Thursday, July 31, 2014

সমঝোতা প্রশাসনই লংঘন করেছে, সাজেকবাসী নয়


প্রশাসন সমঝোতা লংঘন করেছে, সাজেকবাসী নয়

যে স্থানে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করা হবে সেখানে বেদীর উপর গত ২৮ জুলাই সকালে আগে থেকে বানানো (বলতে গেলে অন্য এক গ্রাম থেকে ধার করে সিয়ে আসা) ছোটো সাইজের একটি বুদ্ধমূর্তি রেখে দিয়ে এসেছে সাজেকের এলাকাবাসী। এ নিয়ে প্রশাসন খুব টানটান ভাব দেখানোর চেষ্টা করেছে। ভাবটা ছিলো যেন, বিরাট কিছু একটা ‘অপরাধ’ ‘আইনের লংঘন’ ঘটতে যাচ্ছে বা ঘটে গিয়েছে। কোনো এক মিডিয়ায় সাজেক পুলিশ থানা প্রশাসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে- যারা ‘সমঝোতা লংঘন’ করে ‘রিজার্ভ ফরেস্ট’ এলাকায় ‘বেআইনীভাবে’ বুদ্ধমূর্তি বসিয়ে দিয়েছে তারা ‘বহিরাগত’ এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘মামলা’ দেয়া হবে ও ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেয়া হবে।

কিন্তু দ্ব্যর্থহীনভাবেই বলা যায়. সমঝোতা হয়েছিল ‘বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ’ করা হবে না। তাই বলে আগে থেকে বানানো বুদ্ধমূর্তি অস্থায়ীভাবে সেখানে রেখে আসা যাবে না তা কিন্তু সমঝোতায় ছিলো না। সুতরাং সমঝোতা লংঘনের প্রশাসনিক অভিযোগ ধোপে টিকেনা। বরং একদল পুলিশ সাজেকের উজো বাজারে রেখে দিয়ে প্রশাসন নিজেই নিজেই সমঝোতা লংঘন করেছে মাত্র।

যাইহোক, বুদ্ধর্মর্তি বসিয়ে দিয়ে আসার পরে সাধারণ জনগণ সেখানে ধর্মীয় সভার আয়োজন করে। এ সময় যেসকল ভিক্ষূগণ উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন- চিরসুখ ভিক্ষূ, জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু, শ্রদ্ধারত্ন ভিক্ষু, রত্নশিরি ভিক্ষূ, মৈত্রীসার ভিক্ষু, মানবজ্যোতি ভিক্ষু, শীলপ্রিয় ভিক্ষু, সংঘদ্বীপ ভিক্ষূ, প্রিয়শ্রী ভিক্ষু, ত্রিরত্ন ভিক্ষু।
বেদীর উপর অস্থায়ীভাবে একটি বুদ্ধমূর্তি বসিয়ে রাখা হয়েছে। এতে জায়গাটির শ্রী বৃদ্ধি পেযেছে গুণিতক


সাজেকের একজন জানালো, দুপুরে দীঘিনালা বনবিহার থেকে যখন ভিক্ষুগণ গাড়িতে করে সাজেকের উজো বাজারে ধর্মীয় সভায় অংশ নিতে আসছিলেন তখন বাঘাইহাট আর্মি চেকপোস্টে ভিক্ষুদের বহন করা গাড়ি বেশ কিছুক্ষণ থামিয়ে রাখা হয়। পরে অবশ্য ছেড়ে দেয়া হয়।
ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠান


ধর্মীয় সভায় ভিক্ষুগণ সকল সমস্যা মৈত্রীময় চিত্তে ধীরস্থির শান্ত থেকে মোকাবেলা করতে পরামর্শ প্রদান করেন।

সাজেকবাসী রাঙামাটি এমপি উষাতন তালুকদারের ভূমিকা দেখতে চায়

শুধুমাত্র সাজেকবাসীই কি উজো বাজারে বুদ্ধমূর্তি স্থাপনের সরকারী বাধাদানের প্রতিবাদ করে যাবে?  বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করে জুম্ম জনগণকে নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদের পয়াসের প্রতিবাদ কি শুধু সাজেকাবাসী করে যাবে? সাজেকবাসী রাঙামাটি তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উষাতন তালুকদারসহ সকল জনপ্রতিনিধিত্বশীল নেতৃত্বের ভূমিকা দেখতে চায়। তারা সাজেকাবাসীদের ভূমি অধিকারের লড়াই তথা নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে একাত্মতা প্রকাশ করবেন বলে সাজেকবাসীর প্রত্যাশা।

সতর্ক থাকুন! নানা প্রচারণা, ‘অপ’ প্রচারণা চলবে

সতর্ক থাকুন! সাজেকবাসীর লড়াইকে ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে নানা প্রচারণা-অপপ্রচারণা চলবে!

যেকোনো লড়াইকে পরাজিত করতে শাসকগোষ্ঠী প্রথমে নৈতিকভাবে লড়াইকে আঘাত করে। লড়াইয়ের নৈতিক ভিত্তি ধ্বংস করতে সচেষ্ট থাকে। তারপর নানা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে লড়াইকে কানাগলিতে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। অথবা, মূল লড়াইয়ে দিকে যেন দৃষ্টি নিবদ্ধ না হয় তার জন্য নতুন কোনো পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটের ‘আমদানি’ ঘটানোর চেষ্টা করে।
এবং সাজেকবাসীর জায়গা জমি বাচানোর লড়াই, নাগরিক অধিকার রক্ষার লড়াই, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইকেও শাসকচক্র  ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে সচেষ্ট রয়েছে বলেই বোঝা যায়।

প্রথমে, সমঝোতা লংঘনের অভিযোগ তারা তুলেছে। একইসাথে ‘বহিরাগত’দের দিয়ে ‘সকল সমস্যা’ হচ্ছে বলে তারা প্রচার চালাচ্ছে। এছাড়া তারা সাজেকে ‘সন্ত্রাস’ হয়, সাজেকে ‘অস্ত্র’ পাওয়ার বা উদ্ধারের ‘কল্পিত’ ঘটনাও প্রচারে নিয়ে আসতে পারে!
লড়াইয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য আরো নানা কিসিমের প্রচারণাও তারা করতে পারে! তারা সাজেকবাসী ‘অবৈধভাবে রিজার্ভ ফরেস্টের’ এলাকায় বসবাস করছে অভিযোগ তুলতে পারে। সাজেকবাসী ‘আইন মানে না’ ইত্যাদি অপপ্রচারণা চালাতে পারে! এছাড়া আরো কতো প্রকারের বিভ্রান্তি সৃষ্টি প্রয়াস তারা তো করতেও পারে! সুতরাং, সতর্ক থাকুন! সতর্ক হোন!

#Sajek #সাজেক আপেডেটতারিখ: ০১ আগস্ট, ২০১৪

সময়: সকাল ৭.১০ টা

Sunday, July 27, 2014

সাজেক আপডেট: সাজেকের প্রশাসনের কেউই ঈদের ছুটি পায়নি


তারিখ: ২৮ জুলাই, ২০১৪

সকাল ৬.০৫ টা

সকলকে শুভ সকালের চেতনাময় স্নিগ্ধ শূভেচ্ছা!

আজ সোমবার। সাজেকের উজো বাজারের সাপ্তাহিক বাজারবার। উজো বাজারের কয়েক কিলোমিটার দূরত্বের পাহাড়ি গ্রাম থেকে পাহাড়ি নারী পুরুষ তাদের উৎপাদিত জিনিসপত্র ফল ফলাদি, ছাগল গরু মোরগ ইত্যাদি হাতে করে বাজারে নিয়ে আসে দুএকটি টাকা উপার্জন করার জন্য। উজো বাজারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মাত্র দুই বছর হলো। এরআগে বাঘাইহাট বাজারে তারা যেত। কিন্তু ২০০৭-২০০৮-২০১০ সালের সাম্প্রদায়িক হামলাকান্ডের পর সেই বাজারে পাহাড়িরা আর যায় না। তারা একত্রিত হয়ে বসিয়েছে উজো বাজার নামে নতুন বাজার। আজও নিশ্চয় বাজারে বিক্রেতারা আসবেন, আসবেন বেনিয়া ব্যবসায়ীরা।

শান্তিপূর্ণ থাকবে আজকের বাজারবার সবার কামনা এটাই!


তারা মামলা দিয়ে জেরবার হয়রানী করতে চেয়েছিল

তারা মানে, জুম্ম জনগণকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল, তারা মামলা দিয়ে জেরবার হয়রানী করে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল। সেজন্য তারা একই সাথে মাত্র দুয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উজো বাজারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গ্রামের কার্বারীকে সতকীকরণ নোটিশ জারি করেছিল।

তাতে তারা মানে জবরদখলবাজদের চাকুরেরা লিখেছিল- “আপনাকে এই মর্মে নোটিশ প্রদান করা যাইতেছে যে, নিম্নে বর্ণিত তপসীল ভূক্ত জায়গায় আপনি ঘর বাড়ী বাগান চাষাবাদ করার পায়তারা করিতেছেন। নোটিশ প্রাপ্তির পর হইতে আপনী ঐ সমস্ত কাজ থেকে বিরতি থাকিবেন। এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকিবেন। এই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। নোটিশ প্রাপ্তির পর থেকে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য বলা গেল।”

বাঘাইহাটের রিজার্ভ ফরেস্টের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দিন চিঠি দিয়েছিল ১৯ জুলাই, ২০১৪ ইং তারিখে আর বাঘাইছড়ি পুলিশ থানার অফিসার ইনচার্জ চিঠি দিয়েছিল ২২ জুলাই, ২০১৪। অর্থাৎ, তাদের যুগপৎভাবে একই উদ্দেশ্য ছিলো! তাদের উদ্দেশ্য ছিলো, শুধু ‘বুদ্ধমুর্তি’ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া নয়, তাদের পেছনের উদ্দেশ্যছিলো জুম্ম জনগণকে উজো বাজার ও তার আশপাশ থেকে উচ্ধে করা।

 ‘আইন’এর ভয় দেখিয়ে ’আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল’ থাকার ওজর দেখিয়ে তাারা এই কাজ করতে ছেয়েছে। কিন্তু এতবছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার জুম্মজনতাকে তাদের নিজ বাস্তুভিটা থেকে ‘কোন আইন’এর ভিত্তিতে তারা উচ্ছেদ করেছে তার কথা তারা চেপে যায়!

দখলবাজ জবরদখলকারীদের প্রতি ঘোষনা! সাজেকবাসী ভুমিচ্যুত হতে হতে এমনিতেই জেরবার! সুতরাং তাদের জেরবার করার চেষ্টা মাঠে মারা যাবার সম্ভাবনা বেশি!

#সাজেক #সাজেক #সাজেক #সাজেক আপডেট !


বেড়ায় টাঙিয়ে রাখা বুদ্ধমূর্তির ছবি তারা ছুড়ে দিয়েছিল

গতকাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা জানালেন, ২৪ তারিখের দিকে তিনি উজোা বাজরের দিকে যাচ্ছিলেন। এই সময় একটি আর্মি গাড়ি উজো বাজারের যেখানে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করার কথা সেখানে এসে তারা থামলো। সেখানে বেড়ার ফাকে একটি বুদ্ধমূর্তি টাঙিয়ে রেখেছছিল আন্দোলনকারীরা। এক আর্মি সেই ছবি বেড়া থেকে খূলে নিয়ে তা মুচড়ে ফেলে দিলো পিচঢালা পথে। ‘জুম্ম’ সিদেসাধা মহিলা চেয়ে থাকলেন সেই ঘটনা। আর্মিরাও তাকে দেখে থাকলো। এরপর তারা চলে যাবার সময় তিনি তা পথ থেকে তুলে নিয়ে সম্মান ও শ্রদ্ধাবনত হয়ে তা আগের জায়গায় তুলে রাখলেন। আর্মিরা তাকে দেখে চলে গেল।

আর্মি পুলিশ প্রশাসনের কেউই ঈদের আনন্দ ছুটি ভোগ করতে পারেনি

কাল জানতে পারলা্ম, সাজেকে যেসকল আর্মি ও পুলিশ চাকুরি করছে তাদের কেউই ঈদের ছুটি পায়নি। তারা বড় সাধ করে তাদের নিজের বাড়িতে ঈদ করার জন্য সাজেক থেকে আনারস-কাঠালসহ নানা ফলফলাদি কিনেছিল। কিন্তু তা পচে গিয়েছে!
আত্মীয় পরিজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে না পারায় তারা যেমন নিরানন্দে আছে তেমনি তারা ক্ষুব্ধ ক্রোধান্বিতও। কিন্তু এই বেদনার কথা তারা কাকে বলবে?

রাষ্ট্রযন্ত্র তো তাদের ’কেনা পালেয়ায়ান’ ‘পাহাড়াদার’ চৌকিদার ব্যতিত কিছুই মনে করে না!

সবাই ভালো থাকবেন।

চরিত্র নিয়ে কিছু কথা!

তারিখ: ২৭ জুলাই, ২০১৪

আজ চরিত্র নিয়ে কিছু কথা লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে যেখানে বলা হয়েছে- সম্পত্তি হারিয়ে গেলে কিছুই হারিয়ে যায় না, স্বাস্থ্যের হানি ঘটলে কিছুটা হারানো বোঝায়; কিন্তু যখন চরিত্র নষ্ট হয় বা হারিয়ে যায়, তখন সবকিছুই হারিয়ে গেল।

When wealth is lost, nothing is lost; when health is lost, something is lost; when character is lost, all is lost.

উদ্ধৃতিসূত্র: ব্রেইনিকুওটস ওরেয়বসাইট  
 এখন আসলে চরিত্র বলতে কী বোঝায়? 
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একসময়ের প্রেসিডেন্ট এর চরিত্র বিষয়ক একটি উদ্ধৃতি এখানে কপিপেস্ট করছি- 
"Character is like a tree and reputation like its shadow. The shadow is what we think of it; the tree is the real thing."

আব্রাহাম লিংকন চরিত্র বা ইংরেজি ভাষায় কারেক্টারকে একটি গাছের সাথে তুলনা করেছেন, একটি সাথে গাছের ছায়াকে তুলনা করেছেন চরিত্রের কারণে একজন ব্যক্তি জনমানুষের বা তার পাশের জনের কাছ থেকে যে সম্মান-অপমান-মর্যাদা বা মান অর্জন করেন তার সাথে।
অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্য যত পরিমাণে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন-গুণসম্পন্ন-সুদৃঢ-মানবিকতাবোধ সম্পন্ন-অকপট হবে তার মান-মর্যাদা-সম্মান তত বাড়বে বা ডালপালা-পাতাময় সেই গাছের ছায়া ততো বিস্তৃত হবে। 

চরিত্র বলতে আসলে কী বোঝায় তা এই উদাহরণের মাধ্যমে কিছু বোঝা গেলেও এই সংজ্ঞা কিন্তু ব্যবহারিক দিক থেকেই বেশি বোধগম্য বা কিছুটা প্রতীকী সংজ্ঞা হিসেবে এই উদাহরণকে ধরা যেতে পারে।

সচ্চরিত্র ভার্সাস দুশ্চরিত্র
চরিত্র অর্থে বাংলা ভাষায় সাধারণত ‘সচ্চরিত্র’ বা ’সৎ চরিত্র’ ও ‘ অসচ্চরিত্র’ বা ‘অসৎ চরিত্র’ ’দুশ্চরিত্র’ এই শব্দবন্ধই বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সংজ্ঞাগতভাবে এই দুই বৈশিষ্ট্যকে পৃথক করা খুবই সহজ মনে হলেও কিন্তু বাস্তবে ’সচ্চরিত্র’ বা ’দুশ্চরিত্র’ এই দুই চারিত্র্য বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তি বা ব্যক্তিত্বকে  পৃথক করা অনেক ক্ষেত্রে দুরূহ বলেই বোধ হয়! 
 এবং অনেক ক্ষেত্রে তা নানা বাদানুবাদ ও বিতর্ককে উস্কে দেয়। 
কারোর কাছে একজন খুবই সচ্চরিত্রের ব্যক্তি আবার সেই ব্যক্তিই কিন্তু আরেকজনের কাছে তার বিপরীত চারিত্র্য বৈশিষ্ট্যে র অধিকারী হিসেবে ধরা দেয়াও বিচিত্র নয়! বিশেষ করে পুজির বা অর্থের বা ক্ষমতার আধিপত্যের এই যুগে এই বৈপরীত্য যেন সাধারন ব্যাপার!
কোনো সামাজিক ব্যক্তিত্ব সমাজের চোখে সুদৃঢ চরিত্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হিসেবে হয়তো পরিচিত! কিন্তু হয়তো তিনি তার  ব্যবসাসূত্রে চাকুরিসূত্রে হয়তো একাধারে ঘুষ বাণিজ্যের ধারক বাহক অথবা কারো অর্থকড়ি তছরুপ করার হোতা হিসেবে পরিচিতও হতে পারেন! এভাবে সমাজে ’চরিত্রের’ বৈপরীত্য  যেন স্বাভাবিক ব্যাপার! 
এমন ধরণের উদাহরণ সমাজে অনেক দেখা যায়! 
রবিনহুড। তিনি সমসাময়িক সামন্তীয় শাসকদের চোখে পরিচিত ছিলেন ‘ডাকাত’ হিসেবে। কিন্তু তৎকালীন সাধারণ জনতার কাছে তিনি উদ্ধারকর্তা বা ত্রাণকর্তা হিসেবেই তো পরিচিতি পেয়েছিলেন!

সুতরাং, ব্যক্তি বা মানুষের চরিত্রকে দুইভাগে ভাগ করে সাধারণীকরণ করা সহজ কিন্তু বাস্তবে তার নানা বৈপরীত্যই যেন স্বাভাবিক!

চরিত্রের মান নির্ধারণের নিয়ামক বিষয়
চরিত্রের মান নির্ধারণের নিয়ামক বিষয় হিসেবে আমাদের সমাজে সাধারণত ‘সৎভাবে চলা’কে বোঝায়! এর মানে বোঝায় তিনি চুরি করেন না, ঘুষ নেন না, তিনি কাউকে ঠকান না ইত্যাদি। অথবা, বিশেষভাবে ‘তার চরিত্র ঠিক নেই’ বলতে বোঝায় সেই ’পুুরুষ’ বা ‘নারী’অন্য বিপরীত লিংগের সাথে ‘অবৈধ’ মেলামেশা বা সম্পর্ক নেই ।
নীরদ চন্দ্র চৌধুরী তার ‘আত্মঘাতী বাঙালী’ বইয়ে চরিত্র নিয়ে লিখেছেন-
চরিত্র সম্বন্ধে লিখিতে গেলেও শব্দতত্ত্ব আনিতে হইবে।চরিত্র বলিতে ইংরেজী শিক্ষা পাইবার আগে যাহা বুঝিত তাহা আচরণ, যেমন ‘মানব চরিত্র’, ‘স্ত্রী চরিত্র’ ইত্যাদি, সহজ অর্থ ছিল স্বভাব, যে স্বভাব মরিলেও যাইত না। ইংরেজী পড়িবার পর চরিত্র বলিতে বাঙালী যাহা বুঝিতে আরম্ভ করিল তাহা ইংরেজী ‘ক্যারাকটা’র কথাটার বিশিষ্ট অর্থ, নানা অর্থের এক অর্থ।সোজা বাংলা জিতেন্দ্রিয় হইলে যে চরিত্র হয়, সেরূপ চরিত্র। (পৃ-১৫৯)
নীরদ চন্দ্র চৌধুরী তার সমসাময়িককালের এবং বলা যায় বর্তমান কালের ‘চরিত্র’ বিষয়ে যে ধারণা, ইন্দ্রীয় সুখবোধ দ্বারা পরিচালিত না হওয়া, অথবা বলা যায় চারিত্রিক শুদ্ধতা রাখাটাই সচ্চরিত্রের লক্ষণ হিসেবে বোঝানো হয়ে থাকে বলে মত প্রকাশ করেছেন। উপরে উদ্ধৃত পরিচ্ছদের বা প্যারাতে তিনি আরো লিখেছেন-
এই অর্থে ‘চরিত্রবান’ ও ‘চরিত্রহীন’ দুইটি বাক্য বাংলায় ব্যবহৃত হইতে আরম্ভ হইল। তাই ‘চরিত্রহীন’ শব্দের রূঢ় অর্থ হইল লম্পট।

কিন্তু এই নিয়ামক বা পয়েন্টের মাধ্যমেেই কি শুধু চরিত্র নির্ধারণ করা হয়ে থাকে?


চরিত্রের মান কী দিয়ে নির্ধারণ করা যায়?

উপরের নিয়ামক বিষয়সমূহ চরিত্রের মান নির্ধারণে নিয়ামক হিসেবে বলা হলেও ব্যক্তিগতভাবে আমার মতে‘চরিত্র’র মান হিসেবে তার দৃঢতাবোধ-একাগ্রতাবোধ-মানবিকতাবোধ-অকপটতা-কথায় কাজে মিল থাকা-দায়িত্ব কর্তব্যবোধ ইত্যাদি গুণাবলী বা মানকে বিবেচনায় নিয়ে পরিমাপ করা নিতান্ত প্রয়োজনীয়।
শুধুমাত্র ‘সততা’ অথবা বা এবং ‘অবৈধ মেলামেশা’ এই মানদন্ড নিয়ে ‘চরিত্র বিচার’ করলে বোধকরি আমরা গতানুগতিক একই পাকে বা পঙ্কে নিমজ্জিত থাকার সদিচ্ছাই প্রকাশ করবো!


সর্বাধিক পঠিত

ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে বিভ্রান্তিকর শিক্ষাঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসংগ-১৯৪৭ সাল

ইতিহাসের ভ্রান্তি থেকে বিভ্রান্তিকর শিক্ষা তারিখঃ ১৬ আগস্ট, ২০১৭ ইতিহাস একটি জাতি বা জাতিসত্তা তথা জাতিসমষ্টিকে নানাভাবে প্রভাবিত কর...