Sunday, July 30, 2017

জেনারেল অং সান General Aung San




তারিখঃ ১৯ জলাই, ২০১৭

বার্মা, এবং বর্তমানে মিয়ানমার নামে পরিচিত দেশটি গঠনে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাঁর নাম অং সান, জেনারেল অং সান। আজ ১৯ জুলাই, ২০১৭ তাঁর ৭০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মিয়ানমারের জনগণ আজ তাঁকে স্মরণ করছে।

দেশটি স্বাধীন হবার মাত্র ৬ মাস আগে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৯ জুলাই আততায়ীর হাতে শহীদ হন।

তাঁর দেশের বিভিন্ন জাতিসত্তাসমূহের মাঝেও তিনি ব্যাপকভাবে সম্মানিত রাষ্ট্রনেতা হিসেবে বিবেচিত হন।

বার্মা স্বাধীন হলে অন্যান্য জাতিসত্তাসমূহকে সমমর্যাদার ভিত্তিতে অধিকার প্রদান করার প্রতিশ্রুতি তিনি প্রদান করেন। এ উপলক্ষে তিনি জাতিসত্তাসমূহের প্রতিনিধিদের সাথে 'পাঙলঙ এগ্রিমেন্ট' নামে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন। এই চুক্তি এখনো মিয়ানমারে জাতিসত্তাসমূহের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে প্রধান ভিত্তি বা পথনির্দেশদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

অং সানের কন্যা অং সাং সু'কি এখন 'স্টেট কাউন্সিলর' হিসেবে দেশটির শাসনক্ষমতার নেতৃত্বে রয়েছেন।

শিল্প-সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা

তারিখঃ ২৪ জন, ২০১৭
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছে হলো। অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো আলোচ্য বিষয় খুবই সহজ মনে হতে পারে! কিন্তু এই আলোচনার একটি জটিল 'অমীমাংসিত' প্রপঞ্চ রয়েছে। অনেকটা 'ডিম আগে নাকি মুরগী আগে' প্রশ্নটির মতো একটি উত্তর প্রাপ্তির বিষয় জড়িয়ে রয়েছে! 
শিল্প-সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা থাকা বা না থাকা বা এই ধারার প্রাধান্য থাকা না থাকার সাথে সাথে নিচের প্রশ্নটি নিয়ে আমরা ভাবতে পারি!
'সংগ্রামী ধারার সাহিত্য আগে সৃষ্টি হবে নাকি সংগ্রাম জারি থাকা বা সংগ্রামী ধারা জোরদার' হওয়া আগে সৃষ্টি হতে হবে?
সংগ্রাম যদি জারি না থাকে বা যদি সংগ্রাম বা 'বিপ্লব' জোরদার না হয় তবে সংগ্রামী ধারার শিল্প ও সাহিত্য চলমান সমাজ জীবনে কী প্রাধান্য পাবে? অথবা প্রথমে সমাজের শিল্প ও সাহিত্যে সংগ্রামী ধারা সৃষ্টি হবে, তারপরে পরবর্তী প্রেক্ষাপট হিসেবে আসবে জোরদার সংগ্রাম?
কখন একটি চেতনামূলক গান মানুষকে জাগাতে পারে? 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে' গানটির আবেদন কি '৭১ সালের আগে ছিল? নাকি '৭১ এর ৯ মাসের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে এই গানটি 'আবেদনময়ী' হয়ে মানুষকে জাগিয়েছিল?
শিল্প ও সাহিত্য নিয়ে আলোচনার সময় এই বিতর্কটির মীমাংসা তবে কি আবশ্যকীয়ভাবে সামনে আনতে হয়/হবে?
বিষয়টি নিয়ে কথাবলতে হোল, কারণ এ নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে আমরা একে অন্যকে দোষারোপ করে থাকি। পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে যে সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ব চলছে তাতে আমরা এই বিষয়টি নিয়েও নানা ধোঁয়াশামূলক চিন্তাভাবনা করি। অথচ, সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে বা সমাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে নেতৃত্ব দিতে গেলে বা এ নিয়ে ভুমিকা রাখতে হলে আমাদের এই বিষয়টিকে সিরিয়াস আলোচনা করে মীমাংসায় যেতে হবে। 
আপাতত এটুকু মাত্র যোগ করলাম। 

রাজীব হুমায়ুন স্যার চলে গেলেন


তারিখঃ ০৫ জুলাই, ২০১৭
দোষেগুণে তিনি মানুষ ছিলেন। তাঁর ছাত্র ছিলাম আমি এবং আরো অনেকেই ছিলেন। বন্ধুদের অনেকে তাঁকে সমালোচনা করতো। আমিও মাঝে মাঝে তাঁর কথা শুনে মেলাতে পারতাম না! 
তিনি বারবার বলতেন, তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রী/বিরোধী দলীয় নেত্রীর শেখ হাসিনা'র বন্ধু ছিলেন। তাঁকে সরাসরি প্রশংসা করলে তিনি যে খুশি হতেন তা জানা ছিল। তিনি সুযোগ পেলেই নিজের কথা বলতেন।
তারপরেও তিনি ছিলেন আমার আমাদের শিক্ষক। তিনি ভাষাতত্ত্ব, পরে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন।
আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সময় ভাইবা বোর্ডে তিনি আমাকে উক্ত বিভাগে ভর্তি হতে একপ্রকার অনুরোধ করেছিলেন।
কিছুদিন আগে ঢাকায় গিয়ে তাঁর এক আত্মীয়ের সাথে দেখা হয়। এ সময় স্যারের সাথে দেখা করার আন্তরিক ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম। তবে যা হয়, সারাজীবন ইন্ট্রোভারট থাকায় অনেক ইচ্ছে বাস্তবে রূপান্তর করা হলো না। স্যারকে আর দেখতে পেলাম না।
আজ যখন শুনলাম তিনি মারা গেছেন, তখন হঠাত মনটা খুব শুন্য মনে হলো। 
কখন যে দুটো চোখে অশ্রু জমা হলো জানতে পারিনি। তিনি আমাকে হয়তো খুব ভালো বাসতেন। এবং কী জানি এক অন্য কারণে তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করতাম।
আজ মনে হলো তিনি মারা যাওয়ায় একটি তীব্র রোদের সময় ছায়া দেয়া একটি আপন বৃক্ষের পতন যেন আমি দেখলাম।
সম্ভব হলে একদিন তাঁর কবরে গিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাবো।
নিচে Dipongker Goutam নামে একজন ফেসবুক বন্ধুর স্যারকে নিয়ে লেখাটি শেয়ার করলাম
রাজীব হুমায়ুন স্যার আর নেই
----------------------------------------
বিশিষ্ট ভাষাবিদ, নজরুল গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. রাজীব হুমায়ুন মৃত্যুবরণ করেছেন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর।
১৯৫০ সালে সন্দ্বীপে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন ভাষাবিজ্ঞানে পিএইচডি করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে যোগ দেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে এবং ভাষাবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সনও ছিলেন তিনি।পুরানো ঢাকার ভাষা নিয়ে তার কাজ ছিলো খুবই উল্লেখোগ্য।
যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর হাতে নির্যাতনে নিহত কিশোর মুক্তিযোদ্ধা রাজীব হুমায়ুনের বড় ভাই জসিম । তিনি মীর কাসেমের মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন।
চট্টগ্রাম উদীচীর সঙ্গে তিনি ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার জীবন ও কর্মের প্রতি জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি

সর্বাধিক পঠিত

ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে বিভ্রান্তিকর শিক্ষাঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসংগ-১৯৪৭ সাল

ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে বিভ্রান্তিকর শিক্ষা তারিখঃ ১৬ আগস্ট, ২০১৭ ইতিহাস একটি জাতি বা জাতিসত্তা তথা জাতিসমষ্টিকে নানাভাবে প্রভাবিত কর...