণে প্রভাবিত হয়ে থাকে। বস্ত যা তা-ই লিখো এবং গভীরে গিয়ে লিখো অথবা সরস হাল্কাচালে লেখার চেষ্টা করো।
 (Only don't write with too much rancour and irritation. You know how much more effect your other articles have had. Write either in a matter-of-fact and subtle way or humorously and lightly.)
 ১৮৪৪ সালের আগস্ট মাসে এঙ্গেলসের সাথে কার্ল মার্কসের দেখা হয় এবং তারা বুদ্ধিবৃত্তিক দার্শনিক আলোচনা চালিয়ে যান। পরে তাদের এই বুদ্ধিবৃত্তিক বৌদ্ধিক বন্ধুত্ব ইতিহাসে অমর হয়ে যায়। এঙ্গেলসের সাথে আলাপ হবার পরে তারা দুইজনে মিলে জার্মানীর সাইলেসীয় তাঁতীদের সংগ্রামে ভুমিকা রাখেন। জার্মানীর সরকার এতে ক্ষুব্ধ হয় এবং কার্ল মার্কসকে প্যারিস থেকে বহিস্কার করতে ফ্রান্স সরকারকে অনুরোধ জানায়।  ১৮৪৫ সালের প্রথম দিকে কার্ল মার্কসকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্যারিস ছাড়তে বলে ফ্রান্স পুলিশ।
ফ্রান্স সরকার জেনী মার্কসকে আরো কিছুদিন থাকতে অনুমতি দেয়। পরে জেনি মার্কস ঘরের আসবাবপত্র সম্পত্তি সরঞ্জাম বিক্রি করে ব্রাসেলসে যাওয়ার টাকা সংগ্রহ করেন এবং ব্রাসেলসে কার্ল মার্কসের কাছে চলে যান। ব্রাসেলসে তারা চরম অর্থকষ্টে পড়েন। ১৮৪৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের দ্বিতীয় সন্তান লরা মার্কসের জন্ম হয়। 
১৮৪৬ সালে ব্রাসেলসে কার্ল মার্কস ও এঙ্গেলস কম্যুনিস্ট যোগাযোগ কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ইউটোপীয় সমাজতন্ত্রীদের ভ্রান্ত দর্শনের বিরুদ্ধে লেখালেখি চালিয়ে যান। এসময় জেনী মার্কস কার্ল মার্কসের লেখালেখিতে সহায়তা করেন। তিনি কার্ল মার্কসের হিজিবিজি লেখাগুলো সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখে দিতেন। এছাড়া অন্য কাজেও তিনি মার্কসকে সহায়তা করতেন। 
পোল লাফার্গ তাঁর কার্ল মার্কস স্মরণে প্রবন্ধে সম্পর্কে লিখেছেন- কার্ল মার্কসের ”স্ত্রীর বুদ্ধিমত্তা ও ভালমন্দের বিচারবোধ সম্পর্কে এতখানি শ্রদ্ধা ছিল মার্কসের যে সকল পান্ডুলিপিই তিনি স্ত্রীকে দেখাতেন এবং তাঁর মতামতকে অপরিসীম মূল্য দিতেন। ১৮৬৬ সালে একথা তিনি নিজেই আমাকে বলেছিলেন। ছাপাখানায় পাঠানোর আগে স্বামীর পান্ডুলিপিগুলি শ্রীমতি মার্কস নিজের হাতে কপি করে দিতেন।
মদনমোহন গুহ তাঁর ’কার্ল মার্কসের জীবনে জেনি’ বইয়ে লেখেন- তাঁর(জেনি মার্কস) সময় কেটে যেতো মার্কসের লেখা প্রবন্ধগুলি কপি করতে করতে। তাতে তিনি আনন্দ পেতেন। পেতেন সান্ত¡না। তদুপরি প্রবন্ধগুলি কপি করতে গিয়ে সেগুলি তাঁর পড়া হয়ে যেতো। বেশ ভালভাবেই এরফলে বিশ্বের তদানীন্তন রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল হবার সুযোগ পেতেন।(পৃ: ৫৯)
১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে তাদের তৃতীয় সন্তান এডগারের জন্ম হয়। তাদের এই সন্তান ১৯৫৫ সােেল ৮ বছর বয়সে মারা যান। 
১৯৪৮ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখ প্রুশিয়া সরকারের অনুরোধে বেলজিয়াম সম্রাটের স্বাক্ষরে  কার্ল মার্কসকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্রাসেলস ছেড়ে যেতে বলা হয়। ব্রাসেলসের পুলিশ তাকে আটক করে পুলিশ হাজতে রেখে দেয়। জেনি মার্কস  থানায় তার খোঁজ নিতে গেলে পুলিশ তাকেও থানায় আটকে রাখে। পরদিন তাদের মুক্তি দেয়া হলেও তাদেরকে ৫ মার্চের মধ্যে ব্রাসেলস ছেড়ে প্যারিসে চলে যেতে হয়। যাবার সময় তারা কোন কিছুই নিয়ে যেতে পারেননি। জেনি মার্কস তাঁর এক স্মৃতিকথায় এ বিষয়ে লিখেন- চলে আসার সময় দিনটা ছিল ঠান্ডা, মেঘে-ঢাকা, বিরস আর বাচ্চাদের শরীর গরম রাখা শক্ত হয়ে পড়েছিল। এদিকে আমার কোলের বাচ্চার বয়স তখন মাত্র এক বছর। 
 প্যারিসে কিছুদিন থাকার পরে সেখানেও পুলিশ এসে তাদের প্যারিস ছাড়তে বলল। এরপর তারা চলে যান জাার্মানে। 
১৯৪৮(৪৯?) সালের মে মাসের দিকে জেনী ৪র্থ বারের মত অন্তঃস্বত্বা হন। বিপ্লবী কাজের জন্য জার্মান থেকে  কার্ল মার্কস ও এঙ্গেলসকে বিতাড়িত হতে হলো। এবার আরকেবার কপর্দকশুন্য অবস্থায় জেনী মার্কসকে ঘর ছাড়তে হলো। তাকে গর্ভবতী সন্তানসহ আরো তিন সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিতে হলো ট্রিয়ারে তার মায়ের কাছে। চতুর্থ সন্তান হেনরী এডওয়ার্ড গুইডো ১৯৪৯ সালের সেপ্টেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে একবছর না হতেই তাদের এই সন্তান মারা যায়। 
১৮৪৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জেনি মার্কস ও কার্ল মার্কস লন্ডনে আসেন। কয়েকদিন হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে থাকার পরে তারা সোহো নামক এলোকার ৬৪ নং ডিন স্ট্রীটের একটি বাড়িতে উঠেন। এসময় তাদের পরিবারে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কাল চলতে থাকে। 
১৮৫০ সালের ২০ মে জেনি মার্কস ফ্রাঙ্কফুর্টের জনৈক ভাইডেমারের কাছে একটি মর্মস্পর্শী চিঠি লিখেন। এই চিঠিতে বোঝা যায় তারা কী নিদারুণ অর্থকষ্টে জীবন অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু তারপরেও জেনী মার্কস বিপ্লবকে বিসর্জন দেয়ার কথা চিন্তা করেননি। ভাইডেমায়ারের কাছে তিনি লেখেন- ’ ... কার্লের প্রাপ্য কিছু পারিশ্রমিক পেয়ে থাকলে কিংবা ভবিষ্যতে পেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা যেন আমাদের পাঠিয়ে দেন। টাকাটা আমাদের ভীষণ, ভী-ষ-ণ দরকার।’
আর্থিক অভাব অনটনের কথা লেখার পরে তিনি লেখেন- মনে করবেন না এইসব তুচ্ছ ছোটখাটো দুঃখ দুর্দশা, ভাবনা চিন্তা আমার মনোবল নষ্ট করে দিয়েছে। আমি খুব ভালো করেই জানি যে আমাদের সংগ্রাম বিচ্ছিন্ন কোন ব্যাপার নয়। ...। সত্যি সত্যি যা আমার আত্মাকে কষ্ট দিচ্ছে এবং হৃদয়কে রক্তাক্ত করছে, তা হলো এই চিন্তা যে, ছোট খাটো ব্যাপারের জন্য আমার স্বামীকে কতোই না কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, আমার পক্ষে কত সামান্য পরিমাণেই না তার সাহায্যে আসা সম্ভব হচ্ছে, এবং যিনি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে অসংখ্য লোকের উপকার করে এসেছেন, তিনি নিজে কত না অসহায়! কিন্তু তাই বলে, প্রিয় হের ভাইডেমার, ভুলেও এ কথা ভাববেন না যে, আমরা কারো কৃপাপ্রার্থী। (সূত্রঃ কার্ল মার্কস মানুষটি কেমন ছিলেন, জাকির তালুকদার, পৃ:১০৩, ঐতিহ্য, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫)
এ সময় তাদের সংসারের টানাটানি থাকলেও তাদের বাড়িতে যখন কেউ আসতেন তাদেরকে জেনি নিজের সাধ্যমত আপ্যায়ন করার চেষ্টা করতেন। পোল লাফার্গ তার কার্ল মার্কস স্মরণে প্রবন্ধে লিখেছেন- সকল দেশের বহু শ্রমিকই শ্রীমতি মার্কসের আতিথেয়তায় ধন্য হয়েছেন। 
সংসারের টানাটানি সামাল দিতে তিনি হল্যান্ডে মার্কসের মামা লিওন ফিলিপসের কাছে সহায়তা চান। কিন্তু ফিলিপস সহায়তা দেননি। এসময় তিনি খুব ভেঙে পড়েন। 
তাদের পঞ্চম সন্তানের নাম জেনি ইভালিন ফ্রান্সিস। ১৮৫১ সালের ২৮ মার্চ তার জন্ম হয়। ১৮৫২ সালের ১৪ এপ্রিল এক বছরের কিছু বেশি সময় বেঁচে থেকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।  
১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ৬ষ্ঠ সন্তান জেনি জুলিয়া এলিযেনর জন্মগ্রহণ করেন। ৭ম সন্তানটি ১৮৫৭ সালের ৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করে এবং মারা যায়। সেই সময়গুলোতে  অনেক সময় তারা তাদের পরিবারের জন্য দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগাড় করতে পারতেন না। পরে তার এক বান্ধবী লীনা শ্যোলা তার বাড়িতে আসেন। জেনির দুরবস্থা দেখে তিনি ব্যথিত হন এবং জেনিকে কিছু সহায়তা করেন। পরে ১৯৬০ সালে তারা আবার অর্থকষ্টে পড়েন। কার্ল মার্কস আমেরিকার ট্রিব্রিউন পত্রিকায় লেখালেখি করে যে আয় করতেন তা কমে যায়। ঠিক সেই সময়ে জেনি মার্কস বসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। রোগের কারণে তার দুই চোখ নষ্ট হতে বসেছিল। 
অপরদিকে তার মেয়েদেরও বয়স বাড়ছিল। বয়সের সাথে সাথে তাদের নানা আনুষঙ্গিক খরচও বেড়ে যাচ্ছিল। অথচ সে অনুযায়ী আয় উপার্জন ছিল না। তবে ১৯৬৪ সালের দিকে কার্ল মার্কসের মামা/কাকা মারা গেলে তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে কিছু সম্পত্তি ও অর্থ পান। এ সময় তারা কিছুটা অনটন থেকে রক্ষা পান। একইসাথে এঙ্গেলসও ১৯৫০ থেকে তাদের পরিবারকে মাঝে মাঝে আর্থিক সহায়তা দিতেন। এভাবেই তাদের সংসার জীবন কেটে যাচ্ছিল। জেনি মার্কস বিচক্ষণতার সাথে এই সমস্যা মোকাবেলা করে আসছিলেন এবং কার্ল মার্কসের লেখালেখি ও রাজনৈতিক কাজ যেন থেমে না থাকে সেই চেষ্টা তিনি করে যাচ্ছিলেন। 
জেনি মার্কসের চার সন্তান খুব কম বয়সে মারা যায়। বাকি তিন কন্যা সন্তান যারা বেঁচে ছিলেন তারাও নানাভাবে সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। 
১৮৮১ সালের ২ ডিসেম্বর জেনী মার্কসের মৃত্যু হয়। ৫ ডিসেম্বর হাইগেট সমাধিক্ষেত্রে তাকে সমাধিস্থ করা হয়। সমাধিক্ষেত্রে আইভি লতায় ঢাকা মার্বেল পাথরের উপর খোদাই করে জেনি ফন ভেস্টফালেনের নামের সাথে লেখা রয়েছে- কার্ল মার্কসের প্রিয়তমা পত্নী|(The Beloved Wife of Karl Marx).
 সমাধিক্ষেত্রে অন্ত্যেস্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে এঙ্গেলস জেনী মার্কস সম্পর্কে বলেছিলেন, ”এই মহিলা, তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা একইসাথে রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, চরিত্রের মধ্যে ছিল উদ্যম এবং আবেগ, এবং সংগ্রামের ক্ষেত্রে তার সহযোদ্ধাদের প্রতি তাঁর অপরিসীম উৎসর্গীকৃত মানসিকতার মাধ্যমে গত ৪০ বছরে যে অবদান রেখে গেছেন তা কোনকালেই জনগণের কাছে প্রকাশ পায়নি এবং সমসাময়িক কোন সংবাদ মাধ্যমে এই কীর্তি ঘোষিত হয়নি। এটা এমন যা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা অনুভব করেছি। 
কিন্তু এই একটি বিষয়ে আমি নিশ্চিত যে, রিফিউজি কমিউনের স্ত্রীরা তাকে প্রায়ই স্মরণ করবে, আর বাকি আমরাা তার সাহসী ও প্রাজ্ঞ পরামর্শ অবশ্যই মিস করবো....। 
আমি এখানে তার গুণাবলীর কথা বলতে চাই, যা তার বন্ধুরা জানে এবং স্মরণে রাখবে, তা হল, অপরকে সুখী করে যিনি নিজে সুখী বোধ করেন, তিনি হলেন তাই।” 
(The contribution made by this woman, with such a sharp critical intelligence, with such political tact, a character of such energy and passion, with such dedication to her comrades in the struggle — her contribution to the movement over almost forty years has not become public knowledge; it is not inscribed in the annals of the contemporary press. It is something one must have experienced at first hand.

But of one thing I am sure: just as the wives of the Commune refugees will often remember her — so to, with the rest of us have occasion enough to miss her bold and wise advice, bold without ostentation, wise without ever compromising her honor to even the smallest degree. I need not speak of her personal qualities, her friends know them and will not forget them. If there ever was a woman whose greatest happiness was to make others happy it was this woman.)
তথ্যসূত্রঃ
৮. কার্ল মার্কস মানুষটি কেমন ছিলেন, জাকির তালুকদার, পৃ:১০৩, ঐতিহ্য, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫।
৯. কীর্তিময় এক বন্ধুত্ব, শেখর দত্ত, বিপ্লবীদের কথা প্রকাশনা, নভেম্বর, ২০১৪।
১০. মার্কস এঙ্গেলস স্মৃতি, বোধি, বাংলাদেশ সংস্করণ, অমর একুশে গ্রন্থমেলা, ২০১১।
১১. কার্ল মার্কসের জীবনে জেনি, মদনমোহন গুহ, মিরান্দা পাবলিশার্স, পশ্চিমবঙ্গ বইমেলা, ২০০১।

সর্বাধিক পঠিত

ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে বিভ্রান্তিকর শিক্ষাঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসংগ-১৯৪৭ সাল

ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে বিভ্রান্তিকর শিক্ষা তারিখঃ ১৬ আগস্ট, ২০১৭ ইতিহাস একটি জাতি বা জাতিসত্তা তথা জাতিসমষ্টিকে নানাভাবে প্রভাবিত কর...