Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts
Showing posts with label সাহিত্য. Show all posts

Sunday, July 30, 2017

শিল্প-সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা

তারিখঃ ২৪ জন, ২০১৭
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছে হলো। অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো আলোচ্য বিষয় খুবই সহজ মনে হতে পারে! কিন্তু এই আলোচনার একটি জটিল 'অমীমাংসিত' প্রপঞ্চ রয়েছে। অনেকটা 'ডিম আগে নাকি মুরগী আগে' প্রশ্নটির মতো একটি উত্তর প্রাপ্তির বিষয় জড়িয়ে রয়েছে! 
শিল্প-সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা থাকা বা না থাকা বা এই ধারার প্রাধান্য থাকা না থাকার সাথে সাথে নিচের প্রশ্নটি নিয়ে আমরা ভাবতে পারি!
'সংগ্রামী ধারার সাহিত্য আগে সৃষ্টি হবে নাকি সংগ্রাম জারি থাকা বা সংগ্রামী ধারা জোরদার' হওয়া আগে সৃষ্টি হতে হবে?
সংগ্রাম যদি জারি না থাকে বা যদি সংগ্রাম বা 'বিপ্লব' জোরদার না হয় তবে সংগ্রামী ধারার শিল্প ও সাহিত্য চলমান সমাজ জীবনে কী প্রাধান্য পাবে? অথবা প্রথমে সমাজের শিল্প ও সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা সৃষ্টি হবে, তারপরে পরবর্তী প্রেক্ষাপট হিসেবে আসবে জোরদার সংগ্রাম?
কখন একটি চেতনামূলক গান মানুষকে জাগাতে পারে? 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে' গানটির আবেদন কি '৭১ সালের আগে ছিল? নাকি '৭১ এর ৯ মাসের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে এই গানটি 'আবেদনময়ী' হয়ে মানুষকে জাগিয়েছিল?
শিল্প ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনার সময় এই বিতর্কটির মীমাংসা তবে কি আবশ্যকীয়ভাবে সামনে আনতে হয়/হবে?
বিষয়টি নিয়ে কথাবলতে হোল, কারণ এ নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে আমরা একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকি। পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে যে সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ব চলছে তাতে আমরা এই বিষয়টি নিয়েও নানা ধোঁয়াশামূলক চিন্তাভাবনা করি। অথচ, সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে বা সমাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে নেতৃত্ব দিতে গেলে বা এ নিয়ে ভুমিকা রাখতে হলে আমাদের এই বিষয়টিকে সিরিয়াস আলোচনা করে মীমাংসায় যেতে হবে। 
আপাতত এটুকু মাত্র যোগ করলাম। 

Sunday, July 23, 2017

লুঙুদুতে প্রাণ আমারঃ তুক্কোপুদি’র দুঃখের কথা শোনাই তবে!

তারিখঃ ০৪ জুন, ২০১৭
শোনো বলি এ কথা,
আমি গল্প লিখতে বসিনি,
লিখতে বসেছি হিল চাদিগাঙের
ছড়া ঝিড়ি নদী নালা বন বাদাড়ের
গেনখুলী ধুধুক হেংগরং বাজি শিঙার কথা!
লুঙুদু যেন সারা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুঃখী মানুষের প্রতীক হয়ে উঠতে শুরু করেছে। সেই ১৯৮৯ সালের ৪ মে তারা একবার আক্রমণের শিকার হয়েছিল। ঘরবাড়ি সহায়সম্পত্তি আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়েছিল তাদের। তারপর আরো চলে গেছে যুগ ধেয়ে আরো অনেক বছর। ৮৯ সালের সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি তারা হয়তো ভুলতে বসেছিল। তাই হয়তো তারা আশায় বুক বেঁধে পাকা ঘর দালান বানাতে শুরু করেছিল।
তারা ভুলে গিয়েছিল, এমন এক সময় ছিল পার্বত্যবাসীরা সুন্দর করে ঘর তুলতে, ভালোমতো ঘর তুলতে চিন্তা করতে পারতো না। তারা ভুলে গিয়েছিল পাকা দালান কেন সাধারণ বাঁশের বেড়া দেয়া ঘর তারা একসময় বানানোর চিন্তা করতো না পাছে সেটলার হামলায় সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে তাদের সহায় সম্পদ আবার পুড়ে যায় এই দুর্ভাবনায়। তাই তারা তুলতে শুরু করেছিল পাকা দালান!
তারপর এলো ০২জুন, ২০১৭ শুক্রবারের এক সকাল! এবং তারপর পুড়ে গেল তাদের বাড়িঘর, সহায় সম্পত্তি। সাধের স্বপ্ন তাদের ধ্বংস হয়ে গেল। তাই মনের দুঃখ নিয়ে বুকের কোণ থেকে একবুক আবেগের দলা উগরে দিয়ে বুদ্ধ কুমার চাকমা চিৎকার না করেই সিধে ও সাদা ভাষায় বলে ওঠেন, আমাদের ত্রাণ লাগবে না, মেলে ফেলেন। কী এক শুন্যতা পেয়ে বসলে ভদ্র এক গেরস্থের কাছ থেকে এই কথা উঠে আসে তা কি কেউ জানবে বা কেউ কি বুঝবে?
বাহাস বাদ রেখে আজ বলবো উত্তর মানিকজুর ছড়া গ্রামের তুক্কোপুদি নামে এক নারীর কথা। তিনি তার গ্রামে বসবাস করছেন সেই ছোটোকাল থেকে। বিয়ের বয়স হবার পরে কয়েকজন সন্তান হবার পরে তিনি হারান তার স্বামীকে। তারপর সংসারের ভার কাঁধে নেন। ছেলে মেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করেন। এখন বয়স হবার পরে নাতি নাতনিদের আদর ভালবাসা দিয়ে পুত্র কন্যাদের ঘরে ঘরে ঘুরেফিরে আদর আপ্যায়ন যা পাবার তা পেয়ে বাকি দিন কাটানোর কথা। কিন্তু ভাগ্যে যখন লেখা থাকে দুর্ভাগ্যের লিখন, তখন কে তারে সুখে রাখে! কর্মের বাঁধন যে যায় না খন্ডন! দুঃখ যেন লিপির লিখন তার কপালে!
সকালে ঘুম থেকে উঠে তুক্কোপুদি ভাত রান্না করার পরে আয়েশ করে তার নাতিনদের সাথে মশকরা খুনসুটি করে সময় কাটাচ্ছিলেন। সময় বেশ কাটছিল বটে! কিন্তু মানিকজুর ছড়া বিলের ওপারে তিনি দেখতে পেলেন ধোঁয়া উড়ছে, আগুন লেগেছে, চলছে চিৎকার। মানুষজনের পালিয়ে আসার স্রোত তিনি দেখতে পেলেন। দূর থেকে তা দেখেই তিনি নিজের ঘরের উঠানে বসে আপন মনে জীবনের কথা হয়তো ভাবছিলেন। এবং চিন্তা করছিলেন, আপন জাতভাইবোনদের ঘরবাড়ি পুড়ে গেল। বাঁচাতে পারলো না কিছুই। পরিচিত আত্মীয় কেউ মারা গেল কি না তা নিয়ে হয়তো তিনি দুশ্চিন্তা করছিলেন। তিনি ভাবতে পারেননি, বিরাট একটি ধান ক্ষেতের মাঠ পেরিয়ে সেটলাররা মানে দুর্বৃত্তরা তাদের গ্রামেও আসবে! হয়তো তিনি তার জন্য এক কাপড়েই প্রাণ নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন আরো কিছুক্ষণ পর!
তারপর তিনি দেখলেন ৫শত বা ৬শত বা তারও অধিক সেটলার ধেয়ে আসছে তাদের গ্রামের দিকে। গ্রামের সমর্থ জোয়ান মরদ পুরুষরা রণসজ্জ্বা নিয়ে কান্তা বাদল দা কুড়াল বিয়োঙ খন্তা বা হাতে যা পেল তা-ই নিয়ে গ্রাম বাঁচাতে রুখে দাড়ানোর উদযোগ করলো। শুরু হলো চিৎকার চেঁচামেচি। পুরুষ ও নারীরা একযোগে চিৎকার দিলো, উজোও উজোও, বাঙালুনে আদাম ঘিরদন, উজোও উজোও! গ্রামের নারীরা বুদ্ধ ভগবানের নাম নেয়া শুরু করলো। কিন্তু তারপরও তারা তাদের ভবিতব্যকে ছেড়ে দিলো কপালের হাতে! এবং এভাবে গ্রামের শক্ত সমর্থ নারী ও পুরুষরা রুখে দাঁড়ালো আধ থেকে পৌনে একঘন্টার জন্য। তারা কান্তা বাদল দিয়ে ’দুর্বৃত্তদের’বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলো। রুখে দাঁড়াবো না কেন, জুলি ন উধিম কিত্তেই, কবিতা চাকমার এই কবিতাটি তো তারা পড়েনি!
কিন্তু এ কি! দুর্বৃত্তদের সামনে ’চিদিরে ভদরা’ ওরা যেন কারা? দুর্বৃত্তদের হয়তো প্রতিরোধ করা যায়! কিন্তু যাদের হাতে থাকে আইন ও শক্তির লম্বা হাত, তাদের সাথে এই নিরীহ গ্রামবাসীর কীইবা করবে? এযাবৎ বছরের পর বছর তো তারা এই শক্তির পুজো করে এসেছে ঘরে, গ্রামে, ঝাড়ে, হাটে বাজারে বা পথেঘাটে! তারা আইনী হোক বা অপ্রকাশ্য যে কোনো শক্তিই হোক!
তাই তারা, মানে গ্রামের জনগণ মানে জুম্মা খাপ্পোআ সহজ সরল পাহাড়িরা এবার ’রণে ভঙ্গ’ দিয়ে পিছাতে শুরু করলো। ’য পলায়তি স’ জীবতি’ এই মন্ত্রকে ধারণ করে তারা জীবন বাঁচানো ’ফরজ’ দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিল। তারা একান্তভাবেই নিজের প্রাণই তাই হাতে নিয়ে যেতে পারল! নিতে পারলো না সহায় ও সম্পত্তি, এমনকি ’উড়ন পিনন’ মানে পরিধানের কাপড় তা-ও তারা সঙ্গে করে নিতে পারলো না। তারা পালাতে লাগলো। শয়ে শয়ে তারা বাঁশঝাড়, ঝোপঝাড়, আসামলুদি বন, গাছবাঁশ বাগান, ঘেরা দেয়া বেড়া ডিঙিয়ে যেতে লাগল দূর পাহাড়ে! এবং তারা পিছনে দেখার সময়ও খুব কম পেল। কিন্তু যে-ই পিছনে তাকিয়ে দেখল, সে-ই দেখল, দূরে,ওই দূরে, যেখানে তাদের চিরচেনা গ্রাম রয়েছে সেখানে উড়ছে লেলিহান শিখা, বাজছে দামামা! ফুটছে বাঁশ। একইসাথে তাদের ’চিদঅ বদু’ মানে বুকের একান্ত ভেতরটা টনটন করতে লাগল। তবু তারা খুশী যে প্রাণটা তো বাঁচলো!
এভাবেই তুক্কোপুদি নিজের গ্রামে থেকে ০২ জুন সকালে পালিয়ে গিয়েছিল। তারপর এক কাপড়ে তার আশ্রয় হলো ভুইওছড়া নামে এক গ্রামের জুনিয়র স্কুলের একটি বারান্দায়। সেখানে সে আজ ৪ জুন অবধি রইল বসে জেগে ঘুমিয়ে বা চিন্তা দুশ্চিন্তা করে। এদিকে তার নাতিনরাও এসেছে তার সাথে। তাদেরকে নিয়ে কাটতে লাগল যাকে বলে উদ্বাস্তু জীবন! কেউ কি বুঝবে তুক্কোপুদির দুঃখের কথা? তার বুকের ভেতরের হুুহু চোখের পানি ছাড়া কান্না ও একরাশ শুন্যতার কথা। চোখের পানি কি সহজে আসেেএই পোড়ার জুম্মমিলা বুড়োমিলার চোখে! কিন্তু তার মন কি তবে কাঁদে না। কেঁদে ওঠেনা কি তার আবেগ! মনে কোণে কি অশ্রু ঝড়ে না তার?!
তুক্কেুপুদি শুধু একা নেই এই স্কুলে। সাথে রয়েছে তিন গ্রামের উদ্বাস্তু আরো অনেকেই।
হামলার দিন০২ জুন রাতটি তারা কাটালো। ০৩ জুন তারা ভয়ে ভয়ে কেউ যেতে চাইল তাদের গ্রামে। কী অবস্থা হয়েছে তাদের বাড়ির তা জানতে তারা সেখানে যেতে চাইল। কিন্তু ’বেলে সেন্টার’ বা ’গুজবীয় ব্রডকাস্টিং করপোরেশন’ থেকে তারা জানতে পারলো, পুলিশ নাকি জানিয়ে দিয়েছে, গ্রামে তিনজনের বেশি ঘোরাফেরা করলে এরেস্ট করা হবে। আচ্ছা জ্বালা বটে! কিন্তু, আইনী শক্তির কথা তো ফেলনা নয়! তাই তারা গ্রামে গেলে তিনজন একসাথে যায়। ভুলেও তারা ৪ জন একত্র হয়ে গ্রামের দিকে পা বাড়ায় না।
তুক্কোপুদির পরিবারে সাকুল্যে রয়েছে ৫ জন। তিনি রয়েছেন, রয়েছে তার এইচএসসি ফাইনাল দেয়া একটি পুত্রধন, সাথে তার কন্যা ও কন্যার জামাই। আর রয়েছে একটি নাতিন। তার পুত্রধন এইচএসসি পরীক্ষা দেবার পরে গ্রামে এসেছে। এসেই পরে গেল অঘটনে। কন্যার জামাই একবার তাদের গ্রামের বাড়ি দেখতে গেলেন। দেখলেন পুড়ে গেছে তাদের ঘর।কিছুই অবশিষ্ট নেই। পুড়ে গেছে ঘরের যাবতীয় সরঞ্জাম। হাড়িপাতিল তো পুড়ে গেছেই! পুড়ে গেছে বালিশ, পাটি, বুরগি, পিনন, খাদি, লুঙ্গি বা গামছা। পুড়ে গেছে খাট পালংক, খাটিয়া আলনা, ছিল ছিল একটি আয়না। তাও নেই! কিছুদিন আগে মাত্র তাদের পরিবার জমি থেকে ধান কেটে কিছু বস্তায় কিছু খোলা জায়গায় রেখে দিয়েছিল। এই ঝুমঝুম বৃষ্টির মাঝেও তুক্কোপুদির কন্যার জামাই দেখতে পেেেলন, ধানগুলো পুড়ে গেছে। কিছু আছে বটে তবে ঝেড়ে মুছে খেলে তিতাই লাগবে। তাদের জমি থেকে তারা এবার দুইশ আড়ি মানে প্রায় ১ হাজার বা তারও বেশি কেজি ধান পেয়েছিল। সব শেষ হয়ে গেছে।
কী আর করা! তিনি ফিরে এলেন ভুইওছড়া জুনিয়র স্কুলের রুমে। সেখানে তিনি খোলা জায়গায় এলিয়ে দিলেন গা। তারপর চিন্তা করা ছেড়ে দিলেন।
এবার বলি তুক্কোপুদি চাকমার আরেক মেয়ের কথা! মেয়ের নাম শিমলিতা চাকমা। তাদের গ্রামেই শিমলিতা মানে তুক্কোপুদি চাকমার কন্যার ঘর। তাদের বাড়িতে রয়েছে ৫ জন। শিমলিতা নিজে, তার তিনটি কন্যা, আর তার শিমলিতার স্বামী। তিনটি কন্যার মধ্যে একটি পড়ে ৮ম শ্রেনীতে। আরো দুইজন আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তাদের সবার বইপত্র খাতা কাগজ কলম পুড়ে গেছে সাম্প্রদায়িকতার লেলিহান শিখায়।
তারাও তাদের মা তুক্কোপুদিদের সাথে ভুইওছড়া গ্রামের জুনিয়র স্কুলের রুমে এখন আশ্রয় নিয়েছে।
আরো দূরে আদরকছড়া গ্রামে বাস করে তুক্কোপুদি চাকমার আরেক কন্যা। সে জানিয়েছে আগামী বুধবার বামে আদরকছড়া বাজারে হাটবাজার বসবে। সেখান থেকে তিনি তার মা, তার বোন ও বোন জামাই এবং তার বোন ঝি, ভাইয়ের জন্য কাপড় চোপড় কিনে এনে দেবেন। এরই মাঝে তাদের কাটাতে হবে এক কাপড়ে। কী আর করা! ভাগ্যে যা আছে তা-ই হবে! ভগবান বুদ্ধ, বনবান্তে সহায়। তিনি যদি সহায় না হন তবে তাদের অনেককেই কেন তিনটিলা বনবিহারে আশ্রয় নিতে হলো!
তাদের কষ্টের কথা কি সরেজমিনে তোমরা দেখতে যেতে চাও? তবে যাও লুঙুদু উপজেলায়। সেখানে গেলে তোমরা দেখবে। বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে। সব শুনশান। পোড়াবাড়ি ও ভিটা তোমরা দেখবে। তারপর দেখবে হাঁস মুরগি গরু ছাগল চড়ছে মাঠে উঠানে। দেখার কেউই নেই!

Thursday, February 9, 2017

তুরস্ক দেজঅর পজ্জন বা কিত্তেএ:: তিনআন প্রশ্ন’র জ্যোপ

নিবেদিত কল্যাণকামী শাসকই হলেন যোগ্য শাসক 

কোনো এক দেজঅর এগজন রাজার কধা।  রাজা ভালক বজর ধুরি রেজ্য শাজন গুরি ইচ্চে।  ইক্কো ত্যা বুড়ো ওই জিএগোই। আগঅ ‍ধুক্কেন মানজোর সুখ দুগ চেই ন পারে। নানান জনে নানান সুখ দুগ সমস্যার কধা লোইনেই এজন। তারার সমচস্যা চেবার মতন মন ত্যা আর দিই ন পারে আর। ইন্দি ত্যা ইক্কো চোঘেনদিও কম দ্যাঘে। কানএনদিও কম শুনে। কিইএতঅ আগঅ ধুক্কেন বল নেই। হানক্কন বোই  থ্যালে গাই গাই বল পঅরে। কিইএআন বলবলা ন পাই আর। ইঙিরি ত্যা আর রেজ্য শাজন গুরিবার মন দিই ন পারে। ত্যা ভালক দিন ধুরিনেই মনে মনে চিদে চাত্তা গুরিলঅ,এবারা রেজ্য শাজন তাজন বাদ দিইআ পুরিবঅ। তাআ তিননো পো আঘঅন। তারাত্তুন কারে রেজ্যর দায়িত্ব সারি দি পারা জেবঅ সিআন লোইনেই ত্যা চিদে গরা শুরু গুরিলঅ।  ত্যা মনে মনে কঅলঅ, তিননো পো’ওশা ভিদিরেত্তুন েবেগঅত্তুন বেচ গেআনি গুনি দায়িত্ববান একজনঅ আহদঅত রেজ্যর শাজন সারি দি পারিলে হুব গম ওলুন। বুড়ো কালঅত ঝারঅত দূরঅত জেইনেই ধরমঅ করমঅ গুরিনেই নিরিবিলি গুরি দিন কাদেই দিই পাললে হুব গম লাগিলু। 
ইআন চিদে গুরি ত্যা থিগ গুরিলঅ, তা তিননো পোওরে বুদ্দির পোরিক্কে লোও পুরিবঅ।  পোল্লেম ত্যা তা দাঙর পোওবোরে  দাগিলঅ।  তা দাঙর পোওবো বিন্নে মাদান তা বাবঅ ঘরঅত এলঅ। রাজা তা পোওবোরে কলঅ, ; পুত, মুই দ বুড়ো ওই জিওঙগোই।  তিনকাল দিগিলুঙ। আরঅ যা আঘে সিআন দ্যাক্কে দ্যাক্কে জেবঅগোই। মর বিদেয় লবার অক্ত ইচ্চে। মুই চাঙঅত্তে তোমা তিনজনঅ ভিদিরেত্তুন জে পোওবো বেচ গেআনি গুনি দায়িত্ববান তারে এই রেজ্যর ভার দি দিম। ‘ 
কধাআন শুনিনেই দাঙর পোওবোত্তুন হুব রাজা অহবার ধারাচ অহলঅ। ত্যা তা বাবঅরে হুব কোচ পানাআহ দেঘেলঅ। 
তা বাবে তারে কলঅ, পুত, মর তিনআন কধার জ্যোপ তত্তুন দিআ পুরিবঅ। জুনি তুই এই কধার জ্যোপ ধগেধাগে দিই পারঅচ, তোইলে মুই মনে গুরিম তুই রেজ্যর ভার লবার মতন জোগগো আঘচ। 
দাঙর পোওবো কলঅ, বাবাআ, তুই ত কধাআন পুজোর গুরি পারিবে। 
রাজা তারে কঅলঅ, আচ্চা কোই চাআদে, পিত্তিমি ভিদিরে চেরোকিত্তেন্দি সুবুল পিঙুল কী জিনিচ আঘে? আর বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিই পারেদে জিনিচচান কি? সে সমারে বেগঅত্তুন বেচ দোল জিনিচ পিত্তিমি ভিদিরে কুবান? 
দাঙর পোওবো কলঅ, বাবাআ, আ সিআন হুব উচ্চো কধা। ত প্রশনআন দ হুব উচ্চো! বেগঅত্তুন বেচ সুবুল পিঙুল জিনিচচ্চান অহলঅদে দ তুই! ত ধুক্কেন সুবুল গম ভালেদি চাউইয়্যে আ কন্না এ পিত্তিমিত আঘে!?
আর বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিইনেই জেই পারেদে ত ঘোড়াবো।  বেগঅত্তুন বেচ দোল অহলঅদে আমা মাআ, মানে ত মোককো। 
দাঙর পোওবোর জ্যোপ শুনিনেই রাজা তারে কিজু ন কলঅ। ত্যা কলঅ, থিগ আঘে তুই জাআ। 
সে পরে রাজা তা মাঝ্যাঙ পোওবোরে দাগি পাদেলঅ।  তারেও ত্যা দাঙর পোওবোরে জিআনি কুইয়্যে সিআনি কলঅ। তারপরে তারে সে তিনআন কধার জ্যোপ পুজোর গুরিলঅ। 
প্রশনআনি শুনিনেই তা মাঝ্যেঙ পোওবো তা বাবঅরে কলঅ। বাবাআ, ত কধার জ্যোপ দ হুব উচ্চো। তুই দ হবর পাআচ বাবাআ, মুই ওলুঙ্গে এ রেজ্যর বেগততুন বেচ গেআনি, গুনি আ দায়িত্ববান বুঝিয়ে সুঝিয়্যে।  সেনোত্তেই পিত্তিমি ভিদিরে মুই-ই ওলুঙগে চেরোকিত্তেন্দি সুবুল পিঙুল মানুচচো।  আর বেগঅত্তুন চে ধাবা দি পারেদে মঅ শিগের গুরিয়্যে কুগুরবো। তারে তুই বানা শিগেরবো দেঘেই দিলে অহয়, ত্যা ধাবা দিইনেই ঝাবাদাত শিগের ধুরি আনি পারে। তর তিন নম্বর প্রশনঅ আনঅর জ্যোপ অহলদে, ম মোককো অহলঅদে এই পিত্তিমির বেগঅত্তুন বেচ দোল মিলেবো।
রাজা তা মাঝ্যাঙ পোওবোর জ্যোপ শুনি কঅলঅ, থিগ আঘে পুত, ম প্রশনঅর জ্যোপ তত্তুন দ পেলুঙ। তুই ইক্কো বারে জা।  আর ত চিগোন পোওবোরে ম ঘরঅত এবাত্তেই কঅ। 
তা মাঝ্যাঙ পোওবো হুব আহঝি রুজি গুরি বাড়ে গেলঅ। ত্যা তা গুরো ভেইবোরে তা বাবঅ ঘরঅত দি পাধেলঅ। 
রাজা তা চিগোন পোওবোরে জেএ সে তিনআন কধার জ্যোপ ধুরিলঅ। 
তা পোওবোরে ত্যা কলঅ, মুই ত দি ভেইওরে জেএ তিনআন কধার জ্যোপ পুজোর গুজ্জোঙ। তারাত্তুন বেচ দোলে থিগগুরি  জুনি তুই জ্যোপ দিই পারঅচ, তোইলে তরে মুই রাজা বানেম। 
তারপর রাজা তারে সে তিনআন কধা পুজোর গুরিলঅ। 
তা চিগোন পোওবো তিনআন প্রশনঅ শুনিনেই হানক্কন মন দিনেই ভাবি চেলঅ।  তারপরে ত্যা তা বাবঅরে কলঅ, বাবাআ, এ পিত্তিমিত বেগঅত্তুন বেচ সুবুল পিঙুল জিনিচ অহলঅদে আমা হেতহিত্তিআনি, আমি যে চাষবাস গুরি সে জাগাআনি।  হেতহিত্তি গুরি আমি জে ফজল পেই সিআনি হেইনেই আমি বাজি থেই। সেনোত্তেই সিআনি অহলঅদে সুবুল পিঙৃল। 
তা বাবে তা বেগঅ চিগোন পোওবোত্তুন তার দার্শনিক কধার জ্যোপ শুনিনেই হুব হুজি অহলঅ। ত্যা কলঅ, বাআ বাআ, তুই দ হুব দোলে ম কধার জ্যোপ দি পাজ্জোচ। আচ্চা, তোইলে তা পরে কধার জ্যোপ দ্যা চাঙ। 
তা চিগোন পোওবো কলঅ, পিত্তিমিত বেগঅত্তুন বেচ ধাবা দিইনিই জেই পারেদে আমা চোক আর আমা মনআনি। আমা চোঘোন্দি আমি জিআন দিঘি সিআন ঝিমিদঅত দিঘি। আর আমা মনআনদোই আমি জিদু মনে কঅয় সিদু জেএই পারি। 
আর তনি নম্ব জ্যোপ অহলাদে, আমা পিত্তিমির বেগঅত্তুন বেচ দোল জিনিচচ্চান অহলদে আমা এই মোন মুড়ো সরা গাঙ নাল গাজ বাজে ঘিরি থিইয়্যে এই জাগাগান, আমা পিত্তিমিআন। 
আমা এই জাগাগানঅত বেক্কানি আঘে। রেত আঘে দিন আঘে। তারা আঘঅন, চান আগে, বেল আগে, জুনি আঘঅন, আঘঅন নানা বাবত্যা পেক পুক জুক অহরিঙ চঙরা আরঅ কতকিজু।  গোদ বজরবো ধারাদেঘোলি বারিজে, গরমকাল, জারকাল এজে। ইআনি বেক্কানি আঘে কিনে পিত্তিমিআন হুব দোল লাগে, পিত্তিমিআনঅত জনম ধুরি বাজি থেবার পরানে কঅয়। পিত্তিমি আন ইরিই জেবার পরানে ন কঅয়। 
বুড়ো রাজা তা চিগোন পোওবো কধা শুনিনেই হুব গম পেলঅ। ত্যা বুজিলঅ, তা এই চিগোন পোওবোই এ রেজ্য দোলেদালে চালেই পারিবঅ। তারপর ত্যা সময় গুরি রেজ্যর উজির নাজির পাইক পেয়াদা সইন্য সেনাবদি বেককুনোরে দাগিনেই তা চিগোন পোওবোরে তা রেজ্যর রাজা বানেলঅ। 
আর তা বাগি পোউনোরে ত্যা জাগা জুমি তেঙা পোইঝে দিলঅ। তারাও জ্যাএন নিজঅর ভালেদ গুরি পারঅন সে বেবস্তা গুরিলঅ। 
সে পরে ত্যা সুগে মুরি গেলঅ।
আর ইন্দি তা চিগোন পোওবো রেজ্যর বেগ প্রজাউনো সুখ দুঘঅর ভাগ লোইনেই বেগঅরে কোচ পেইনেই রেজ্য শাজন গরা ধুরিলঅ। দিনে দিনে তার শাজনঅর নাঙ পিত্তিমির চেরোকিত্তে ফুলঅ তুমবাচঅ ধুৃক্কেন সিদি পুরিলঅ। 

## পজ্জন বা কিত্তেএ’র নীতিকধা- যোগ্য উত্তরসূরী থিগ গুরিবাত্তেই উত্তরসূরীরে জোগ্য গুরিবার চেরেস্তা গরা পরে। 









Sunday, January 15, 2017

সময় ও অসময়ের বাহাস


তারিখ: ০৯ জানুয়ারি, ২০১৭
দুর্দান্ত সব ফাগুন-চৈত্র-বৈশাখ সেগুলো ছিল
এলোমেলো বাতাসের হাওয়ায় ওড়া মন উথালপাতাল সেইসব দিন ছিল!
মনের দাগে কালিমা ছিল না, ছিল না তাপদাহে পুড়ে যাওয়ার ভাবনা!
ছিল না বরষায় চুপসে যাওয়া
উন্মাতালে পাগলপারা হবার কথাওনা।
দিনগুলো ছিল না গোনার সময়!
এখন এই অসময়ের সময়ে ভাবি বসে
ভাবনা যা আসে তাই নিয়ে!
এখন সময়ের অসময়ে শীতের পৌষ মাঘে চৈত্রের তাপদাহে নিরালে আড়ালে বা জনজমায়েতের ঝঞ্জাময়ে বরষায় কোনো এক ফাঁকতলে
তালমাতাল এক অস্থিরতায় চোখ বুঁজে বা না বুঁজে খোলা চোখে মনহারা দিনযাপনে
আমি সময় গুনি অসময়ের কোপানলে!!
সময় ও অসময় সব ঝঁটা হ্যায়!
যাচ্ছি যেমন যাবো তেমন
এমনই তো জীবন জীবিকা তা-ই।
সব ঋতু আজ আসুক যাক
দিন ও রাত ফিরতি যৌবন পাক
আমি এঁকে যাই এক পাখির ঝাঁক
উড়ে উড়ে জীবন শুন্যে মিলাক।
আমি এঁকে যাই এক পাখির ঝাঁক উড়ে উড়ে জীবন ভবিতে মিলাক।

ন ডোরানদে মানজো সিদু ভুদতুনউনে দেঘা দি ন পারন

চীন দেজঅত চিঙ নাঙে এক রাজা আমলঅত ই চিনু নাঙে এগগো লেঘ্যিয়্যে এলঅ। ত্যা এ ভুদঅ পজ্জননো তা বাপ ইআও এনঅত্তুন শুন্যে। ইআও শুন্যে তা আজু বাপপো জুন শেঙঅত্তুন।  জুন শেঙে আরঅ কাআত্তুন শুন্যে সিআন হবর পাআ ন জাই। তবে এ পজ্জননো কধা জেক জেক কধা, ইওত কোনো মিঝে কধা নেই।
ঙি চেঙ নাঙে এগ্গান শঅরঅত চিআঙ স্যান মাঙ নাঙে একজনে এলঅ। ত্যা এলঅ হুব সাহজী, বলীবন্দ। হালিক ত্যা এলঅ অমহদঅ একবুচ্যা, আর মাধাবোত ঘিলু এলঅদে কম। সে বাদেও ত্যা এলঅ হুব নাদা, থাউইয়্যে ন এলঅ ত্যা। একবার ত্যা কোনো একজনঅত্তুন শুনিলঅ, তারাা শঅরঅ কুরে শুঙ তিঙ পো নাঙে একজনে ভুদঅ বেআর হুরি থাউইয়্যে উইয়্যে।
এ কধাআন শুনিনেই তাআত্তুন ভুদঅ বেআর গুরি থাউইয়্যে অহবার পরানে কঅলঅ।  ত্যা মনে মনে কঅলঅ, মুই দ সাহজবলা আঘঙ, আর বলঅ আঘে মঅর অমহদঅ। সুঙ মানুজচো ‍জুনি ভুদঅ ধুরিনেই বেআর গুরি থাউইয়্যে ওই পারে, সালেন মুিই কিত্তেই ন পারিম? ত্যা কলঅ, ভুদতুনউনোরে মুই পত্তি রেদোত ধুরিম, তারপর তারা কিএত স্যাপ(থুথু) ফেলেই দিম। সে পরে তারা ছাগল অহবাক। আর তারা ভুদ ওই ন পারিবাক। পরে তারারে বাজারঅত নেজেনেই বিজি দিলে মুই থাউইয়্যে ওই পারিম। মুই থাউইয়্যে অহলে থাআজা মদ হেই পারিম আর হাজি হেই পারিম।
ইআন চিদে গুরি ত্যা কুদু ভুদ আঘন সে হবর ধরা শুরু গললঅ। ত্যা হবর পেলঅ চিঙচেঙ নাঙে এগগান শঅরঅত ভুদ আঘঅন। সিদু ভিলি মরা মানজোরে যে জাগাত রাঘানে সে কুরেকারে ভুদঅ জালাই কনঅজনে সাচসাচ অহবার পরে থ্যাঙঅ ন দোন।  এ কধা শুনি ত্যা সিদু জেইনেই ভুদ ধুরিবঅ চিদে ‍গুরিলঅ।
চিআঙে স্যান মাঙ গাচাচোই এগগো লুধিক বানেলঅ। আর সমারে লঅলঅ এগ্গান লাম্বা দুড়ি। তারপরে ত্যা চিঙচেঙ শঅরঅত জেলঅ। সিদু জেইনেই রেদোত ত্যা মরা মানুজ রাঘান্দে সিদু রেদোত আহদি আহদি গেলঅ। ত্যা লুগেই লুগেই ভুদতুনউনেও হবর ন পাআন পারাআ মরা মানুজ রাঘান্দে জাগাত জেইনেই চেরোকিত্তে বেড়ানা শুরু গললঅ।  হালিকক একবার দিবার তিনবার চেরবার ত্যা চেরোকিত্তে ঘুরি বেড়েনেইও ভুদঅ পাদা বা হবর নন পেলঅ। ভুদতুনউনে তা মুজুঙে নয়ও এলাক।
সে পরে ত্যা সে শঅরঅত এগগো জমিদারঅর পুরোন এগ্গান ঘরঅত গেলঅ। সিদু ভালক বজর আগে জমিদারজে ভালকজনঅরে মারেই ফেলেইএ।  সিওত ভুদঅ ডরে কনঅজনে ন জেদাক। সিদু চিআঙে রেত্তোবো গাই গাই রেদ কাদেলঅ। হালিক দিবে তিননো পেজা আর কয়েগগো উন্দুর ধাবা দেনার রঅ বাদে ত্যা কোনো কিজুই ন  শুনিলঅ, ন দিঘিলঅ। ভুদতুনউনে তা মুজুঙে দেঘাও ন দিলাক। ত্যা ভজমান মনত দুগ পেলঅ। আর পেরেশান অহলঅ।
তারপরেও ত্যা আহল ন সারিলঅ। ত্যা আরেকদিন রেদোত ভজমান ডাঙর এগ্গান তারুম ঝারঅত গেলঅ। সিআন ভজমান তারুম ঝার এলঅ। মানজে কদাক, সিদু শদে শদে ভুদ থাআন। চিআঙে সিদু ঘনদা কে ঘনদা বুজি থেলঅ, হাপ দি থেলঅ। হালিক ত্যা বানা ঝারঅ পজুপেকক বাদে কিচচু ন দিঘিলঅ। একবার বানা ভালুদ্দুরঅত পঅর ‍গুরিবার এগগো চেরাগ জলেত্তে কিজু এগ্গান দিঘিনেই ত্যা সিদু ঝাদিমাদি জেইনেই চাইওইদে সিআন কিচচু নয়।
ত্যা গোদ রেততো সিদু কাদেনেই বিন্নে পঅর ওইনেই আঝা সারি দিনেই ঘরঅ মুক্কে আহদা ধললঅ। ইঙিরি ত্যা আরঅ নানা জাগাত মাহজমুলো ঘুরি বেড়েলঅ। হালিক ভুদঅ মাজারাও ত্যা লাআপ ন পেলঅ। বানা পেরেশানি হেলঅ।
আঝা সারিনেই ত্যা তা শঅরঅত ফিরি এলঅ। তা এ অবস্তা দিঘিনিই শঅরঅর গেআনি ‍বুদ্ধিবলা মানজে তারে কলাক, ‘চিআঙ, গোদা জিঙানিআন ঘুরি বেড়েলেও তুই ভুদঅ মাজারা লাআপ ন  প্যাবেএ। ভুদতুনউন ত ধুক্কেন সাহজবলা মানজো মুজুঙে ন এবাক। তারা জ্যাক্কেনে হবর পিওন তুই ভুদতুনউনোরে ধুরিনেই তারারে স্যাপ সিদি দিইনেই তারারে ছাগল বানেনেই বাজারঅত বিজি দিবে তারা ইক্কো মুজজো গ্যালেও ত মুজুঙে ন এবাক আর। তুই আঝা সারি দ্যা।
তবে চিআঙে এনজান রমচক্র গুরি ভুদ তোগা লামিবার পরে চিঙচেঙ শঅর আর তা কুরেকারে জাগাআনিত ভুদঅ জালা আর ন এলঅ আর। তা ডরে ভুদতুনউনে বেএক দুরঅত ধেই জিওন্দোই। সেনোত্তেই তা শঅর আর কুরেকারে মানুজচুন তারে হুব বাইনী গুজ্জোন।
এ গলপবো বা পজ্জননো শুনিনেই আমি হবর পেলঅঙ ন ডোরাইদে মানজে ভুদ ন দেঘঅন। সাহজবলা মানজে ভুদ ন দেঘঅন। ভুদ দেঘঅন্দে পাদারাআ মানজে।

Saturday, May 2, 2015

চাঙমা উপন্যাস চাই মানে কী?

বাঙালঅদেজঅর সমাজ-মানজোরে কোচপিএ একজন লিঘিয়্যে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস-এ ভালকদিন আঘে ‘চাকমা উপন্যাস চাই’ নাঙে এগ্গান লেঘা লিক্কে। সিওত ত্যা চাঙমাউনোর চাঙমা  ভাচঅন্দি উপন্যাস লেঘানা দরকার ভিলি কমেন গুজ্জে। তা এই লেঘাগান চাঙমা লিঘিয়্যেউনোরে নানাভাবে ইনফ্লুএন্স গুজ্জে। কনঅজনে তা লেঘাআনঅর মানে ন বুজিনেই পোল্লেম চাঙমা উপন্যাস লিঘিয়্যে হোলেবার নাঙ গুরি ‘চাঙমা উপন্যাস’ লিঘিও ফিল্লোন!
হালিক তা লেঘাগানঅর মানে বোধঅয় আমি পুড়িএউনে এবঅ সঙ ন বুঝি!
সে বিষয়ে কধা ক’বার আঘে এগ্গান কধা কঙ, উপন্যাস অহলদে আধুনিক যুগঅর এগ্গান অনুষঙ্গ। এগ্গো জাদঅর দাঙঅর অহবার বা জাদঅর উজোনি জেবার লক্কন অহলদে সে জাদঅর ভাচঅত উপন্যাস লিঘিয়্যেউনে কেনজান নিদেনগুরি তারা জাদ-সমাজঅর জীঙানি-পত্তিদিনঅর চালচলন-মন-মনঅ কধা সিআনি ফুদি তুলি পাজ্জোন সিআনঅ উগুরে নির্ভর গরে ভিলি কোআ অহয়।
আর সে জাততোর ভাচঅত ডেইলি পত্রিকা-ম্যাগাজিন-সাইত্য পত্রিকা চেইনেই হবর পাআ জাই, সে জাততোর উজোন্দি বা মাচ্যুরিটি কেনজান উইয়ে্য সিআনি।
উগুরে এ বিষয়আন হেআল গুরিনেই মুই আখতারুজ্জান ইলিয়াসঅর ‘চাকমা উপন্যাস চাই’ লেঘাআনঅর কিজু মত বা কমেন বা মন্তব্য বিষয়ে কিজু কধা তুলি ধুরিম।
ত্যা তা লেঘাআনঅত কুইয়্যে, চাঙমা ভাচঅ ভিদিরে হোবিতে চর্চা বুউত উইয়্যে। চাঙমা জাদঅর মনঅ দুঘঅ কধা, রাগঅ কধা, অগঅমানঅ কধা ইআনি হোবিতেত দোলে ফুদি উত্তে।
আখাতারুজ্জামানে লিক্কে-
আবার তাদের পালাবার পালা। তবে এবার শুধু পালানো নয়। আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন এবার তারা ফুটিয়ে তোলে স্পৃহায়, সেই স্পৃহা বিস্ফোরিত হয় সংকল্পে। চাকমারা, পাহাড়িরা রুখে দাড়ায়।
চাকমা কবিতা আজ এই আত্মপ্রতিষ্ঠার সংকল্পে উত্তেজিত। নরনারীর প্রেম সেখানে গৌণ। প্রকৃতি, কেবল প্রকৃতি বলে কবিতায় ঠাঁই পায় না, প্রকৃতির হৃতসর্বস্ব চেহারা তাদের ক্রোধের কারণ। তাদের প্রকৃতি অন্য পেশিসর্বস্ব শক্তির দ্বারা লুন্ঠিত ও বিধ্বস্ত। …।
চাকমা কবিতা আজ গৃহচ্যুত, মৃত্যু ও হত্যায় নীল এবং একই সঙ্গে প্রতিরোধের সংকল্পে রক্তাক্ত।’
চাঙমা জাদঅ উগুরে নানা রিপ্রেশান-নিরজাতন-কস্ত লাগানা ইত্যাদি নানা কারণে চাঙমা জাদঅর মানুচ্চুনে তারা মনঅত দুক-কস্তঅ-রাগ ফুদে তুল্লোন তারা হোবিতেত।
হালিক বানা রাগ দুগ মনঅত বানি থানাই কী তোইলে সার কধা বা শেজ কধা!?
আখতারুজ্জামানে লিক্কে- “কবিতা হল মানুষের অনুভূতির সারাৎসার।”
অরথাত, হোবিতে অহলঅদে বানা মনঅ কধা ফুদে তুলিবার এগ্গান চিগোন চাগোন মাধ্যম মাত্র। সিওত বানা চিগোন গুরিনেই গোদা বেক্কানঅর বা মনঅত দুগঅর  কধাআনঅর তলাআন উধি এজে। হোবিতের ইআনওই সীমাবদ্ধতা।
অরথাত হোবিতে এগ্গো জাদঅর দুগঅ কধা, কস্তঅর কধা, তার আ উগুরে নানা আগাজঅ বাচ পুরিবার কধা ইআনি বাকবাক্যা গুরি ফুদে তুলি ন পারে। হোবিতেলোই সিআনি ফুদে তুলা ন জাই।
এগ্গো জাদঅর সে জিনিচ্চানি ফুদে তুলঅদে দরকার আরঅ অন্য সাইত্য মাধ্যম। এবং আর সিআনওই অহলঅদে বা সে মাধ্যমআনওই অহলঅদে উপন্যাস।
আর আখতারুজ্জান ইলিয়াসে সে দাঙর মাধ্যমআনওই বেবঅআর গুরিবাত্তেই কো্জুলি গুজ্জে লিঘিএউনোরে।
ত্যা লিক্কে-
“কিন্তু কেবল অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া আর সংকল্প দিয়ে চিহ্নিত হবে না, এর সবই আসবে জিজ্ঞাসা আর বিশ্লেষণের ভেতর দিয়ে। কেবল তখনই চাকমা আধুনিক ব্যক্তি তার জীবনজাপনে চাকমা ইতিহাস, সংগ্রাম ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে সন্ধান করার উদ্যোগ নেবে।”
বানা দুঘঅত আঘঙ, কস্তঅ পাঙর, চিদিরে-সেতলারউনে আমারে মারে ফেলেলাক জালে ফেলেলাক, শেজ গুরি ফেলেলাক, আমি  আর নেই আর, আমি দ শেজ ওই জিএগোই, আমা জাগাজুমি ভুই সয় সম্পত্তি কাড়ি ললাক, আমারে উবোত গুরি ফেলেলাক এই মনঅ দুগঅ কধা বানা কোই থ্যালে ন অবঅ আর।
কিত্তেই আমি এই দুগ-কস্তঅ পেইর, কিঙেরি এই দুগঅত্তুন কস্তঅত্তুন মুক্তি পেবঙ সে চিদেও আমাত্তুন আমা জাদঅত্তুন গরানা দরকার।সিআন বানা সমাজঅত, রাজনীতিত-ব্যক্তি জীঙানিত নয়, সিআন সাইত্যত লেঘাতঅ বা উপন্যাস অহলে উপন্যাসঅতঅ আমার ফুদেই তুলা পুরিবঅ।
ইক্কিনে পুজোর বা প্রশ্ন অহলঅদে আমি কি আমা সমাজঅত, জাদঅত, রাজনীতিত সে বিশ্লেষণঅত জেই? আমি কী কিত্তেই এনজান অহর, কী গল্লে কী পধ ধল্লে বা ফোলো গল্লে এই দুগঅতত্তুন মুক্তি পেবঙ সে চিদে গুরি?
এগ্গো জাদঅর প্রকৃত মুক্তি নিজঅত্তুনও্ই আনা পরে। আমি কি মুক্তির পধ লোইনেই চিদে গুরি। আমি কি তলবিচ গুরি আমা জাদঅর দুগ কস্তঅ লোইনেই? কিঙিরি মুক্তি পেবঙ সিআন লোইনেই বিশ্লেষণ গুরি?
জ্যা জা-ই কোদোক না ক্যানঅ, আমা জাদঅর সাইত্য হালিক এ প্রশ্নআনির উত্তর  নেতিবাচকভাবেই দ্যা। না, আমি আজলে হুম্বিক হেই, কস্তঅ পেই-দুগ পেই, আমার রাগ উধে, আমি রাগে শোজেই; হালিক আমি আজলেই বিশ্লেষণ ন গুরি।
জুনি গত্তঙ, তোইলে, আমি আখতারুজ্জামানঅ কধামতে হোবিতে ন লিঘিনেই উপন্যাস লিঘিলোঙুন! আমি তলবিচ গুরি চেলঙউন!
আর উপন্যাস মানেই অহলঅদে বিশাল বিরটা ক্যানভাস, বিরাট তার ব্যাড়/বেড়, বিরাট তার সময়, ভালুক্কুন তার মানুচ, ভালক্কানি তার মন, ভালক্কানি তার মনঅ কধা, ভালক্কানি তার সমস্যা।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসে আক্ষরিকভাবে বানা উপন্যাস লিঘিবাত্তেই কুইয়্যে সিআন নয়, ত্যা আজলে জাদঅর উপন্যাস লিঘিবাত্তেই কুইএ। ত্যা কুইয়্যে বানা ব্যক্তি নয় সমষ্টি লোইনেই চিদে গুরিবাত্তেই। 
আর সে কামআনওই ইক্কো আমা চাঙমা জাদঅর সাইত্যিক-সমাজঅ চিদে গুরিএ-রাজনীতিবিদ-সংস্কৃতি কর্মীউনোত্তুন গরা পুরিবঅ। 
আমার কি সে সেদাম আঘে?!!

Wednesday, November 6, 2013

হাঙদক দাঘঅ কধা ব্লগসাইটঅত শেয়ার গরঙর


চাঙমা কিজু দাঘঅ কধা ব্লগসাইটঅত শেয়ার গরঙর- 

দাঘঅ কধা: পল্লা- এক 

.          অজর/অত্তে হাঙ আরঅ জুমঅত উধে

.          অজাত্যা কুরো নাগে কানে ফোর এক ঘরঅ কুজ্যা সাত ঘরঅত ওহল

.          অলবঅ ত্যালে মুমুজ্জে ভাজা

.          অত্তে দুমঅ পুও আরঅ পুনওত ঘু

.          অহদত নাজুনি বুড়ি আরঅ পুজ্জে ধুলঅ বাড়ি

.          অহক কধা কদে আমঅক বেজার গরম ভাত দিলে বেলেই বেজার
.           
.          অহরিঙঅ লগে চঙরা পাগল

.          আককলে হদারে চিনে

.          আকবাল্যা জিন্দি জাই সিন্দি মরা শামক্কোও উধি জাই

.          আ কাজ্যে চোলঅ দোগান দে না

.          আগঅকুজ্জে আগঅত ভাঙানা

.          আগাজঅ চান তারা পুনঅ কেচ ফরা
.           
.          আগুনঅ কুরে ঘি ন অঅয়
.          
.          আগুনঅত দিলে মরা শুগুনিবোও আআড়ি পাক হাই 

.          আগে হায় আঘে জায় তা লাগঅত কেওই ন পাই

.          আগে গ্যালে আগে পাই

.          আগে গ্যালে বাঘে হাই পিচ্চে থ্যালে সনা পাই

.          আঘে কারবাজ্যের আঘে জার নেই কারবাজ্যের নেই জার

.          আহগানাত্তুন ভেরেত্তো দাঙর

.          আহজ তোনদোই বাচ তোন গুই এহরালোই বিগুন তোন

.          আজারঅ কলা বাজারঅত জাই

.          আহজার কুবঅর নঅ এক কুবে চিল্ল্যে

.          আহত পুজঅদে কুজুপাদা ধরে

.          আহততে আহততে নলা গা’দে গা’দে গলা

.          আহদঅ বাঙুরি থেবরক হাই

.          আহদিক পনদিগে ইজা মাধাত ঘু

.          আহদিক পনদিকে পধঅ উগুরে আহঘে

.          আহদিক হাদিলে পাদিল ভাঙে

.          আজি- পাড় অলে পাজি

.          আহদিলে চুদির পুত ন আহদিলে চুদির পুত
.          আদদানঅত্তুন বিউনো চেত
.          আধিক অহলিবে কাজজো নাজ
.          আনধা গুরু হদা রাককোয়াল
.           
.          আবিদদনে রাজারেইও চজজাই

.          আমনঅ বুদ্দিলোই তরে পরঅ বুদ্দিলোই মরে

.          আমনঅ আন্দাজ পাগলে বুঝে

.          আমনঅ আনদাজ বুজিলে পাই

.          আমনঅ বুদ্দি সনা পরঅ বুদ্দি রাঙ আরাল্যা পারাল্যা বুদ্দি গাজঅ মাধাত তাঙ

.          আমনঅ মাধা ফেজা আমনে/নিজে ন দ্যাঘে

.          আমঅনত্তুন ন থ্যালে দুইন্যা আন্ধার

.          আমনঅত্তুন থ্যালে হা, পরঅত্তুন থ্যালে চা

.          আমনে ন পাই জাগা কুত্তা পুজে বাগা

.          আহজিয়্যে রাজিয়্যে গুরবুঅ নীতিএ পুদিয়্যে বুড়োবো

.          আহরাইদে মাচচো দাঙর
.           
.          আহলজি মানজোর বর পঝা

.          আহলঅ কাম সারি বালঅ কাম
.           
.          আহদঅ পাচ আঙুল সঙ নয়

.          আরাচাকঅত আরাচাক আবুজে

.          আরঘাত্তুন দারঘা কাবঅর ন উরি জার হা

.          ইগিমঅ কলা বাগলঅ ভালা

.          উচচো মরে এ কালে লুচ্চো মরে কালে কালে

.          ইজেবঅ গুরু বাঘে হেই ন পারে

.          উজোলে ন মরে বুগিয়্যে মরে

.          উজু আঙুলে ঘি ন উধে

.          উবুরে উবুরে বুইয়্যের বাই কলগঅ মাদিয়্যে থান ন পাই

.          উড়েদে পেককো বাআত ফরফরাই

.          উহরু মুরু যাতত্রা যা গরে বিধাততা

.          উনা ভাদে দুনা বল বেশি ভাদে রজাত্তল

.          উদুরুঙ ধুদুরুঙ মাল্যা মা সুরুঙ

.          উদ্যে মাধা ফুত্যা গেই তারে দ্যালে যাত্রা নেই

.          উললো লাগরিত কুলোত ব ন আন মাধাত দিনেই জুমোরআন ব

.          উলঅত আহত দি বাদ্যাল্যা জা

.          এক কজা হেলেইও রোন দি কজা হেলেইও রোন

.          এক আহদে মাজজে শেল দি আহদে হোএই ন পারে

.          একদিনে জারকাল ন জাই/এক মাঘে জারকাল ন জাই

.          এক মোক্ক্যা ঝাদি ভাত,দি মোক্যা লাধি ভাত, তিন মোক্যা কবালঅত আহত

.          এক ন জিনে নুদি সমারে এক ন জিনে উহদি সমারে

.          এক শিআলঅর বিজে তনতনেলে বেগ শিআলঅর বিজে তনতনাই
.           
.           
.          এক কুবে গাজ ন পরেএ

.          এক তুলে হেদে এক তুলে পুদে
.           
.          একমুএ বিয়াল্লিচ ভাচ

.          এগা শজজ্য তেল নঅয়

.          এহত কিনি পারে কাজি কিনি ন পারে

.          এহদঅ ঘা পাদা দারু

.          এইত এলে ত্যা গাজ তগাতগি

.          এইত শুগেলেহ মোচচো পারাহ

.          এহইততো জাদে লেচচান বাজে

.          এইদ/এহত মুরিলে মোচচো পারা

.          এইত/এহদ মরা কুলোলোই ধাঘি রাঘেই ন পারে
.           
.          এহরা পুততে শিককাদিও পুড়ে

.          এহরা কুদেদে গড়বো

.          এহরা হেইয়ে বাঘঅ দরে চিত হিয়ে বাঘ লাআপ পানাআ

.          এহরা মাজ দাবানা সাচ রান্যা বিগুন ঘুন্যা মাচ

Sunday, October 27, 2013

সাহিত্য শিল্পকে যারা কৃত্রিম বলে অবজ্ঞা করে তারা সত্যকে জানে না

শিরোনামটি আমার মন্তব্য নয়। এই বক্তব্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তিনি 'সত্য ও বাস্তব' নামে ছোট এক প্রবন্ধে তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ করেন (প্রবন্ধটির প্রকাশকাল জুন, ১৯৪১)। এই প্রবন্ধটি 'সাহিত্যের স্বরূপ' নামক প্রবন্ধ সমষ্টির  অংশ।

আজ আমি তাঁর এই লেখাটিকে উপজীব্য করে সাহিত্য শিল্পকে দেখার চেষ্টা করবো! পার্বত্য চট্টগ্রামের সাহিত্য বা শিল্পকে আমরা কীভাবে দেখবো তা এই ছোট প্রবন্ধে যেন উল্লেখ রয়েছে!

 মানুষ চায় মনের মতো
তিনি তাঁর এই প্রবন্ধে বলছেন-
মানুষ আপনাকে ও আপনার পরিবেষ্টন বাছাই করে নেয় নি। সে তার পড়ে-পাওয়া ধন। কিন্তু সঙ্গে আছে মানুষের মন; সে এতে খুশি হয় না। সে চায় মনের-মতোকে।
মানুষ কেন মনের মতো চায়?  রবি ঠাকুর বলছেন-
সে সম্পূর্ণ রূপ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে নি; তাই আপনার সৃষ্টিতে আপনার সম্পূর্ণতা বরাবর সে অর্জন করে নিজেকে পূর্ণ করেছে। সাহিত্যে শিল্পে এই-যে তার মনের মতো রূপ, এরই মূর্তি নিয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন জীবনের মধ্যে সে আপনার সম্পূর্ণ সত্য দেখতে পায়, আপনাকে চেনে।
 তিনি আরো বলছেন-

বড়ো বড়ো মহাকাব্যে মহানাটকে মানুষ আপনার পরিচয় সংগ্রহ করে নিয়ে চলেছে, আপনাকে অতিক্রম করে আপনার তৃপ্তির বিষয় খুঁজছে সেই তার শিল্প, তার সাহিত্য। দেশে দেশে মানুষ আপনার সত্য প্রকৃতিকে আপনার অসত্য দীনতার হাত থেকে রক্ষা করে এসেছে। মানুষ আপনার দৈন্যকে, আপনার বিকৃতিকে বাস্তব জানলেও সত্য বলে বিশ্বাস করে না। তার সত্য তার নিজের সৃষ্টির মধ্যে সে স্থাপন করে। রাজ্যসাম্রাজ্যের চেয়েও তার মূল্য বেশি।

হ্যাঁ, রবি ঠাকুর সত্য কথাই বলেছেন! মানুষ তার আপন সীমাবদ্ধতাকে বা দীনতাকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে চায় না বলেই সাহিত্যে তার স্বপ্নকে লালন করে, শিল্পে নিজের পূর্ণতাকে খুঁজে নিতে চেষ্টা করে। এবং এই সৃষ্টিই তাকে অমূল্য রতন দিয়ে দেয়! তার সাথে রাজ্যসাম্রাজ্যেরও যে তুলনা হয় না!
কী সেই সাহিত্য বা কী সেই শিল্প যা রাজ্য সাম্রাজ্যের চেয়ে দামি হয়ে ওঠে? কেন তা এত দামি হয়ে ওঠে?
নিজেকে বা নিজের চারিপার্শ্বকে পরিপূর্ণতা দেয়ার সাহিত্যিক প্রচেষ্টাই তো তার কাছে দামি মূল্যবান এমনকি সাম্রজ্যের চেয়েও! সাম্রাজ্য রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু সাহিত্য শিল্প যা সমাজের দর্পণ এবং একই সমাজ জাতির অপূর্ণতাকে পরিপূর্ণতা দেয়ার 'হাতিয়ার', তা শত শত বছর ধরে টিকে থাকে, শত শত বছর ধরে সেই সৃষ্টি সমাজ জাতিকে পথ দেখায়, পথের নিশানা দেয়।
এই বহমান অমূল্য সম্পদকে যে সমাজ বা জাতি অবজ্ঞা করতে চায় সে যে সত্যকেই জানে না!

রবি ঠাকুর বলছেন-
যেখানে মানুষের আত্মপ্রকাশের অশ্রদ্ধা সেখানে মানুষ আপনাকে হারায়। তাকে বাস্তব নাম দিতে পারি, কিন্তু মানুষ নিছক বাস্তব নয়। তার অনেকখানি অবাস্তব, অর্থাৎ তা সত্য। তা সত্যের সাধনার দিকে নানা পন্থায় উৎসুক হয়ে থাকে। তার সাহিত্য, তার শিল্প, একটা বড়ো পন্থা। 


'সাহিত্য শিল্পকে যারা কৃত্রিম বলে অবজ্ঞা করে তারা সত্যকে জানে না।' তারা জানে না সাহিত্য ও শিল্প বাস্তব এবং খুবই জীবন ঘনিষ্ট! এই জীবনকে আপনারা আমার কী চোখে দেখতে চাই? এই বাস্তব সত্যকে আমরা কীভাবে গড়তে চাই?

আপনাকে অতিক্রম করে কীভাবে আমরা নিজের জন্য, জাতি বা সমাজের জন্য তৃপ্তির-গর্বের-গৌরবের এক নিরবিচ্ছিন্ন জীবনবোধ উপহার দিতে পারি তাই কি আজ আমাদের সাহিত্যিক শিল্পী লেখিয়ে লেখকদের ভাবনার বিষয় হওয়া প্রয়োজন নয়? চলমানতাকে রূদ্ধ করা কি তার কর্তব্য? সে কি তবে বেঁধে নিতে চায়, বেঁধে রাখতে চায় বহমানতাকে?

বদ্ধ দুয়ার রূদ্ধ অবস্থাকে নয়, কৃত্তিমতাকে নয়, অসত্যকে নয়, পর বৃত্তিশীলতাকে নয়, পরশাল্যকে নয়! আসুন! সত্য ও বাস্তবকে তুলে ধরি! উচ্চে তুলে ধরি বহমানতাকে, বিকাশমানকে, ইতিহাসের চলমান বহমান স্রোতকে!ইতিহাস মানে তো তুমি আমি! আমরা! আমাদের মান মর্যাদা আত্ম মর্যাদা কেন তবে ভুলুন্ঠনে! স্রোত কে রূদ্ধ করে? কে?

প্রকৃত শিল্পী সাহিত্যিক বা লেখক কি তা হতে দেবে? না, কখনো ই নয়, কখনোই হতে দেবে না! ! !

কারণ শিল্প সাহিত্য কচুরিপানা থেকে জন্মায় না, জন্মায় না শেওলা থেকে...
তার জন্ম বাস্তব হতে, সত্য থেকে, সত্য চলমান...


 

সর্বাধিক পঠিত

ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে বিভ্রান্তিকর শিক্ষাঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসংগ-১৯৪৭ সাল

ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে বিভ্রান্তিকর শিক্ষা তারিখঃ ১৬ আগস্ট, ২০১৭ ইতিহাস একটি জাতি বা জাতিসত্তা তথা জাতিসমষ্টিকে নানাভাবে প্রভাবিত কর...